বিনোদন প্রতিবেদক
১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার দেশের প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তুলতে আসছে নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’। আসন্ন ঈদুল আজহায় দেশব্যাপী সিনেমা হলে ছবিটির মুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দর্শকদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দিতে আজ রাজধানীর নিকেতনস্থ ফেসকার্ড প্রোডাকশনের কার্যালয়ে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সিনেমাটির নতুন একটি গান উন্মুক্ত করা হয়।
প্রকাশিত নতুন এই গানটির শিরোনাম—’রইদে আইলা গা জুড়াইতে`। গ্রামবাংলার শেকড়সন্ধানী সুর ও ভিন্নধর্মী গায়কীর কারণে গানটি ইতিমধ্যেই উপস্থিত অতিথি ও সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। গানটির কথা, মৌলিক সুর এবং কণ্ঠ দিয়েছেন প্রতিভাবান শিল্পী রাজীব আহমেদ রাজু।
অন্যদিকে, গানটির সঙ্গীত পরিচালনা, চূড়ান্ত প্রযোজনা এবং মিক্স ও মাস্টারিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি কাজগুলো অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করেছেন রাশীদ শরীফ শোয়েব। গানটির সার্বিক অডিও প্রোডাকশন এবং শব্দবিন্যাসের দায়িত্বে ছিল অডিও প্রতিষ্ঠান ‘স্টুডিও কাউবেল’ । প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা গানটির ব্যতিক্রমী সুর, হৃদয়স্পর্শী কথা এবং রাজীব আহমেদ রাজুর দরদী গায়কীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
চলচ্চিত্রটির পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, "রইদ’ সিনেমাটি মূলত সাধু এবং তার পাগল স্ত্রীর সম্পর্কের এক সরল অথচ গভীর আখ্যান, যা প্রেম ও নীরবতার মাধ্যমে মানব বিবর্তনের সেই চিরন্তন আদিম প্রেমকে তুলে ধরে। ঈদুল আযহায় সিনেমাটির সম্ভাব্য মুক্তিকে সামনে রেখে সম্প্রতি এর প্রথম গানটি প্রকাশ করা হয়েছে, যার কথা ও সুর করেছেন ‘সহজিয়া’ ব্যান্ডের রাজু এবং সঙ্গীতায়োজনে ছিলেন রাশিদ শরীফ শোয়েব। গানটি ‘রইদ’ শুটিংয়ের অনেক আগে, প্রায় এক বছর আগে আমি আর রাজু ভাই এটার অনেকদিন ধরে এটা নিয়ে কথা বলছিলাম, আজকে এসে সেই গানটা শেষ হলো। তাই এই গানটা দিয়েই আসলে রইদের যাত্রাটা শুরু হলো বলা যায়। গানের সুরের মতোই 'রইদ'-এর গল্পটিও দর্শকদের অনুভূতির গভীরে দাগ কাটবে এবং আসন্ন ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হবে।”
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ-এর পক্ষ থেকে প্রযোজক মুশফিকুর রহমান বলেন, "সদ্য প্রকাশিত 'রইদে আইলা গা জুড়াইতে' গানটি এই সিনেমার শেকড়সন্ধানী রূপ ও আত্মাকে নিখুঁতভাবে ধারণ করেছে। সুমনের মতো একজন দুর্দান্ত নির্মাতার এই সৃজনশীল যাত্রায় সঙ্গী হতে পেরে বঙ্গ পরিবার গর্বিত। এটি কেবল একটি সিনেমা নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য একটি নতুন অধ্যায়। আসন্ন ঈদুল আজহায় দেশব্যাপী 'রইদ'-এর দুর্দান্ত সাফল্য কামনা করছি। আমাদের বিশ্বাস, দর্শকদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় এই চলচ্চিত্র এক নতুন মাইলফলক তৈরি করবে এবং পুরো টিমের এই অক্লান্ত পরিশ্রম সার্থক হবে।"
গানটির গায়ক, সুরকার ও গীতিকার রাজীব আহমেদ রাজু বলেন, "এই গানটি তৈরির অভিজ্ঞতা আমার জন্য একেবারেই নতুন; কারণ এর নামটা আগে পেয়েছি, গান তৈরি হয়েছে পরে। পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন আমাকে কোনো গতানুগতিক গল্প বলেননি, বরং এই সিনেমার পেছনের তার গভীর চিন্তা ও অনুভূতিগুলো শেয়ার করেছিলেন, যা থেকে প্রায় দুই বছর আগে গানটির জন্ম। এরপর আমাদের কাছের মানুষ শোয়েবের চমৎকার মিউজিক আয়োজনে গানটি পূর্ণতা পায়। অডিওর কাজ শেষে সুনামগঞ্জে রোদ-বৃষ্টি আর ধুলোবালি মেখে সুমন যে ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যধারণ করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ এক লম্বা সফর। দীর্ঘ এই পরিশ্রমের চূড়ান্ত ফসল এবার দর্শক-শ্রোতারা শুনতে ও দেখতে পাবেন, এটাই এখন সবচেয়ে বড় আনন্দ।"
অভিনেত্রী নাজিফা তুষি গানটি সম্পর্কে বলেন, “আগামীকাল 'রোইদ'-এর প্রথম গান মুক্তি পাওয়া নিয়ে আমি অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। রাজু ভাইয়ের কণ্ঠ ও শোয়েব ভাইয়ের অসাধারণ কম্পোজিশনের এই গানটি আমার ব্যক্তিগতভাবে খুব প্রিয়। কোভিডের আগে থেকে আইডিয়া ডেভেলপমেন্ট থেকে শুরু করে শুটিং পর্যন্ত দীর্ঘ এক বছরের প্রস্তুতি—সবই আমার চোখের সামনে ঘটেছে। বিশেষ করে সিলেটে শূন্য থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ লোকেশন বা বাড়ি তৈরি হওয়ার প্রতিটি ধাপ আমি প্রত্যক্ষ করেছি। 'পাগলি' চরিত্রে অভিনয় করার সুবাদে এই যাত্রায় গ্রামবাসীও আমাদের টিমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন। এতদিন যে আবেগ আমরা লালন করেছি, এখন তা দর্শকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্ত চলে এসেছে; এই প্রাপ্তির অনুভূতি সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম’ (IFFR)-এর মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয়ে ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছে ‘রইদ’।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ এবং ফেসকার্ড প্রোডাকশন-এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি এখন দেশের দর্শকদের মন জয় করতে প্রস্তুত। প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশংসা কুড়ানোর পর দেশের দর্শকদের বিশাল পর্দায় এই সিনেমা দেখার সুযোগ করে দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী ঈদুল আজহা'র উৎসবমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী সবকটি বড় প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পাবে ‘রইদ’। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ‘হাওয়া’-র পর মেজবাউর রহমান সুমনের এই নতুন সৃষ্টিও দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণে শতভাগ সফল হবে।