images

বিনোদন

সালমান শাহর লাশ উত্তোলন নিয়ে যা বললেন তার মা 

বিনোদন ডেস্ক

১১ জুন ২০২৬, ০২:২২ পিএম

মৃত্যুর ৩০ বছর পর জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিনেতার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে আদালতের এ নির্দেশে সন্তুষ্ট নন সালমানের মা মা নীলা চৌধুরী। এক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আদালতের এ নির্দেশকে প্রহসন বলে অভিহিত করেছেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়বার যে ময়না তদন্ত করা হলো সেখানে লেখা আছে, ডাক্তার, পাবলিক, পুলিশ, সাংবাদিকরা দেখেছেন লাশ ঠিক ছিল। এখানে বলা হয়েছে বডি ওয়াজ ডিকম্পোজড। এখান থেকেই তো বোঝা যায় এটা হত্যা। এখন আবার প্রহসন কেন? এসবের কোনো মানে হয় না।’

এরপর বলেন, ‘পুলিশ কিছু করল না। না পেরে সিআইডিকে দিল। আমরা সিআইডির ওপর আশাবাদী। দেখি কী করে তারা। বিভিন্ন রকম জটিলতায় দুইবার লাশ উত্তোলন করা হলো। দুইবারই ঠিক ছিল। দ্বিতীয়বার পরিষ্কার ছিল। নয়দিন পরে। চিকিৎসক ও তাদের ছাত্র-ছাত্রীরা দেখেছে। এখনও জীবিত তারা। দুইজন ডাক্তার মারা গেলেন। মৃত্যুর সময় ডাক্তার মইনুল ইসলাম আমাকে বলে গেছেন, আমাকে মাফ করে দিয়েন আমি বাধ্য ছিলাম। তারা জোর করে দিয়েছে। না দিলে মেরে ফেলবে। এরপর মহিলা ডাক্তারের নাকি মেয়েকে ফেলবে। এজন্য তারা বলতে হয়েছেন। এসব তো প্রহসন। আবার প্রহসন কেন? আঠারো কোটি মানুষ মেনে নেবে না।’

সালমানমাতা আরও বলেন, ‘দেখা যাক। আমাকে আগে চিঠি দিক। চিঠির উত্তরে জবাবটা দেব। আমি তো আইনের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারি না। তাদের প্রসেস তারা করছে করুক। আমি আমার প্রসেস অনুযায়ী করব। আদালতের রায় এসেছে এটা হত্যাকাণ্ড। কীভাবে কীভাবে খত্যা করা হয়েছে সেটাও বলে দিয়েছেন। আসামিদের কীভাবে গ্রেফতার করা হবে আদালত সেটাও বলে দিয়েছেন। এখন বাকি আছে আসামিদের গ্রেফতার করে শাস্তি কার্যকর করা।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত গত ২৪ মে সালমানের মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত আসে বলে জানা গেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সালমান শাহ নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয় এবং সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।

গেল বছরের ২১ অক্টোবর মধ্যরাতে রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা করেন তার মামা আলমগীর কুমকুম। এর আগের দিন ২০ অক্টোবর দুপুরে প্রয়াত এই নায়ককে কি আত্মহত্যা করেছিলেন নাকিতাঁকে হত্যা করা হয়েছিল তা জানতে সালমান হত্যা মামলা পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। 

আলমগীর কুমকুম তার মামলায় প্রথম আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করেন সালমানের প্রাক্তন স্ত্রী সামিরা হককে। অন্যান্য আসামিরা হলেন ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন। সালমান শাহকে হত্যা মামলায় তার প্রাক্তন স্ত্রীসহ মোট ১১ জনের নাম রয়েছে। 

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ তদন্তযাত্রা, যা প্রায় তিন দশক ধরে অপমৃত্যু মামলা হিসেবেই চলতে থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে মত দেয়। 

আরআর