images

বিনোদন

‘মালিক’ সিনেমা নিয়ে পরিচালক-চিত্রনাট্যকারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ 

বিনোদন প্রতিবেদক

২৪ মে ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম

ঈদে মুক্তির মিছিলে যোগ দিয়েই অভিযোগের বাণে বিদ্ধ আরিফিন শুভ অভিনীত সিনেমা ‘মালিক’। গতকাল শনিবার চিত্রনাট্যকার সিদ্দিক আহমেদ সামাজিক মাধ্যমে একাধিক অভিযোগ আনেন। 

এক ফেসবুক পোস্টে পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগ এনে সিদ্দিক লেখেন, ‘‘একজন বিশেষ মানুষের অনুরোধে আমি ‘মালিক’ সিনেমাটি লিখতে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু সিনেমা নিয়ে শুরু থেকেই আমার সাথে পরিচালকের মতের অমিল হচ্ছিল। আমি সিনেমাটি ছেড়েও দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত আমি স্ক্রিপ্ট শেষ করি এবং ইন্ডাস্ট্রির রীতি অনুযায়ী আমি বকেয়া পাওনা পাইনি। আমি দাবিও করিনি। কিন্তু যেদিন জানলাম আমার স্ক্রিপ্টে অন্য কেউ হাত দিয়েছে সেদিনই আমি জানিয়েছিলাম আমার টাকা দেওয়া লাগবে না কিন্তু আমার নাম যেন ব্যবহার করা না হয়। কিন্তু ট্রেলার রিলিজের পর দেখলাম আমার নামের বানান ভুল করে নাম ব্যবহার করা হয়েছে। পোস্টার রিলিজের দিনও আমি বলেছিলাম আমার নাম যেন ব্যবহার করা না হয়। যেহেতু আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে সেহেতু আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নেব এবং আমার হাতে উপযুক্ত প্রমাণ আছে।’’

705211902_2644444499290144_5880212633254872746_n

তবে সিদ্দিক আহমেদের অভিযোগ উড়িয়ে দেন ছবির পরিচালক সাইফ চন্দন। সেইসঙ্গে জানান, সময়মতো স্ক্রিপ্ট দিতে পারেননি সিদ্দিক। তাই অন্যের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সিনেমা মুক্তির আগে এরকম অভিযোগকে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেন নির্মাতা। 

ঢাকা মেইলকে সাইফ চন্দন বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক ধরনের রাজনীতি হয়। ছবি নষ্ট করতে নানান ষড়যন্ত্র চলে। আমি মনে করি এটাও সেরকম। ছবিটি ধ্বংস করতে ওনাকে (সিদ্দিক আহমেদ) নিশ্চয়ই কেউ ইন্ধন দিচ্ছে। এগুলো নতুন না। তাই গায়ে মাখতে চাই না।’

পরিচালকের কথায়, ‘তিনি (সিদ্দিক আহমেদ) সময়মতো স্ক্রিপ্ট দিতে পারেননি। টাকা দেওয়ার পরও সময়মতো কাজ করেননি। খোঁজ নিলেই বলতেন ভাবছি। এদিকে সময় ঘনিয়ে আসছিল। শুটিংয়ের ২০ দিন আগে তাকে লাইন আপ দিই। তবুও যদি না হয় আমি কী করব। আমাকে তো কাজ চালাতে হবে। নাকি তার স্ক্রিপ্টের জন্য বসে থাকব?’ প্রশ্ন রাখেন চন্দন। সেইসঙ্গে বলেন, ‘তিনি সময়মতো স্ক্রিপ্ট না দেওয়ায় অন্যের দ্বারস্থ হই।’

saif

চিত্রনাট্যকারের আনীত অভিযোগ নিয়ে ক্ষুব্ধ সাইফ চন্দনের বক্তব্য, ‘যেহেতু আব্দুল্লাহ জহির বাবু এবং আমি স্ক্রিপ্টে হাত দিয়েছি; ওনার মনে হতে পারে এসব ঠিক না। ওনার জায়গা থেকে অনেক কিছুই বলতে পারেন। কিন্তু তাকে আড়াই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। সে যদি চার মাসেও একটা স্ক্রিপ্ট না দিতে পারে তাহলে আরও ৫-৭ লাখ টাকা দিতে হবে! টাকা আয় করা এত সহজ!’ 

সিনেমার স্বার্থে স্ক্রিপ্টে হাত দেওয়ার অধিকার পরিচালকের আছে উল্লেখ করে মালিকের নির্মাতা বলেন, ‘প্রথমত তিনি (সিদ্দিক আহমেদ) সময়মতো স্ক্রিপ্ট দিতে পারেনি। দ্বিতীয়ত পরিচালক চাইলে স্ক্রিপ্টে হাত দিতে পারে। কেননা গল্প পর্দায় তুলে ধরার দায়িত্ব তার। সিনেমার স্বার্থে সেটাই করেছি।’ 

তবে চিত্রনাট্যকার সিদ্দিক জানালেন অন্য কথা। তিনি বলেন, ‘কাজটি নেওয়ার এক মাস পর আমি সাইফ চন্দনকে প্রথম ড্রাফট দিই। সেটি দেখে উনি জানান, অনেক বড় বাজেটের সিনেমা হয়ে গেছে। ছোট বাজেটের আরেকটি ড্রাফট লিখতে হবে। কিন্তু লাইন আপ দেখানোর সময়ও জানিয়েছিলেন, যেটা লিখছি ঠিক আছে। পরে আরও একটি ড্রাফট লিখতে বললে আমি সিনেমাটি ছেড়ে দিতে চাই। আরিফিন শুভকে বলি, সিনেমাটা ছেড়ে দেব। তখন শুভ ভাই বলেন শুটিংয়ের বেশিদিন বাকি নেই। তুই সিনেমাটা ছাড়িস না। আরেকটা ড্রাফট কর। আমি শুভ ভাইয়ের জন্যই এই সিনেমায় যুক্ত হয়েছিলাম। শুধু তাই না, ওনার কারণে আমার নির্ধারিত সম্মানীর চেয়ে কমে কাজটি নেই। তাই কাজটি করতে থাকি।’

siddik

সিদ্দিকের কথায়, ‘শুরু থেকে বুঝতে পারছিলাম সাইফ চন্দন ছবিটি থেকে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। সেজন্যই ছবিটা ছোট করতে চাইছিলেন। এজন্য শুভ ভাইয়ের সঙ্গেও আমার সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। কেননা উনি ভেবেছেন আমি কাজে ফাঁকি দিয়েছি। কেননা শুরু থেকে ওনার সঙ্গে আমার কথা অনুযায়ী ছবিটি বড় বাজেটের হওয়ার কথা ছিল। শুভ ভাইকে সাইফ চন্দন একরকম বলেছেন। আমাকে আরেকরকম বলেছেন। যাইহোক আমি পরে ফাইনাল ড্রাফট জমা দিই। সেটা নিয়েই শুটে যাওয়ার কথা। তখন কোথাও সংশোধনের কথাও বলেনি। পরিচালক কোনো ফিডব্যাক দেননি। আমার লেখা স্ক্রিপ্টে শুটিং করতে পারছে না কিংবা আমি দেরি করে ফেলছি সেরকম কিছুও জানায়নি। তাহলে কেন অন্য একজন আমার স্ক্রিপ্টে হাত দেবেন। সেক্ষেত্রে কি আমার অনুমতির প্রয়োজন ছিল না?’ প্রশ্ন রাখেন সিদ্দিক আহমেদ।

এরইমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে ‘মালিকে’র ট্রেলার। চিত্রনাট্যকার দেখেছেন। বললেন, ‘ট্রেলার দেখেছি। সেখানে কোনো বদল পাইনি। আমি যা লিখছি তাই আছে। ডায়লগ হুবহু আমারটাই। তাহলে আমার প্রশ্ন আরেজনকে কি দিয়ে লেখানো হলো। কেননা শুটিংয়ের সময় শুনেছি স্ক্রিপ্টটা আব্দুল্লাহ জহির বাবুকে দিয়ে লেখানো হয়েছে। আমি তো মনে করি আমার অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল।’  

‘মালিক’ সিনেমায় শুভর বিপরীতে আছেন বিদ্যা সিনহা মিম। ছবিটির মাধ্যমে দীর্ঘ সাত বছর পর জুটি বাঁধলেন তারা। এর আগে ২০১৯ সালে ‘সাপলুডু’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল তাদের। 

আরআর