images

বিনোদন

ফেস ভ্যালু না থাকায় একসময় প্রতিভার স্বীকৃতি পাইনি: বিদুষী বর্ণিতা 

রাফিউজ্জামান রাফি

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

একাডেমিক পরীক্ষায় কখনও প্রথম না হলেও ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এর আসরে সামনে যেতে দেননি কাউকে। সৌন্দর্য ও মেধা দিয়ে শেষ পর্যন্ত সেরার আসনটি দখলে রেখেছেন। বিদুষী বর্ণিতা বাড়ি ফিরেছেন সুপারস্টারের খেতাব জিতে। ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথোপকথনে মনের আগল খুলেছেন তিনি। 

লাক্স সুপারস্টারের স্বপ্ন দেখা শুরু কবে থেকে? 

মিডিয়ায় আমার কাজের শুরু অনেক ছোটবেলায়। অভিনয় কী বা কেন করছি— খুব একটা বুঝতাম না তখন। যতটুকু শেখানো ও দেখানো হতো করতাম। অনেক সময় ভালোও লাগত না। কিন্তু যখন টিভিতে এরকম প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের বড় বড় মঞ্চে দাঁড়াতে দেখতাম তখন মনে হতো আমিও যদি এত সুন্দর কস্টিউম পরে দাঁড়াতে পারতাম! স্বপ্নটা ওখান থেকে দেখা শুরু। তাছাড়া ছোটবেলা থেকে কাজ করলেও দীর্ঘ আট-নয় বছরের মতো কাজের সুযোগ পাইনি। ওই ঘাটতি থেকে ইচ্ছাটা আরও প্রবল হয়। কোন মাধ্যমে গেলে সুযোগ আসবে সেই ভাবনা থেকে লাক্স সুপারস্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখা। 

প্রতিযোগিতায় জিততে সৌন্দর্য ছাড়াও একজন প্রতিযোগীর কী কী গুণ প্রয়োজন? 

আমাদের শোটা এবার সুন্দরী প্রতিযোগিতা হিসেবে করা হয়নি। আমাদের ক্রাউন দেওয়া হয়নি। পুরো শো ছিল মেধাভিত্তিক। সৌন্দর্যের পাশাপাশি অন্য যে গুণগুলো মানুষের প্রয়োজন সেগুলোর ওপর নাম্বার দেওয়া হয়েছে। বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে মেধা-প্রতিভা গুরুত্ব পেয়েছে। 

barnitya_20260404_122046870

বিজয়ী হওয়ার পর কাছের মানুষেরা কীভাবে উদযাপন করেছেন? 

আমার এত দূর আসার পেছনে মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। প্রতিযোগিতায় জেতার রাতে বাসায় গিয়ে দেখি মা এত খুশি যে কী করবেন কী খাওয়াবেন অবস্থা। পারলে রাত তিনটার সময় রান্না শুরু করে দেন। পরদিন সকালে খালামনিরা সবাই কেক মিষ্টি নিয়ে চলে আসেন। আমি মিষ্টি খাওয়াব কি আত্মীয় স্বজন সবাই আমার জন্য মিষ্টি নিয়ে চলে এসেছিলেন।

ছাত্রজীবনে কখনও পরীক্ষায় প্রথম হননি। লাক্সের আসরে প্রথম হলেন। নেপথ্য কারণ কী বলে মনে হচ্ছে? 

একাডেমিক পরীক্ষায় প্রথম না হতে পারার পেছনে কারণ ছিল। কোচিংয়ে বা টিচারদের কাছে আলাদা করে পড়ার সুযোগ হয়নি আমার। প্রাইভেট যারা পড়ে তাদের সুবিধা বেশি থাকে। দেখা গেল নাম্বার বেশি পাওয়ার সক্ষমতা থাকলেও কমিয়ে আমাকে সেকেন্ড বানানো হলো। এরকম অবিচার হতো আমার সঙ্গে। তাই এমন একটা প্ল্যাটফর্ম চেয়েছিলাম যেখানে অবিচার হবে না; যোগ্যতা অনুযায়ী ফল পাব। সেটাই হয়েছে।  

প্রাইভেট টিউটর ছাড়া পরীক্ষায় ভালো ফল কীভাবে সম্ভব হতো? 

নিজে নিজে পড়ালেখা করে মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছি। অনেকের কাছে মনে হয় এটা কীভাবে সম্ভব। আমার পরিবারের অ্যাফোর্ডেবিলিটি কম ছিল। সে কারণে প্রাইভেট পড়িনি। অনলাইনে ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে পড়ালেখা করতাম। 

model

এক স্টোরিতে ৮০ হাজার ভিউ, এত এত ইন্টার্ভিউ, ফোন কল— কীভাবে সামলাচ্ছেন? 

একটু হিমশিম খাচ্ছি। এমন পরিস্থিতিতে আমি একবারেই নতুন। আমাদের জার্নিটা লম্বা ছিল। সেখানে পুরো সময় আমাদের অনেকের অধীনে থাকতে হয়েছে। তারা পথ দেখিয়েছেন। প্রতিযোগিতা শেষে সব নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। অনেকে ফোন করছেন, মেসেজ পাঠাচ্ছেন। একার পক্ষে শত শত মেসেজের উত্তর দেওয়া কঠিন। সামলে চলতে কঠিন লাগছে। 

জয়া আহসান, রায়হান রাফী, জামাল ভূঁইয়াদের কাছে কী শিখলেন?

জয়া আহাসান ম্যামের মতো গুণী অভিনেত্রীর কাছে শিখতে পারা অনেক আনন্দের। ম্যাম আমাদের এবং গত জেনারেশন মিলিয়ে অভিনয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। রায়হান রাফী স্যারের মতো একজন পরিচালকের চোখ থেকে অভিনয় শেখা বড় কিছু আমার জন্য। জামাল ভুঁইয়ার সঙ্গে ইন্টারভিউয়ের মতো হয়েছে। ওনার থেকে স্পোর্টসম্যানশিপ শিখেছি। ভিন্ন একটি ইন্ডাস্ট্রিতে উনি কীভাবে কী করছেন এবং সেটা আমার সঙ্গে কোথায় মেলে সেগুলো শিখেছি। 

আগে যারা লাক্স সুপারস্টার হয়েছেন তাদের অনেকে জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ছবিতে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। আপনি পাচ্ছেন রায়হান রাফীর সঙ্গে সুযোগ। হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজের আফসোসটা রয়ে গেল?

আফসোস থাকাটা স্বাভাবিক। হুমায়ূন আহমেদ স্যারের মতো একজন লেখক, পরিচালকের সঙ্গে  যারা কাজ করতে পেরেছেন বা কাছে থেকে তাকে দেখেছেন তারাই বলবেন এটা  তাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমাদের জেনারেশনের জন্য দুর্ভাগ্যজনক যে সে সুযোগ হলো না। উনি বাংলাদেশের মানুষের একটা আবেগের জায়গা। বেঁচে থাকলে হয়তো রাফী স্যারের পাশাপাশি ওনার কাজ করার সুযোগও হতো। তবে আমার মনে হয় রায়হান রাফী স্যারের জায়গা এবং হুমায়ন আহমেদ স্যারের জায়গাটা আলাদা। সেখান থেকে ওনাদের নিয়ে তুলনা করে কিছু বলা উচিত না। আমার কাছে দুজন মানুষ-ই অনেক সম্মানের ও বিশেষ। 

untitled-1-1775279367

দেশের কোন অভিনেত্রীকে আইডল হিসেবে মনে হয়? 

একজনের নাম বলা কঠিন। সবসময় কয়েকজনের কথা বলি। সুবর্ণা মোস্তফা ম্যাম থেকে শুরু করে আফসানা মিমি, অপি করিম, বিপাশা হায়াৎ ম্যাম আমার পছন্দের অভিনেত্রী।  ওনারা শুধু অভিনয় করেননি। একসঙ্গে অনেক কিছু করতেন। অপি ম্যাম একজন ইঞ্জিনিয়ার। পাশাপাশি অভিনয় জগতে নিজেকে মেলে ধরেছেন। বিপাশা ম্যাম স্ক্রিপ্ট লিখতেন, পরিচালনা করতেন, অভিনয় করতেন। একজন চিত্রশিল্পীও। সব মিলিয়ে একসঙ্গে সবকিছু ম্যানেজ করতেন। এরকম বহুমুখী প্রতিভার মানুষ আমার ভালো লাগে। আমিও ওইরকম হতে চাই। যেন পড়াশুনা কিংবা অন্যান্য প্রতিভা নিয়ে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারি।

সুযোগ এলে দেশের কোন অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করতে চান? 

বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী আফরান নিশো স্যারকে খুব ভালো লাগে। অভিনেতা হিসেবে উনি খুবই গুণী। ওনার সঙ্গে কখনও কোনো ক্যারেক্টারে স্ক্রিন শেয়ারের সুযোগ পেলে ভালো লাগবে। অনেক কিছু শিখতে পারব বলে মনে হয়। অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে নারীকেন্দ্রিক কোনো কাজে জয়া আহসান ম্যামের সঙ্গে কাজের ইচ্ছা আছে।  

একটা সময় কাজ পাননি। এখন সুযোগ দোরগোড়ায়। কীভাবে নাড়াচ্ছে আপনাকে?

বিষয়টি আমার কাছে অনেক ইমোশনাল। এক সময় অনেক কষ্ট করে কাজ খুঁজতে হয়েছে। অ্যাড ফার্ম, প্রোডাকশন হাউজসহ অনেক জায়গায় অডিশন দিয়েছি। অনেকের কাছে গেছি। হয়তো আমার কোনো ঘাটতি ছিল বলে পাইনি। অনেক সময় অনেক ভালো অডিশন দিলেও আমার বদলে চেনা কোনো মুখ সুযোগ পেয়েছে। এসব দেখে মনে হতো এমন এক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন যেখানে নিজেকে চিনিয়ে প্রতিভা কিংবা চেষ্টা যেটাই হোক কাজে লাগাতে পারব। লাক্সের আসরকে সেরকম উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম বলে মনে হয়েছে। 

lux

কাজের সুযোগ হারানোর কোনো ঘটনা বলবেন? 

একবার এক অডিশনে খুব ভালো করেছিলাম। যিনি অডিশন নিয়েছিলেন তিনি খুব অ্যাপ্রিশিয়েট করে বলেছিলেন যারা অডিশন দিয়েছে তাদের কেউ তোমার মতো এত ভালো করেনি। আমি নিশ্চিত তোমারটা কনফার্ম। কাজটি অনেক বড় ছিল। আমার জন্য বড় সুযোগ হতে পারত। কিন্তু সেখান থেকে আর ডাক পাইনি। অনেকদিন পর টিভিতে কাজটি দেখি। আমার বদলে এক পরিচিত সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সারকে নেওয়া হয়েছিল। তার অভিনয় দেখে আমাকে অনেকে বলছিলেন তুমি হয়তো তার থেকে ভালো করতে পারতে। আমার খুব খারাপ লেগেছিল। শুধু ফেস ভ্যালু না থাকায় আমার প্রতিভার সেই স্বীকৃতি পাইনি। 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিযোগিতায় নাম লেখাতে চান? 

বিশ্বজুড়ে অনেক সুন্দরী প্রতিযোগিতা আছে। অনেক সুন্দর মেধাবী মানুষজন বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে। তবে আমার মনে হয় প্রতিযোগিতার দিক থেকে যতটুকু চাওয়া-পাওয়া ছিল পেয়েছি। বড় টাইটেল, বড় রেসপন্সিবিলিটি হোল্ড করছি। সেটাকে অসম্মান করে অন্য কোথাও গিয়ে আরও কোনো টাইটেল নিতে চাই না। আপাতত দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করতে চাই। লাক্স সুপারস্টারের মতো প্রতিভা খোঁজার উপযুক্ত প্লাটফর্ম কোথাও নেই। আমি সেই প্রতিভায় শান দিয়ে অভিনয়ে নিজেকে আরও শক্তিশালী করে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। কখনও সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।

558600744_1363716258606206_5697629502326515847_n

ব্যস্ততা কী নিয়ে? 

অনেকগুলো ইভেন্টে যেতে হচ্ছে। ইন্টার্ভিউ দিতে হচ্ছে। অনেকে ম্যাসেজ দিচ্ছেন, কল করছেন, শুভাকাঙ্ক্ষীরা অভিনন্দন জানাচ্ছেন। সব মিলিয়ে ব্যস্ততা সময় কাটছে। তাছাড়া সামনে সিনেমা, ওয়েব কনটেন্টে কাজ করতে হবে। এত বড় বড় নির্মাতাদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাচ্ছি নিজেকে তৈরির একটা প্রস্তুতি আছে।

আরআর