বিনোদন প্রতিবেদক
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু আলোচনার মধ্যে ‘চা গরম’ এখন একটি আলোচনা। শঙ্খ দাশগুপ্ত পরিচালিত চরকি অরিজিনাল ফিল্মটি ১৪ এপ্রিল মুক্তির পর থেকেই ভাসছে প্রশংসায়।
ফেসবুকে চলচ্চিত্র বিষয়ক বিভিন্ন গ্রুপে ফিল্মটির নানা দিক নিয়ে কথা হচ্ছে। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে বেশি রিভিউ পাওয়া যাচ্ছে ‘চা গরম’ নিয়ে। দর্শকদের মতে, ব্যস্ত জীবনে মানসিকভাবে প্রশান্তি দেওয়ার মতো একটি কাজ এটি। অনেক দর্শক ফিল্মটিকে দেখছেন অনুপ্রেরণা হিসেবে।
রায়হান এইচ. সালমান ‘চা গরম’ দেখে লিখেছেন, ‘গল্প আর অভিনয়—দুটোই ছিল এক কথায় দুর্দান্ত।’ বাঁধন হাজং লিখেছেন, ‘এতো সিরিয়াস স্টোরির মধ্যেও এতো এতো কমেডি, খুব ভালো লাগলো। এই যে প্রান্তিক মানুষ দের গল্প অজনায় রয়ে যায়।’ মহুয়া আক্তার লিখেছেন, ‘চা গরম দেখলাম—সত্যিই দারুণ একটা কাজ।’ ফাতেমা আক্তার ‘চা গরম’–কে দিয়েছেন ১০ এ দিয়েছেন ৮.৫ রেটিং।

‘চা গরম’– ফিল্মটিকে চরকির রিসেন্ট টাইমে সবচেয়ে ভালো কনটেন্ট বলছেন মারুফ চৌধুরী, মেহেদী হাসান মুন। ফিল্মটিকে একেবারে ফ্রেশ, ফিল গুড, নিজস্ব একটা গল্প বলছেন আশিকুর রহমান। একই রকম কথা বলেছেন লীলাবতী লিলু। ফ্রেশ ফিলের কোনো কাজ দেখতে চাইলে ‘চা গরম’ দেখতে বলেছেন তিনি। সৈয়দা সাবরিনা সাবাহ, ফাতেমা আক্তার ‘চা গরম’–কে ‘হাইলি রিকমেন্ড’ করেছেন। এমন আরও অসংখ্য ভালো ভালো মন্তব্য লিখছেন দর্শকরা।
চলচ্চিত্র সমালোচক খন্দকার স্বনন শাহরিয়ার ‘চা গরম’–এর রিভিউয়ের শিরোনাম দিয়েছেন, ‘চা-বাগানের তেতো সত্য আর দুধ-চিনি মেশানো মিষ্টি গল্প’। শিরোনামের শব্দ পড়েই বোঝা যায় ফিল্মটি তার কেমন লেগেছে। ‘চা গরম’–কে তিনি দুধ-চিনি মেশানো মিষ্টি গল্প– বলে উল্লেখ করেছেন।
নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত জানালেন, এটাই নির্মাতার আসল পুরস্কার। তিনি দর্শকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ’এ জন্য আরও ভালো লাগছে যে, দর্শকরা তাদের ভালো লাগার কথা লিখছেন এবং অন্যকে দেখার জন্য অনুপ্রাণিত করছেন। এর জন্য দর্শকদের অনেক অনেক ধন্যবাদ।’

বিনোদন বিষয়ক পেজগুলোতেও লেখা চলছে ’চা–গরম’ নিয়ে। বাংলা চলচ্চিত্র গ্রুপে হেলি চাকমা লিখেছেন, ‘লোকেশন, সিনেমাটোগ্রাফি, মিউজিক আর ডিরেকশন সবকিছু মিলিয়ে ভালো একটা ফিল গুড কাজ হয়েছে। ধন্যবাদ ‘চা গরম’ টিমের সবাইকে।’ বিএমআর বলছে, ’পরিচালক শঙ্খ দাশগুপ্ত বেশ এনগেজিং ওয়েতে গল্পটা বলে গেছেন। পুরোটা সময় একটা ফিলগুড ভাইব বজায় ছিল।’
গল্প, নির্মাণের পাশাপাশি দর্শকদের নজর কেড়েছে প্রতিটি চরিত্র। চরিত্রগুলো নিয়ে আলাদা করে লিখেছেন অনেকেই। ’মিঠু চরিত্রে পার্থ শেখকে খুব মানিয়েছে, ’সাফ কবির আইরিন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার স্পেস পেয়েছেন’– এমন মন্তব্য করেছেন দর্শকরা।
নন্দিনী চরিত্র নিয়ে দর্শকের মন্তব্যগুলো এমন– ’এই কাজে তিনি (সারাহ জেবীন অদিতি) দারুণভাবে নজর কেড়েছেন। তার অভিনয় ছিল একেবারে স্বাভাবিক ও সাবলীল। শ্রীমঙ্গলের একটি লোকাল মেয়ের চরিত্রে তাকে এতটাই মানিয়ে গেছে যে কোথাও কোনো কৃত্রিমতা চোখে পড়েনি।’

সে চরিত্রটি নিয়ে সবচেয়ে আলোচনা হচ্ছে সেটি হলে রবিন চাঁদ মুর্মূ। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন রেজওয়ান পারভেজ। শাহজাদী বেগম নামের একজন দর্শক তাকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ’দর্শকদের কমেন্টগুলো আপনার জানা দরকার। দুদিনেই আপনার দুর্দান্ত প্রতিভা দৃশ্যমান।’
এ নিয়ে রেজওয়ান পারভেজ বলেন, ’চরিত্রটির সংলাপ বা কথা বলার ভঙ্গি এমন ছিল না। পরে আমি এবং পরিচালক মিলে সিদ্ধান্ত নেই যে সিনেমায় রবিন চরিত্রটি স্থানীয় ভাষায় কথা বলবে। কাজটা কঠিন ছিল, কিন্ত চ্যালেঞ্জটা নেওয়া হয়েছিল জন্য দর্শকরাও এটা পছন্দ করছে। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’
গল্পে আরও আছেন এ কে আজাদ সেতু। এর গল্প ও চিত্রনাট্য করেছেন সাইফুল্লাহ রিয়াদের। চরকি ও অক্সফ্যাম যৌথ প্রযোজনায় ফিল্মটি নির্মিত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায়। ফিল্মটির সঙ্গে যুক্ত আছে মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি এবং রিভাইভাল টি।
আরআর