রাফিউজ্জামান রাফি
২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
চা বাগানের সৌন্দর্যের পরতে পরতে চা শ্রমিকদের সংগ্রামের গল্প। যেন সহজের ডালে লতানো বেরসিক কঠিন। সেই কঠিনেরে নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত সহজে দেখিয়েছেন ‘চা গরমে’। দর্শকের মন ভরিয়েছে ওয়েব সিনেমাটি। সেই সূত্র ধরে ঢাকা মেইলের সঙ্গে ফোনালাপ জমেছিল শঙ্খর।
নির্মাণের জন্য চা শ্রমিকদের গল্প কেন বেছে নিলেন?
প্রজেক্টটা আমার কাছে আসে প্রযোজনা সংস্থা চরকির মাধ্যমে। বেশ কয়েকটি টপিক দিয়েছিল তারা। সেখান থেকে এটা বেছে নিই। আমি ও আমার লেখকসহ ওখানে আমাদের যারা ছিলেন সবাই মিলে গবেষণা করে গল্পটা দাঁড় করাই। সিদ্ধান্ত নেই এভাবে বলার। আমরা চাচ্ছিলাম কনটেন্টটা এমনভাবে করতে যেন কঠিন গল্পও সহজে বিনোদনের মাধ্যমে বলা যায়।

‘চা গরমে’র মাধ্যমে মূলত কী দেখাতে চেয়েছেন?
আমরা সবসময় চা বাগানকে একরকমভাবে দেখে আসি। এটি আমাদের দেশের এক ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড বিউটিফুল ইউনিট হিসেবে কাজ করে। আমি ওই চা বাগানের ভেতর ঢুকতে চেয়েছি। বাগানের মানুষের জীবন-যাপন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ, প্রতিবন্ধকতা, সংগ্রামের জায়গাগুলো দেখানোর চেষ্টা করেছি। সেগুলোর প্রয়োজনে বিভিন্ন চরিত্রের আবির্ভাব ঘটেছে।
চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার খুঁটিনাটি তুলে আনতে চ্যালেঞ্জ কেমন ছিল?
আমাদের তিন মাসের মতো সময় লেগেছে। আমি খুবই ভাগ্যবান যে এই সময়টায় গোড়া থেকে ফিল্ড ওয়ার্ক কিংবা শুটিংয়ে সেভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়নি। ওখানকার কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষজনের যথেষ্ট সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে। সেজন্য কৃতজ্ঞ।

দর্শক মুগ্ধ ‘চা গরম’ দেখে। এটা প্রত্যাশা করেছিলেন?
শুরু থেকেই আমি এবং আমার টিম চেয়েছি সব মিলিয়ে যেন এমন কিছু করতে পারি যা দর্শকদের সহজে যুক্ত করতে পারে। কঠিনভাবে বানাতে চাইনি। বরং কঠিন ইস্যুকে সহজভাবে দেখাতে চেয়েছি। যেন দর্শক বিনোদিতও হন পাশাপাশি যা বলতে চেয়েছি সেটাও তাদের বোধগম্য হয়। ওই জায়গা থেকে একটা প্রত্যাশা ছিল।
আইরিন-মিঠু চরিত্রে সাফা কবির ও পার্থ শেখকে কেন উপযুক্ত মনে হলো?
সাফা-পার্থর চরিত্র দুটি খুবই সংবেদনশীল ও দায়িত্ববান। চা বাগান সম্পর্কে খুব বেশি জানে না। তারপরও আস্তে আস্তে সেখানকার মানুষজনের চ্যালেঞ্জগুলো নিজেদের চ্যালেঞ্জ বানিয়ে নেয়। পার্থ এবং সাফা ব্যক্তিজীবনেও এরকম। বিভিন্ন সময় ওদের সঙ্গে ওঠাবসা হয়। ওদের অবজার্ভ করি। তাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত ফ্রেশনেস আছে। ভালো কাজও করছে। আইরিন ও মিঠু ক্যারেক্টার দুটির যে রসায়ন-ঘনিষ্ঠতা সেজন্য তাদের উপযুক্ত মনে হয়েছে।

রবিন চরিত্রটি প্রশংসা পাচ্ছে। চরিত্রটির প্রতি কি আলাদা যত্ন ছিল?
আলাদা কোনো যত্ন নেওয়া হয়নি। গল্পের প্রয়োজনে যেভাবে দরকার সেভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। চা বাগানের মানুষের দর্শন রবিনের মাধ্যমে বের করে আনার চেষ্টা করেছি। তবে চরিত্রটি যেহেতু স্থানীয় সেহেতু ওর ভাষা আমাদের কাছে নতুন লেগেছে। সেজন্য হয়তো আলাদা কিছু মনে হয়েছে।
চা শ্রমিকদের সংগ্রাম, প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ জীবনযাত্রা দেখে ব্যক্তি শঙ্খ দাসের উপলব্ধি কী?
আমার অনুভূতিটাই প্রকাশ করেছি ‘চা গরমে’। ছবিটা দেখার পর আপনার যে উপলব্ধি হচ্ছে ওটাই আমার উপলব্ধি। আমার সম্পূর্ণ অনুভূতি এই গল্পে বলার চেষ্টা করেছি। ২০২৬ সালে এসেও তারা(চা শ্রমিকরা) কোন পরিস্থিতিতে আছে, তাদের জন্য আমাদের কী কী করা উচিত কিংবা তারা আমাদের জন্য কী কী করছেন— পুরো বিষয়টাই আমার উপলব্ধির জায়গা।

পরবর্তী ব্যস্ততা কী নিয়ে?
এখনও বলার মতো কিছু হয়নি। বড়পর্দার জন্য স্ক্রিপ্টের কাজ চলছে। সময় হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব।
আরআর