রাফিউজ্জামান রাফি
২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
সম্প্রতি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি পাল, ফেসবুকে জনপ্রিয় গান ‘শ্রাবণের মেঘে’র সঙ্গে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তারপর থেকেই পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয় নেটিজেনরা। এ সময় বিউটি পালের হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা গানটি ব্যবহার করে নিজেদের প্রোফাইলে ভিডিও পোস্ট করা শুরু করে বিউটি পালের প্রতি সমর্থনের অংশ হিসেবে।
এরপর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় ‘শ্রাবণের মেঘ’। কণ্ঠশিল্পী মেসবা রহমানের কণ্ঠে শোনা গেলেও গানটির মূল গায়ক কানাডা প্রবাসী আলী আহমেদ বাবু। ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথোপকথন হয়েছে তার।
ভিডিওটি দেখিনি। ঘটনাটি শুনলাম। আমি মনে করি একটি জনপ্রিয় গান যে কেউ যেকোনোভাবে করতে পারে। এতে ট্রল করার কিছু নেই। শিক্ষক বলে তার শখ আহ্লাদ নেই, তিনি রিলস বানাতে পারবেন না— এরকম ভাবা উচিত না।
_20250317_163951924_20260729_162858772.jpg)
আমি মনে করি বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ এ তথ্য জানে না। অথচ গানটি অ্যালবামে আমার কণ্ঠে প্রকাশ পায়। এখনও ক্যাসেট সিডিতে যে কণ্ঠ সেটি আমার। শুধু টিভি কিংবা স্টেজ প্রোগ্রামগুলোতে আমার কণ্ঠ নেই। আমি ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ড ছেড়ে আসার পর থেকে মেসবা গাইছেন। এতে কোনো অসুবিধা দেখছি না। কিন্ত মূল গায়ক যে অন্য একজন সেটা সবার জানা উচিত।
ডিফারেন্ট টাচ অ্যালবামটি আমার আর মেসবার সিদ্ধান্তের ফসল। তিনি তখন ব্লুজ ব্যান্ডে ছিলেন। অ্যালবামের চিন্তা থেকে আমরা আলাদা ব্যান্ড করি। সদস্যও জুটে যায়। আমি, মেসবা, পিয়াল এবং মিলন নামে দুই জন ছিলেন। পাঁচজন মিলে গান সংগ্রহ শুরু করি। আশরাফ বাবুর (শ্রাবণের মেঘের গীতিকার ও সুরকার) সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। সে গান লিখত, সুর করত। বাবু নিজের গানগুলো গাওয়াতে খুলনার বিভিন্ন ব্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল। আমি তখন তার কাছে গান চাই। তার ৭০-৮০টির মতো গান ছিল। কয়েকবার বসে গানগুলো শুনে ৭-৮টির একটি শর্ট লিস্ট তৈরি করি। শেষমেশ বাবুর থেকে চারটি গান নিই। সেগুলোর একটি ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’। অন্যগুলো হচ্ছে ‘দৃষ্টি প্রদীপ’, ‘স্বর্ণলতা’, ‘রাজনীতি’।
অ্যালবামের জন্য আমার চারটি, মেসবার ছয়টি আর পিয়ালের দুটি গান ঠিক করা হয়। অ্যালবামের শেষ পর্যায়ে আমি অসুস্থ হলে খুলনা চলে আসি। আমার জন্ডিস ধরা পড়ে। এরপর আর যাওয়া হয়নি। অ্যালবাম করতে উইনিং ব্যান্ড আমাদের সাহায্য করেছিল। ‘দৃষ্টি প্রদীপ’ গানটি তাদের পছন্দ হয়েছিল। তারা বলছিলেন, তোমাদের বেস্ট গান ‘দৃষ্টি প্রদীপ’। গানটিতে আমি কণ্ঠ দিয়েছিলাম। কিন্তু অসুস্থ হয়ে চলে আসার পর মেসবা ‘দৃষ্টি প্রদীপ’-এ আবার কণ্ঠ দেন। আমাকে না জানিয়েই কাজটি করা হয়। এ কারণে অ্যালবাম প্রকাশের পর আমাকে সৌজন্য কপিও দেয়নি।
হ্যাঁ। অ্যালবামটি বাজারে আসার পর ‘শ্রাবণের মেঘ’ দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। সেখানে গানটি আমার কণ্ঠে ছিল। এটি বাজারে আসে ইলেক্টো ভয়েস থেকে। পরে শুনেছি গানটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর সেখানে গিয়ে আমার কণ্ঠ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইলেক্টো ভয়েস কর্তৃপক্ষ রাজি হয়নি। কেননা গানটি আমার কণ্ঠে শ্রোতারা গ্রহণ করেছিলেন। তাই সেটি ফেলে অন্য কণ্ঠে গানটি স্থানান্তরের ঝুঁকি নিতে চায়নি।

অসুস্থ হওয়ার পর ব্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। একসময় আমাকে ছাড়াই তারা শো শুরু করে। আমি আর বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করতে চাইনি। তাই বেরিয়ে আসি। অরবিট নামে নতুন ব্যান্ড গঠন করি।
গানটির মূল গায়ক কে— বেশিরভাগ মানুষ জানেই না। এত বছর পরে এসে আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। তবে সত্যিটা সামনে আসা উচিত। যদিও সংগীতের অনেকেই এ তথ্য জানেন। শ্রোতাদের এবং এ প্রজন্মেরও জানা উচিত। গানটির মূল গায়ক যে অন্য কেউ সেটি যিনি গাইছেন তারও বলা উচিত বলে মনে করি।
আরআর