images

বিনোদন

ভিক্ষুক জানতে চাচ্ছিলেন, মামা আপনি ‘দেনা পাওনা’র পরিচালক না?

রাফিউজ্জামান রাফি

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১২ পিএম

‘দেনা পাওনা’ নামে ৮-১০ পর্বের একটি নাটক বানাতে নেমেছিলেন। শতাধিক পর্বের পরও লাইট-ক্যামেরা বন্ধ হয়নি। মাঝখানে কেটে গেছে দেড় বছর। দর্শকের ভালোবাসায় প্রাপ্তির ঝুলি পরিপূর্ণ। অভিজ্ঞতাও জমেছে অনেক। সেসবসহ নানাবিধ বিষয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে আলাপ জমেছিল নির্মাতা কেএম সোহাগ রানার। 

১১৪ পর্বে ‘দেনা পাওনা’। কোথায় গিয়ে থামবে? 

শিগগিরই থেমে যাবে। সবকিছুই তো শেষ আছে। ‘দেনা পাওনা’কেও থামাতে হবে। 

সিরিয়ালটির সঙ্গে দেড় বছরের পথচলায় উপলব্ধি কী? 

মনে হয় খুব ছোট বয়সে অনেক ভালোবাসা পেয়ে গেছি। বুঝেই উঠতে পারিনি ‘দেনা পাওনা’র কারণে দর্শক এত ভালোবাসবেন। 

605411096_2604299419951126_7888784145571840837_n

দর্শক তো খায়রুল-নিপার বিয়ে দেখতে চায়। বিয়ে দেবেন? 

দর্শক শুধু তাদেরই বিয়ে দেন না। প্রত্যেক ক্যারেক্টার নিয়ে নিজের মতো করে ভাবেন। আমার সঙ্গেও শেয়ার করেন। যে যার স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে দেন। ব্যাপারগুলো ভালো লাগে।

অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও ‘দেনা পাওনা’ নিয়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা আছে নিশ্চয়ই… 

অনেক। একদিন উত্তরার কোনো একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। বয়স্ক এক ভদ্রলোক এসে বললেন— আমাকে চিনবেন না। আমি আপনার নাটক দেনাপাওনা দেখি। এরপর সে তার মতো করে সে অনেক কিছু শেয়ার করলেন। আমাকে একটি স্ক্রিপ্ট দিলেন। আরেকদিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। শারীরিক প্রতিবন্ধী এক ভিক্ষুক ভিক্ষা করছিলেন। আমাকে দেখে হামাগুড়ি দিয়ে সামনে এলেন। ভাবলাম ভিক্ষা চাবে। কিন্তু আমার দিকে মাথা নিচু করে তাকিয়ে বললেন, ‘‘মামা আপনি ‘দেনা পাওনা’র পরিচালক না?’’ ‘হ্যাঁ’ বলতেই উনি আমাকে বললেন, ‘আপনি শহীদের এমন অবস্থা করবেন যেন খায়রুলের কাছে সে ভিক্ষা করে। খায়রুলকে বড়লোক বানিয়ে নিপার সাথে ওর বিয়ে দেবেন। এমন সময় দেখি পাশে বসা এক আন্টি আমাদের কথা শুনছেন।’ তাকাতেই বললেন, বাবা, এরকম ছোট মানুষ হয়ে তুমি এই নাটক বানাও!’ উনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। এছাড়া একটা শ্রেণি আছেন যারা প্রতিদিন নতুন এপিসোড চান। সেটি সম্ভব না হওয়ায় আমার ফেসবুক ডিজ্যাবল করে দিয়েছিলেন। 

591273489_2610076456040089_6529160831416147491_n

‘দেনা পাওনা’র পর কী নিয়ে ভাবনা? 

আরও একটা সিরিজ করব। গল্প এখনও সেভাবে ভাবিনি। তবে ‘দেনা পাওনা’কে সবাই যেরকম ভালোবাসছে এক্ষেত্রেও প্রত্যাশা সেরকম। 

৬ নাম্বার সহকারী থেকে একক পরিচালক। মাঝখানে ফ্রাস্টেশন, স্ট্রাগলের আধিপত্য কতটা? 

আমাদের কোনো স্ট্রাগল বা ফ্রাস্ট্রেশন ছিল না। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের সহকারী ছিলাম। সবাই পরিবারের মতো থাকতাম। কে ছয় নাম্বার, কে দুই নাম্বার— ধরে কেউ বসে থাকত না। একসাথে শুটিং, খাওয়া-দাওয়া, থাকা, পরদিন ফের শুটিং— এরকম আনন্দের মধ্যে কাজ করতাম। রাজ ভাইয়ের সঙ্গে কাজের সুবাদে আমাদের স্কুলিংটাও হয়েছে বেশ রাজকীয়ভাবে। 

নির্মাতার হওয়ার স্বপ্ন কখন ডানা মেলেছিল? 

নির্মাতা হওয়ার পরিকল্পনা কখনও ছিল না। স্কুলের শেষের দিকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। বিনয় মজুমদারের ‘ফিরে এসো চাকা’ পড়ে কবিতায় আগ্রহ জন্মায়। বাংলা সাহিত্য পড়া শুরু করি। অনুবাদ সাহিত্যও পড়তে থাকি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দিনসহ অন্যদের পড়তে পড়তে মনে হতে থাকে— এগুলো তো পর্দায় দেখাতে পারি! যেমন জসীমউদ্দিনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ পড়ে মনে হয়েছে— এটা একটা সিনেমাও হতে পারে। ওখান থেকে থেকেই নির্মাতা হওয়ার স্বপ্ন ডানা মেলে। 

481127376_2333363473711390_2561773172799770441_n

প্রত্যেক নির্মাতার স্বপ্ন সিনেমা বানানো। আপনার ক্ষেত্রে… 

ফিল্ম অবশ্যই বানাব। তবে এখনও প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। মাথায় অনেক গল্প ঘোরে। সেখান থেকে কোনো একটা হয়তো বেছে নেব। 

সিনেমার এই দুঃসময়েও স্বপ্ন দেখতে সাহস পান? 

সিনেমার অবস্থা খারাপ বলেই এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে গেছে। দুঃসময়ে ছেড়ে চলে যাওয়াটা দায়িত্বহীনতা। তাছাড়া শুধু বাণিজ্যিক দিক ভাবলে চলবে না। দেশকে এগিয়ে নিতেও কালচারাল মুভমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা-সংস্কৃতি যদি না উন্নত করা না যায় মনে হয় না দেশ এগিয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে ফিল্ম অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। তাই অবস্থা যা-ই হোক আমাদের শুরু করতে হবে। 

সামনে ভালোবাসা দিবস ও ঈদ। ব্যস্ততা কী নিয়ে? 

এই মুহূর্তে ‘দেনা পাওনা’ নিয়েই যত ব্যস্ততা। ঈদ বা ভালোবাসা দিবসের জন্য আলাদা করে কিছু ভাবা হয়নি। তবে ‘দেনা পাওনা’ নিয়ে ঈদের বিশেষ পর্বের পরিকল্পনা আছে। 

485183304_2351623011885436_5034396433286922646_n

‘দেনা পাওনা’র পাশাপাশি ‘এটা আমাদেরই গল্প’ পারিবারিক গল্প ভিত্তিক ধারাবাহিকের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা পালন করছে। নাটকটি দেখা হয়? 

অবশ্যই দেখি। ‘এটা আমাদেরই গল্প’ আমার বসের। ‘দেনা পাওনা’র যে দর্শকপ্রিয়তা সেটার কৃতিত্বও তার। কেননা ওনার কাছ থেকেই পরিবারের গল্প ডিল করা শেখা। ওই জায়গা থেকে মনে হয় ‘দেনা পাওনা’ যদি বস বানাতেন তাহলে আরও ভালো কিছু হতো। 

জনপ্রিয় সিরিয়ালের পরিচালক হওয়ার সুবাদে ইনবক্সে নিশ্চয় নারী শুভাকাঙ্ক্ষীর অভাব নেই? 

একেবারেই উল্টো। ইনবক্সে ছেলেদের নক বেশি আসে। তারা ‘দেনা পাওনা’ নিয়ে কথা বলেন। সিনিয়র সিটিজেনরা নক দেন। ভালো লাগা খারাপ লাগা প্রকাশ করেন। কিন্তু এটা সৌভাগ্য কি না দুর্ভাগ্য জানি না মেয়েরা আমাকে নক দেয় না। 

আরআর