বিনোদন ডেস্ক
১৯ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আমাদের সমাজ জীবনকে একটা নির্দিষ্ট ছকে বাঁধতে পছন্দ করে। পড়াশোনা শেষে চাকরি, তারপর বিয়ে এবং সবশেষে সন্তান— এই চেনা বৃত্তের বাইরে গেলেই চারপাশ থেকে বাঁকা চোখ আর ফিসফাস শুরু হয়ে যায়। কিন্তু জীবন তো সবার জন্য এক নিয়মে চলে না। সেই চেনা সামাজিক ব্যাকরণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ষাট বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন ভারতের জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুহাসিনী মুলে। যে বয়সে মানুষ অবসরের দিন গোনে, সেই বয়সে তিনি জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিলেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ষাট বছর বয়সে বিয়ে নিয়ে মুখ খুলেছেন সুহাসিনী। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার মাথায় চলত, বিয়ে করলে কী আর এমন হবে! হয়তো দেখব, একসঙ্গে থাকতে পারছি না। তখন যে যার নিজের রাস্তা বেছে নেব। ডিভোর্স দিয়ে দেব।’
সংসার করলেও মাতৃত্বের স্বাদ নেওয়ার আকাক্ষা কখনোই তাড়া করেনি এই অভিনেত্রীকে। তিনি মনে করেন, সন্তান আসার পর একজন নারীর ক্যারিয়ারে মনোযোগ থাকে না। নিজের ক্যারিয়ারের ক্ষতি হতে দিতে চাননি বলেই মা না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সুহাসিনীর ভাষ্য, ‘বিচ্ছেদ হয়ে গেলে স্বামী থেকে নিস্তার পাওয়া যায়। কিন্তু সন্তানের থেকে নিস্তার পাওয়া সহজ নয়।’ যাঁরা স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসার করছেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি জানান, বিয়ের সিদ্ধান্ত যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ।

চলচ্চিত্রের আঙিনায় সুহাসিনী মুলের পথচলা শুরু হয়েছিল কিংবদন্তি নির্মাতা মৃণাল সেনের ‘ভুবন সোম’ ছবির মাধ্যমে। অভিনয়ের পাশাপাশি সত্যজিৎ রায় ও মৃণাল সেনের মতো বিশ্ববরেণ্য পরিচালকদের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। কাজের মাঝে পড়াশোনার জন্য দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকায় বড় পর্দা থেকে দূরে ছিলেন। বিদেশ থেকে ফিরে ১৯৯৯ সালে ‘হু তু তু’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। পরবর্তীতে আমির খানের ‘লগান’, ‘দিল চাহতা হ্যায়’,‘যোধা আকবর’-এর মতো সিনেমাতে অভিনয় করেন।
ইএইচ/