জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৭ মে ২০২৬, ১০:৪১ এএম
চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভারতে মৃত্যুবরণ করা অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মরদেহ ভারত থেকে দেশে আনার দায়িত্ব নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বেসরকারি বিমান সংস্থাটি বিনা খরচে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
কারিনা কায়সারের পারিবারিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তার পরিবার জানায়, গতকাল অন্য একটি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে মরদেহ আনার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বিনা খরচে মরদেহ বহনের দায়িত্ব নেয়। ফ্লাইটটি রোববার বিকেলে চেন্নাই থেকে কারিনার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
দেশে আনার পর প্রথমে মরদেহ নেওয়া হবে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসের বাসায়। পরে বনানী ডিওএইচএস মসজিদে জানাজা হবে।
কারিনার বাবা কায়সার হামিদ জানান, সোমবার মরদেহ নেওয়া হবে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় তার নানার বাড়িতে। সেখানেই দাফন করা হবে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে।
লিভারজনিত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে কারিনাকে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। শুক্রবার গভীর রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় তার।
কারিনার বাবা কায়সার হামিদ জানান, হঠাৎ করেই তার রক্তচাপ কমে যায় এবং চিকিৎসকদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও তা আর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
এর আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে এক সপ্তাহের বেশি সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন কারিনা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়া হয়।
চেন্নাই থেকে কারিনার মা লোপা কায়সার জানিয়েছিলেন, লিভার প্রতিস্থাপন বা বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের ধকল নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় ছিলেন না কারিনা।
চিকিৎসকদের বরাতে তিনি বলেন, কারিনার ফুসফুসে তরল ও কফ জমে সংক্রমণ তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসকেরা তাকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
‘এ’ লেভেল শেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার আগে-এর ইংরেজি বিভাগে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেছিলেন কারিনা। দেশে ফিরে তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পান। পরে অভিনয় ও চিত্রনাট্য রচনাতেও যুক্ত হন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
এমআর