images

বিনোদন

সরকারি নির্দেশনা মানছে মাল্টিপ্লেক্সগুলো, যে দাবি সিঙ্গেল স্ক্রিনের 

বিনোদন প্রতিবেদক

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার আজ রোববার থেকে সন্ধ্যা ৬টার পর দোকান, মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ রাখার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সেই নির্দেশনা মেনে দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলো সন্ধ্যার পর সিনেমার শো বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে রাত নয়টা পর্যন্ত সিনেমা চালাতে চায় সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো। 

গতকাল ৪ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাল্টিপ্লেক্স ব্লকবাস্টার সিনেমাস জানায়, ৫ এপ্রিল থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর তাদের সব শো বন্ধ থাকবে, যা কার্যকর হবে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের সাম্প্রতিক জরুরি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী রোববার (আজ ৫ই এপ্রিল) ২০২৬, থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর সকল দোকান আর মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায়, আমাদের পূর্ব নির্ধারিত প্রতিদিনের সন্ধ্যার শোগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।

যেসব দর্শক আগাম টিকিট সংগ্রহ করেছেন তাদের উদ্দেশে বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়েছে, আগামী রোববার ৫ এপ্রিল থেকে সন্ধ্যা ৬টার পর সংশ্লিষ্ট শোগুলোর জন্য যারা অগ্রিম টিকিট ক্রয় করেছেন, তাদের সকলকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। 

দেশের বৃহত্তম মাল্টিপ্লেক্স স্টার সিনেপ্লেক্সও সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা থেকে সিনেমার শো স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তথ্যটি ঢাকা মেইলকে দিয়েছেন স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার পর যেহেতু মার্কেট বন্ধ থাকবে সেহেতু সিনেমা হলও আমরা আপাতত বন্ধ রাখব। আমাদের ওয়েবসাইটেও সেভাবে শিডিউল করা হয়েছে। সন্ধ্যার শো দেওয়া হয়নি।’ 

ক্ষতির প্রসঙ্গে এ জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক বলেন, ‘সন্ধ্যার শোয়ে দর্শকের চাপ ছিল। কেননা এখন ঈদের সিনেমাগুলো দেখতে আসছেন দর্শক। ফলে হল মালিকরা বেশ ভালো দর্শক পাচ্ছিল এই মুহূর্তে। কিন্তু সরকারি নির্দেশনাটা এসেছে বৃহত্তর স্বার্থে। জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে। সেক্ষেত্রে আমাদের ছাড় দেওয়ার মানসিকতা অবশ্যই থাকা উচিত।’ 

ঢাকার অদূরে কেরানিগঞ্জে অবস্থিত লায়ন সিনেমাসের কর্ণধার মির্জা আব্দুল খালেক বলেন, ‘সরকারী নির্দেশনা মেনে আমরাও আজ রোববার থেকে সন্ধ্যার শো বন্ধ রাখছি। এতে ক্ষতিটা বড় আকারের হবে। কেননা ঈদের সিনেমারগুলো চলছে। তাছাড়া দিনের বেলা দর্শকের উপস্থিতি তেমন থাকে না। দর্শক আসেন সন্ধ্যায় ও রাতের শোয়ে।’

তবে সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো নয়টা পর্যন্ত চালু রাখার দাবি জানালেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জল। তিনি বলেন, ‘মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে যেখানে সেখানে মার্কেটও আছে। মার্কেট বন্ধ থাকলে অন্ধকারে কেউ ছবি দেখতে যাবে না। অধিকাংশ সিঙ্গেল স্ক্রিন মার্কেটের আওতাধীন না। তাই আমাদের দাবি থাকবে সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো যেন রাত নয়টা পর্যন্ত চালাতে পারি। তাহলে আর্থিক ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারব।’ 

তার কথায়, ‘ছয়টার মধ্যে দোকান পাট সব বন্ধ হয়ে গেলে এমনিতেই সব অন্ধকার হয়ে যায়। এ অবস্থায় দুই-একদিন দেখলে ফলাফল বোঝা যাবে। ক্ষতির ব্যাপারটাও তখন বোঝা যাবে।’ 

আরআর