images

বিনোদন

‘পাখি-বন্ধু’ পুরস্কার পেলেন রুটস সিনেমা হলের কর্ণধার সামিনা ইসলাম

বিনোদন ডেস্ক

০২ জুন ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

বিশ্ব প্যারট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশীয় পাখি ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩য় পাখি-বন্ধু পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করা হয়েছে সিরাজগঞ্জের রুটস সিনেক্লাবের চেয়ারপার্সন সামিনা ইসলামকে।

বাংলাদেশের প্যারট ও প্যারাকিটপ্রেমীদের জাতীয় সংগঠন Association of Parrot and Parakeet Stockbreeders, Bangladesh (APPS) এবং দেশের স্বনামধন্য পোষা প্রাণীর খাদ্য, পরিপূরক খাদ্য ও এক্সেসরিজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Fur & Feather Bangladesh Ltd. যৌথভাবে বিশ্ব প্যারট দিবসে এ ঘোষণা প্রদান করে।

সামিনা ইসলাম তাঁর প্রতিষ্ঠানে প্রজননরত চড়ুই পাখিদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায় বিরল সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন। পাখি ও প্রকৃতির প্রতি তাঁর এই মানবিক ও সংরক্ষণবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে এ বছরের পাখি-বন্ধু পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে।

বাংলাদেশের দেশীয় প্যারট-প্যারাকিটসহ অন্যান্য বন্য পাখি এবং তাদের আবাসস্থল বন-জঙ্গল রক্ষায় অভাবনীয় অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করার লক্ষ্যে এপিপিএস ‘পাখি-বন্ধু’ পদক প্রবর্তন করে। পুরস্কারের অংশ হিসেবে সম্মাননা স্মারকের পাশাপাশি এককালীন ১০,০০০ টাকা নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। অন্যদেরও পাখি ও প্রকৃতি সংরক্ষণের মতো মহৎ কাজে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রসঙ্গত, পাখি ও প্রকৃতি সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রবর্তিত ‘পাখি-বন্ধু’ পদকে এর আগে বনায়ন, পাখির প্রজনন ও সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রথম পাখি-বন্ধু হিসেবে শ্রী আকাশ কলি দাস এবং দ্বিতীয় পাখি-বন্ধু হিসেবে সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস সম্মানিত হন। তাঁদের ধারাবাহিকতায় এ বছর তৃতীয় পাখি-বন্ধু হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সামিনা ইসলাম।

এপিপিএস এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা: এম এ মান্নান জানান, বিশ্ব প্যারট দিবস শুধু প্যারট-প্যারাকিট উদযাপনের দিন নয়; এটি পাখি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের দেশীয় প্যারট-প্যারাকিট প্রজাতি এবং অন্যান্য বন্য পাখির সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল পাখি পালন এবং আবাসস্থল রক্ষার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, Fur and Feather Bangladesh Ltd.-এর চেয়ারম্যান জনাব খায়রুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, “আমরা এপিপিএস-এর এই অসাধারণ ব্যতিক্রমধর্মী মহৎ কাজের একটি অংশ হতে পেরে মহা আনন্দিত এবং যারপরনাই গর্বিত।”

এপিপিএস এবং ফার এন্ড ফেদার বাংলাদেশ লিমিটেড মনে করে, পাখি ও প্রকৃতি সংরক্ষণে অসাধারণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যথাযথ স্বীকৃতি শুধু তাঁদের সম্মানিতই করে না, বরং সমাজের অন্যদের কাছেও ইতিবাচক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ‘পাখি-বন্ধু’ পুরস্কারের মতো উদ্যোগ দেশের সর্বস্তরে পাখি, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণে আরও বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করবে এবং প্রকৃতিবান্ধব একটি সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।