রাফিউজ্জামান রাফি
১৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০১ পিএম
আগামীকাল ১৮ মার্চ মুক্তি পেতে যাচ্ছে মেহজাবীন চৌধুরী অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘ক্যাকটাস’। প্রকাশিত টিজার-ট্রেলার আভাস দিয়েছে মারকুটে অবতারে দেখা যাবে তাকে। তার বিপরীতে ধরা দেবেন সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান। শিহাব শাহীন পরিচালিত ওয়েব কনটেন্টটিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ঢাকা মেইলের সঙ্গে ভাগ করেছেন মেহজাবীন।
‘ক্যাকটাস’-এর টিজার-ট্রেলারে আপনার মারকুটে অবতার দেখে নেটিজেনদের অনেকে বলছেন, ‘এ কোন মেহজাবীন!’ কেমন লাগছে?
সত্যি বলতে, এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখতে খুব ভালো লাগছে। কারণ একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমি সবসময়ই চাই মানুষ আমাকে নতুনভাবে দেখুক। যখন তারা বলে ‘এ কোন মেহজাবীন’, তখন আমার মনে হয় হয়তো একটু হলেও সেই সীমাটা ভাঙতে পেরেছি। এটা আমার জন্য খুব আনন্দ ও উৎসাহের।
_20260224_143241125_20260317_120616061.jpg)
অ্যাকশন কৌশলগুলো রপ্ত করতে কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে?
চরিত্রটি করার অন্যতম বড় কারণ ছিল অ্যাকশন করার সুযোগটা। এর আগে এতটা অ্যাকশনধর্মী কিছু করার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। তাই শুটিংয়ের আগে আমাদের অ্যাকশন ডিরেক্টর মি. এডওয়ার্ড ও তার টিমের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে, মুভমেন্ট, ফাইট কোরিওগ্রাফি, এমনকি কিছু বেসিক সেল্ফ ডিফেন্সও। শারীরিকভাবে যেমন চ্যালেঞ্জিং ছিল, তেমনি একজন অভিনেত্রী হিসেবে এটাও আমাকে নতুনভাবে নিজেকে এক্সপ্লোর করার সুযোগ দিয়েছে। আমি আশা করি ভবিষ্যতেও তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারব।
সহশিল্পী হিসেবে প্রীতম হাসান কেমন?
প্রীতম খুব আন্তরিক এবং ডেডিকেটেড একজন সহশিল্পী। আমরা শুটিংয়ের সময় খুব সুন্দর একটা টিমওয়ার্ক পেয়েছি। একটি প্রজেক্টে যখন সবাই নিজের সেরাটা দিতে চায়, তখন কাজটা সহজ হয়ে যায়। প্রীতমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল।

শুটিং সময়কার বলার মতো কোনো গল্প যদি ভাগ করা যায়…
অ্যাকশন দৃশ্যগুলো করার সময় অনেক মজার মুহূর্তও হয়েছে। কারণ আমরা সবাই নতুন জিনিস নিয়ে কাজ করছিলাম। অনেক সময় রিহার্সালের সময় ফাইট ভুল হয়ে যেত, আবার সবাই মিলে হেসে ফেলতাম। কিন্তু সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় ছিল পুরো টিমের এনার্জি। সবাই খুব সিরিয়াসভাবে কাজ করেছে।
বড় পর্দায় আপনাকে জীবনঘনিষ্ঠ চরিত্রে দেখা গেছে। আপনার ভক্তরা এরকম মারকুটে অবতারেও দেখতে চায়। এক্ষেত্রে কী বলবেন?
আমি মনে করি একজন অভিনেত্রীর জন্য নিজেকে এক জায়গায় আটকে না রাখা খুব জরুরি। দর্শক আমাকে যেসব চরিত্রে দেখেছেন সেগুলো জীবনঘনিষ্ঠ ছিল, কিন্তু এর মানে এই না যে আমি অন্য কিছু করতে চাই না। বরং আমি চাই দর্শক আমাকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখুক। যদি তারা আমাকে এ ধরনের চরিত্রেও দেখতে আগ্রহী হয়, তাহলে সেটা আমার জন্য খুব আনন্দের।

অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে ভাঙাগড়ার খেলায় ব্যস্ত আপনি। এটি কতটা উপভোগ্য ও চ্যালেঞ্জের?
সত্যি বলতে এই ভাঙাগড়ার প্রক্রিয়া আমার কাছে সবচেয়ে উপভোগ্য। একই ধরনের চরিত্র বারবার করলে হয়তো খুব কমফোর্টেবল লাগতে পারে, কিন্তু একজন শিল্পী হিসেবে তখন আর শেখার জায়গাটা থাকে না। নতুন চরিত্র মানেই নতুন চ্যালেঞ্জ। কখনও শারীরিকভাবে, কখনও মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়। এই চ্যালেঞ্জগুলো আমাকে অনুপ্রাণিত করে।
ছোটবেলার ঈদ নিয়ে জানতে চাই।
ছোটবেলার ঈদ ছিল খুবই সরল কিন্তু আনন্দের। নতুন জামা পাওয়া, সকালে সবাইকে সালাম করা, তারপর সালামি জমানো, এই বিষয়গুলো নিয়েই ছিল সব আনন্দ।

এবার ঈদ নিয়ে পরিকল্পনা কী?
ঈদের দিনটা সাধারণত পরিবারের সঙ্গে কাটাতে ভালো লাগে। এবারও ঢাকাতে থাকব। ঈদের দিন পরিবার, কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো, একটু আড্ডা, এই ছোট ছোট জিনিসগুলো আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঈদের সিনেমা…
এবার ঈদে অনেক বৈচিত্র্যময় কাজ আসছে। এটা খুব ভালো লাগছে। বিভিন্ন ধরনের গল্প এবং চরিত্র দেখা যাবে। দর্শক হিসেবে আমিও কিছু কাজ দেখার জন্য আগ্রহী। তবে শেষ পর্যন্ত দর্শকই ঠিক করেন কোন কাজটা তাদের মনে জায়গা করে নেয়। আমি চাই সবাই নিজের পছন্দমতো কাজগুলো উপভোগ করুক।
আরআর