বিনোদন ডেস্ক
১১ জুন ২০২৬, ১১:৩০ এএম
বিশ্ব চলচ্চিত্রের বহুল সমাদৃত এক নাম স্টিভেন স্পিলবার্গ। যার সিনেমা দেখতে মুখিয়ে থাকেন সিনেমাপ্রেমীরা। সিনেমা নির্মাণে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় উৎসর্গ করে এই আমেরিকান পরিচালক গড়ে তুলেছেন এক বিশাল চলচ্চিত্র সাম্রাজ্য। তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলো থেকে মোট বক্স অফিস আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা এখনও একটি অপরাজেয় রেকর্ড। তিনবার ঘরে তুলেছেন অস্কার।
বড় খবর হলো, এবার পর্দায় আসছে স্টিভেন স্পিলবার্গের নতুন সিনেমা ‘ডিসক্লোজার ডে’। বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে ১২ জুন। বাংলাদেশের দর্শকরাও পিছিয়ে থাকবেন না। একই দিনে বা স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পাবে কাঙ্খিত এই সিনেমা।
দীর্ঘদিন স্পিলবার্গ তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল গল্প বলেছেন। দ্য ফ্যাবেলম্যানস- নিজের বেড়ে ওঠার গল্প বলেছেন। ‘ওয়েস্ট সাইড স্টোরি’তে ক্ল্যাসিক মিউজিককে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। এবার ফিরে এসেছেন পরিচিত ময়দানে, যেখানে রহস্য, প্রযুক্তি, বিস্ময় আর অজানার আকর্ষণ একসঙ্গে কাজ করে। ‘ডিসক্লোজার ডে’র কাহিনী পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।
জানা গেছে, এটি ভিনগ্রহের প্রাণী, তাদের পৃথিবীতে আগমন এবং সেই সত্যকে আড়াল করার এক বিশাল সরকারি ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত। এ ধরনের কাহিনী স্পিলবার্গের জন্য নতুন না; বরং তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের অন্যতম শক্তিশালী অধ্যায়ই গড়ে উঠেছে এই ধারার ওপর।
‘ই.টি. দ্য এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল’, ‘ক্লোজ এনকাউন্টারস অব থার্ড কাইন্ড’ বা ‘ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডস’-এ তিনি অজানা জগৎকে মানুষের আবেগের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এ ছবিতে এমিলি ব্লান্ট অভিনয় করেছেন এক আবহাওয়া সংবাদকর্মীর ভূমিকায়, যাঁর সঙ্গে ভিনগ্রহের আগন্তুকদের রহস্যময় যোগাযোগ রয়েছে। জশ ও’কনরকে দেখা যাবে এমন এক চরিত্রে, যিনি প্রমাণ হাতে পেয়েছেন যে মানুষের সঙ্গে অন্য জগতের যোগাযোগ ইতোমধ্যে ঘটেছে।
সিনেমার উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে মুগ্ধ হয়েছেন চলচ্চিত্র সাংবাদিকরা। অনেকেই এটিকে ‘গত ২০ বছরে স্পিলবার্গের সেরা সিনেমা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তারা জানান, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, রহস্য ও প্রেমের এ টান টান মিশ্রণটি স্পিলবার্গের চিরচেনা জাদুতে ভরপুর এ সিনেমা। পাশাপাশি মূল তারকা এমিলি ব্লান্ট তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় উপহার দিয়েছেন বলে প্রশংসা পেয়েছেন।
স্পিলবার্গ মনে করেন, এই সিনেমাটি দর্শকদের মনে মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুন অনেক প্রশ্নের জন্ম দিবে। ছোটবেলা থেকেই মহাকাশ নিয়ে কৌতূহলী স্পিলবার্গের কথায়, ‘আমি বিশ্বাস করি এই মুভিটি যেমন অনেক উত্তর দেবে, তেমনি মানুষকে অনেক অজানাকে নিয়ে প্রশ্ন করতেও বাধ্য করবে।’ সবমিলিয়ে সিনেমাটি নিয়ে সকলের প্রত্যাশা রীতিমত আকাশচুম্বী। এখন শুধু দেখার অপেক্ষা- এই প্রত্যাশা কতখানি ছাড়িয়ে যায়।
আরআর