বিনোদন প্রতিবেদক
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
‘নন্দিনী যখন জিতে গেল, তখন মনে হলো আমরা সবাই জিতে গেছি’– ’চা গরম’ সিনেমা দেখে অভিনেত্রী জয়া আহসান এভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানালেও প্রতিটি দর্শকই যেন এমন কথাই বলতে চাচ্ছিলেন। প্রেক্ষাগৃহ থেকে বের হয়ে একে অপরের সঙ্গে গল্পের ছলে বলছিলেন ’চা গরম’–এর গল্পে থাকা সেই অনুপ্রেরণার কথা।
১৩ এপ্রিল বিকেলে রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ’চা গরম’-এর প্রিমিয়ার শো। সিনেমা দেখে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বললেন, ’গল্পের শেষে গিয়ে আমরা সবাই কম–বেশি ইমোশনাল হয়ে পড়েছিলাম। ধন্যবাদ জানাই পুরো টিমকে।’

প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান, এনডিসি, মহাপরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, মাইকেল মিলার, রাষ্ট্রদূত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, রাষ্ট্রদূত, ইতালীয় দূতাবাস, বাংলাদেশ, ডিপাক এলমার, উপ-মিশন প্রধান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, বাংলাদেশ, নায়োকা মার্টিনেজ ব্যাকস্ট্রম, উপ-প্রধান, বাংলাদেশে সুইডেন দূতাবাস, সাজ্জাদ শরীফ, চরকি কমিশনিং কমিটির সদস্য এবং নির্বাহী সম্পাদক, প্রথম আলো, আশিস দামলে, কান্ট্রি ডিরেক্টর, অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ, ফারাহ কবির, কান্ট্রি ডিরেক্টর, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, সবুর খান, চেয়ারম্যান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রুচিকা বাহল, প্রধান, আইএলও অফিস, কক্সবাজার, উন্নয়ন সহযোগী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট এবং সংবাদকর্মীরা।
চরকি ও অক্সফ্যাম–এর প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্রটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় বাস্তবায়িত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত আছে মোবাইল ওপারেটিং কোম্পানি রবি এবং রিভাইভাল টি।
চরকির পক্ষ থেকে প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন চরকির কমিশনিং কমিটির সদস্য, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। তিনি বলেন, ’পরিচালক হিসেবে শঙ্খের (দাশগুপ্ত) প্রতি আমার ভরসা আছে। আপনারা নিশ্চয়ই আনন্দ পাবেন ছবিটি দেখে।’

কান্ট্রি ডিরেক্টর, অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ, আশীষ দামলে আশা প্রকাশ করে জানান, চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে চা শ্রমিকদের মর্যাদা এবং আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় পর্যায়ে এবং নীতিনির্ধারকদের নতুন করে ভাবাবে।
সাইফুল্লাহ রিয়াদ–এর গল্প ও চিত্রনাট্যে চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ’চা গরম’ পরিচালনা করেছেন শঙ্খ দাশগুপ্ত। এর প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন সাফা কবির, পার্থ শেখ, সারাহ জেবীন অদিতি, রেজওয়ান পারভেজ, এ কে আজাদ সেতু। গল্পটি একজন তরুণ চিকিৎসককে কেন্দ্র করে, যিনি চা বাগানের এক অজানা জগতে প্রবেশ করেন এবং সেখানকার অবহেলিত মানুষের সংগ্রাম, হাস্যরস আর স্বপ্নের সান্নিধ্য পান।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও চা বাগানের শ্রমিকরা মূলধারার গল্পগুলোতে বরাবরই অদৃশ্য থেকে গেছেন। এই জনগোষ্ঠীর জীবনের এক মর্মস্পর্শী চিত্র পর্দায় তুলে এনেছে ‘চা গরম’। প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর মানুষদের প্রতিনিয়ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হয়। এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই বাস্তবধর্মী চরিত্রদের মাধ্যমে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত জানান, চা বাগানকে কেবল মনোরম দৃশ্য হিসেবে ব্যবহার না করে বরং এর ভেতরের মানুষের আচার-আচরণ, আনন্দ ও বেদনাকে তুলে ধরাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। এই চলচ্চিত্র তাদের মানবিকতা ও মর্যাদার প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
অভিনেত্রী সাফা কবির বলেন, ‘চা গরম আমাদের শেখায় কীভাবে নিজেদের জগতের বাইরেও সহমর্মিতা ও সংহতি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়।’
পার্থ শেখ এখানে ‘মিঠু’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পার্থর মতে, গল্পটি মানুষের সেই নিরন্তর সংগ্রামের কথা বলে যেখানে সাধারণ মানুষ স্বপ্ন দেখার সাহস দেখায়।