বিনোদন ডেস্ক
০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ফুটবল বিশ্বকাপ আসলেই বিশ্বজুড়ে এক মহোৎসব শুর হয়। এই উৎসবের আমেজ থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। নিজেদের দেশ বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কিংবা পর্তুগাল-জার্মানির মতো দলগুলোর প্রতি বাঙালিদের উন্মাদনা ও ভালোবাসা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে বারবার। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগকে ফিফা কর্তৃপক্ষও যে বেশ ভালোভাবে মূল্যায়ন করে তার প্রমাণ মিলল আবারও। এবার ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি জায়গা করে নিয়েছে জনপ্রিয় একটি গানের লাইন।
ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার কাসেমিরোর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবে ফিফা তাদের অফিশিয়াল পেজে ব্যবহার করেছে—‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে’ লাইনটি। মঙ্গলবার বিকেলে পোস্টটি করা হয়।
জনপ্রিয় এ গানের রচয়িতা গীতিকার আসিফ ইকবাল। ‘ক্লোজআপ ওয়ান : তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার থিম সং হিসেবে তিনি গানটি লিখেছিলেন। নকীব খানের সুর করা গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু, পার্থ বড়ুয়া, কনকচাঁপা, বাপ্পা মজুমদার ও দিনাত জাহান মুন্নীসহ বেশ কয়েকজন তারকা শিল্পী। সময়ের পরিক্রমায় গানটি দেশের মানুষের কাছে অন্যতম বড় এক অনুপ্রেরণার গান হয়ে ওঠে।
বিশ্বফুটবলের এত বড় মঞ্চে নিজের সৃষ্টির এমন স্বীকৃতি দেখে উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেননি গীতিকার আসিফ ইকবাল। এক ফেসবুক বার্তায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘গানটা লিখেছিলাম শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগানোর জন্য। সে গান ধীরে ধীরে গানের মানুষ ছাপিয়ে হয়ে উঠতে থাকল বাংলাদেশের মানুষের গান। অথচ আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, এ গান কেউ শুনবে, কেউ গুনগুন করবে, হয়তো কারো কঠিন একটা দিনে একটু সাহস জোগাবে। এটুকুই চাওয়া ছিল। যে লাইন গান হলো, তা এতদিন মানুষের মুখে মুখে ঘুরলো। তারপর একদিন মহান জাতীয় সংসদে এ গানের লাইন উদ্ধৃত হলো। দেশের বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্তে মানুষ এ গান গাইতে শুরু করলো। খেলার মাঠে, সভামঞ্চে, সংকটের দিনে, জয়ের দিনে। তারপর আমি সে লাইনটাকেই বইয়ের নাম বানালাম। ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট’-বিশ্বের প্রথম মানসিক দক্ষতার বই! কারণ গানে যা লিখি, জীবনেও তাই বিশ্বাস করি। বই পৌঁছে গেলো রকমারি বেস্ট সেলার হয়ে নবম এডিশনে।’
পুরো বিষয়টিকে সৃষ্টিকর্তার এক অসাধারণ পরিকল্পনা উল্লেখ করে আসিফ ইকবাল আরও বলেন, ‘আজ সেই একই লাইন ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল পেজে। আমার প্রিয় খেলোয়াড় কাসেমিরোর ছবিসহ ব্রাজিলের ফিরে আসার গান হিসেবে। বাংলায়। কোনো অনুবাদ ছাড়া। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে! একটু ভাবুন। একটা লাইন। গান থেকে সংসদে। সংসদ থেকে বইয়ের নামে। বই থেকে ফিফার পেজে। প্রতিটা ধাপে আমি শুধু দিয়ে গেছি। কোনোদিন ভাবিনি কোথায় কী পৌঁছাবে। আবেগের ভাষার কোনো অনুবাদ লাগে না। আর যেটা হৃদয় থেকে লেখা, সেটার যাত্রা কেউ থামাতে পারে না।’
সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘এই অর্জন আমার না। এ অর্জন বাংলাদেশের। বাংলা ভাষার। চট্টগ্রামের একটা ছেলে একদিন একটা লাইন লিখেছিল। সে লাইন আজ বিশ্বমঞ্চে। কারণ ছোট দেশের ছোট মানুষের কথাও একদিন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মঞ্চে পৌঁছায়। শুধু লক্ষ্য থাকতে হয় অটুট।’