রাফিউজ্জামান রাফি
০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
প্রথম সিনেমা ‘বরবাদ’ দিয়ে দেশ নেড়েচেড়ে দেন মেহেদী হাসান হৃদয়। শাকিব খানকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে মন ভরান দর্শকের। এবার ঈদে আসছে তার দ্বিতীয় সিনেমা ‘রাক্ষস’। ফার্স্ট লুকেই নজর কেড়েছে। সম্প্রতি নতুন পোস্টারে ভিন্নরূপে দেখা গেছে সিয়াম আহমেদকে। সেসব নিয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে আলাপ জমেছিল মেহেদী হাসান হৃদয়ের।
‘রাক্ষস’ কোন পর্যায়ে আছে?
শুটিং শেষ। পোস্ট প্রোডাকশনে আছে। এডিট, ডাবিং, মিউজিক— সব একযোগে চলছে।
‘রাক্ষস’ -এর লুক নেটিজেনদের বেশ সমাদর পেয়েছে…
দর্শকের জন্য কাজ করি। তাদের ভালো লাগলেই আমরা সফল। ‘রাক্ষস’-এর একটা কন্টেন্ট ছেড়েছি। দর্শক ভালোভাবে নিয়েছেন। খুব ভালো লাগছে। তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

‘বরবাদ’-এ কোন ভুলগুলো ‘রাক্ষস’-এ শুধরে নিয়েছেন?
‘বরবাদ’-এ যে ভুল আমার চোখে পড়েছে এবং অডিয়েন্স কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষীরা ধরিয়ে দিয়েছেন চেষ্টা করেছি ‘রাক্ষস’-এ সেগুলো যেন না হয়। অনেকের মতে ‘বরবাদ’-এর ক্লাইম্যাক্সে কিছুটা ঘাটতি ছিল। দর্শক চেয়েছিলেন পর্দায় যিশু সেনগুপ্তর সঙ্গে শাকিব খানকে বেশি সময় দেখতে। হিরো-ভিলেনের মুখোমুখি দ্বন্দ্ব আরও উপভোগ করতে। সময় স্বল্পতার কারণে সম্ভব হয়নি। সে ব্যাখ্যাও একাধিকবার দিয়েছি। ‘রাক্ষস’-এর ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোতে সতর্ক ছিলাম।
‘বরবাদ’-এ শাকিব, ‘রাক্ষস’-এ সিয়াম আহমেদ— কে কতটা ভালো করেছেন?
‘বরবাদ’ আরিয়ান মির্জার সিনেমা। আরিয়ান মির্জার চরিত্রে আমাদের মেগাস্টার (শাকিব খান) ফাটিয়ে দিয়েছেন। অন্য কাউকে নিলে এরকম হতো কি না জানি না। আরিয়ান মির্জা চরিত্রে শাকিব ভাই যেমন উড়িয়ে দিয়েছেন ‘রাক্ষস’-এ সিয়ামও সেরকম উড়িয়ে দিয়েছেন।
‘রাক্ষস’-এ সিয়ামকেই উপযুক্ত মনে হলো?
আরিয়ান মির্জার জন্য শাকিব ভাইকে খুব পারফেক্ট মনে হয়েছে। ‘রাক্ষস’ সিনেমায় সিয়াম যে চরিত্রটা করছে সেটির জন্য তাকে উপযুক্ত লেগেছে। মনে হয়েছে এখানে সে খুব ভালো করবে। কোনো চরিত্র লেখার সময় চোখের সামনে ভাসে। সেখানে আমি সিয়ামকে দেখতে পেয়েছি। তার হাঁটাচলাসহ সবকিছু চরিত্রটার সঙ্গে গেছে। সে কারণেই তাকে নেওয়া।

‘রাক্ষস’ কেন দেখবে দর্শক?
‘রাক্ষস’-এ ক্রেজি লাভ স্টোরি আছে। এরকম ক্রেজি লাভ স্টোরি গেল কয়েক বছরে ঢালিউড-টলিউডে দেখা যায়নি। প্রচণ্ড পরিমাণ ব্রুটাল সিকোয়েন্স, ভায়োলেন্স আছে। সব মিলিয়ে দর্শক নতুন কিছু দেখবেন। গান, অ্যাকশন ডিজাইন, ব্রুটালিটি, রোমান্স, গল্প— সবকিছুতে। পারিবারিক ড্রামাও আছে।
অনেকের মতে ঢালিউডের সিনেমার বাজেট ৬-৭ কোটির বেশি হওয়া উচিত না। অন্যথায় লোকসানে পড়তে হয়। আপনার কী মনে হয়?
বিশ্বাস করি না। কারণ আমার কাছে প্রমাণ আছে। ‘প্রিয়তমা’ সম্ভবত চার সাড়ে চার কোটির সিনেমা ছিল। এরকমই শুনেছি। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রি হিট হয়ে গেল। এরপর এলো শাকিব ভাইয়ের ‘তুফান’। সেটা প্রায় সাত-আট কোটির সিনেমা। আমার মনে হয় ‘প্রিয়তমা’ ইন্ডাস্ট্রি হিট হয়েছে, প্রচুর ব্যবসা করেছে বলেই সাত-আট কোটির একটি সিনেমা বানাতে আরেকজন প্রযোজক সাহস করেছেন। সেটাও ইন্ডাস্ট্রি হিট হয়ে গেল। এরপর এলো ‘বরবাদ’। আপনারা জানেন ‘বরবাদ’ ১৫-১৬ কোটির সিনেমা। প্রযোজক লগ্নিকৃত অর্থ তুলে নিয়েছেন। নইলে পরপর আরও দুটি সিনেমায় লগ্নি করতেন না। কেননা ‘রাক্ষস’ বিগ স্কেলের সিনেমা। লার্জার দ্যান লাইফ বলতে যা বুঝি সেটাই হচ্ছে ‘রাক্ষস’। অতএব সাত-আট কোটি টাকার ওপরে সিনেমা করলে যে টাকা উঠে আসবে না এটা বিশ্বাসযোগ্য না।

কী কী কারণে ‘বরবাদ’-এর চেয়ে সেরা মনে হবে ‘রাক্ষস’?
সেরা মনে হবে কিনা সেটা বলবেন দর্শক। তবে ‘বরবাদ’-এ কিছু ভুল ছিল যেগুলো রাক্ষসে নেই। স্টোরি টেলিং, ভায়োলেন্স, রোমান্স— সব জায়গায় বরবাদের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছি। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলেও তাই করত।
‘বরবাদ’-এর প্রিমিয়ারে শাকিব খান বলেছিলেন আপনাদের সঙ্গে আরও বড় প্রজেক্ট আসতে যাচ্ছে। অনেকে ভেবেছিলেন পরপর আরও একটি কাজ করতে যাচ্ছেন আপনারা। কিন্তু দুজনে ভিন্ন ভিন্ন প্রজেক্টে ব্যস্ত। শাকিবের সঙ্গে দ্বিতীয় কাজ কবে আসবে?
কোরবানি ঈদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব কবে থেকে শুরু হবে। আর ব্যাক টু ব্যাক কাজ হওয়ার চেয়ে কাজটা পরিপূর্ণভাবে করাটা প্রয়োজন। আমরা সেটাই করব। তাছাড়া আমি কোটিবার বলব মেগাস্টারের সঙ্গে ১০০ সিনেমা করলেও মনে হয় না আমার তৃপ্তি হবে। তিনি এমন এক লেভেলের নায়ক! শাকিব খান গ্রেট।
সিয়াম কি শাকিব খানের জায়গা নিতে পারবেন?
আমাদের মেগাস্টার (শাকিব খান) সিয়ামকে নিয়ে একটি মন্তব্য করছিলেন। ‘বরবাদ’-এর প্রথম মোশন পোস্টার মুক্তির দিন। তিনি বলেছিলেন, সিয়াম নেক্সট সুপারস্টার। শাকিব ভাইয়ের ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা। জহুরীর চোখ। অতএব তার মন্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। কেননা উনি এমন একটি জায়গায় আছেন যে চোখ দেখলেই বলতে পারেন কার দ্বারা কতটুকু কী হবে। কে কতটুকু যাবে কতটুকু উঠবে বা নামবে।
_20260303_161417369.jpg)
‘রাক্ষস’ নিয়ে কথা হয়েছে শাকিব খানের সঙ্গে?
‘রাক্ষস’-এর শুটিংয়ের আগের দিন শাকিব ভাইয়ার সঙ্গে কথা হয়েছে। দোয়া নিয়েছি। যখন সিনেমাটা রেডি করি তখনই তার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। বলেছি, ভাই আমি সিনেমা করতে যাচ্ছি। উনি বলেছেন, ভালোভাবে কর। এরপর যখন শুটিংয়ে যাব তখন দোয়া নিতে তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। ভাইয়া তখন ‘সোলজারে’র শুটিংয়ে ছিলেন। বললেন, সমস্যা নেই। আমি দোয়া করলাম। তুই মনোযোগ সহকারে কর। শ্রীলঙ্কায় শুটিংয়ের সময় কথা হয়েছে। কিছুদিন আগেও হয়েছে। ওনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয়।
নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা কী?
সবার আগে নির্মাতাদের গল্প বলার স্বাধীনতা দিতে হবে। সার্টিফিকেশন বোর্ডের নিয়ম নীতিমালাগুলো ঠিকঠাক করা হোক। আমরা সমাজের চিত্র তুলে ধরি সিনেমার মধ্য দিয়ে। সেক্ষেত্রে অনেক কিছু দেখাতে হয়। কিন্তু সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডের দ্বিমত থাকে। অথচ দেশে অহরহ অপরাধমূলক কাজ সংগঠিত হচ্ছে। সেসব সমাজের চিত্র হিসেবে তুলে ধরতে গেলেই আপত্তি। আজকাল মানুষজন সরাসরি মারামারি-কাটাকাটির ভিডিও করে। আগস্টের আগে দেখেছি এ ওকে গুলি করছে, বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। সেগুলোর যদি ভিডিও ধারণ করা হয়, মানুষের ফোনে ফোনে ভাইরাল হতে পারে, মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউজ হতে পারে তাহলে নির্মাতারা গল্পের প্রয়োজনে অর্থ ব্যয় করে মারকাটারি দৃশ্য পর্দায় দেখালে সমস্যা কোথায়? আমি বলব, সবার আগে নির্মাণের স্বাধীনতা দিন। কোনো দৃশ্যে সার্টিফিকেশন বোর্ডের দ্বিমত থাকলে ক্যাটাগরি উল্লেখ করে দিক। অ্যাডাল্ট সার্টিফিকেট দিক।

অনেক দিন হলো বলিউডের সিনেমা আমদানি হচ্ছে না। এক্ষেত্রে কী বলবেন?
আমার মনে হয় বলিউডের সিনেমা আমদানি করা উচিত। এতে কম্পিটিশন থাকবে। বলিউডের সিনেমা যখন আসবে তখন আমাদের মাথায় রেখে চলতে হবে যে এত বড় বাজেটের সিনেমার সঙ্গে কম বাজেটের সিনেমা নিয়ে ফাইট দিতে হবে। অডিয়েন্স টানতে হবে। মনে হয় একটা হেলদি কম্পিটিশন হবে। মানুষেরও সিনেমা হলে যাওয়ার একটা অভ্যাস হবে।
আরআর