বিনোদন ডেস্ক
০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
বলিউডে ১৮ বছরের দীর্ঘ পথচলা। বর্তমানে ভারতের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের তালিকায় তিনি অনন্য। তবে দীপিকা পাড়ুকোন মানেই কি কেবল গ্ল্যামার আর অভিনয়? না, এর বাইরেও তিনি একজন দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্ব, যিনি বার বার প্রথা ভেঙে সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরব হয়েছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) এই কালজয়ী অভিনেত্রীর ৪০তম জন্মদিন।
২০০৫ সালে মডেলিং দিয়ে শুরু করে ২০০৭ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘ওম শান্তি ওম’ দিয়ে বলিউডে পা রাখেন দীপিকা। এরপর দীর্ঘাঙ্গী এই অভিনেত্রী আর পেছনে ফিরে তাকাননি। কেবল পর্দায় নয়, বাস্তবের ময়দানেও তিনি একাধিক সাহসী সিদ্ধান্ত ও সামাজিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তৈরি করেছেন বিশেষ প্রভাব। আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দীপিকা এক অনুপ্রেরণার নাম।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সাহসী উচ্চারণ
২০১৫ সালে নিজের দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ (Depression) নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলে রীতিমতো ঝড় তোলেন দীপিকা। মানসিক অসুস্থতাও যে অন্য যে কোনো রোগের মতো স্বাভাবিক, সেই বার্তা ছড়িয়ে দিতে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘লিভ লভ লাফ’ (Live Love Laugh) নামের সংস্থা। আন্তর্জাতিক ফোরামেও তিনি নিজের লড়াই নিয়ে অকপট।
পারিশ্রমিকে বৈষম্যের প্রতিবাদ
বলিউডে নারী-পুরুষের পারিশ্রমিক বৈষম্য নিয়ে সবসময় সরব দীপিকা। পুরুষ সহ-অভিনেতার চেয়ে কম পারিশ্রমিক দেওয়ায় বড় প্রযোজকের সিনেমা পর্যন্ত ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। দীপিকা স্পষ্ট বলেছিলেন, ‘আমি আমার কাজের রেকর্ড এবং নিজের মূল্য জানি।’

কাজের ভারসাম্য ও নিজস্ব শর্ত
কর্মজীবনে ভারসাম্য আনতে দীপিকা ঘোষণা করেছেন, তিনি দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না। এমনকি বড় বাজেটের ছবি হাতছাড়া হলেও তিনি নিজের এই অবস্থানে অনড় থেকেছেন। দীপিকার এই দৃঢ় পদক্ষেপ অনেক সহকর্মীকেও কথা বলতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
আরও পড়ুন: পাপারাজ্জিদের জোর করে মদ্যপান করাতেন সঞ্জয় দত্ত
সাংস্কৃতিক সংহতি ও বিশ্ব নাগরিকত্ব
একজন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তিনি স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রতি সবসময় সম্মান প্রদর্শন করেন। কখনো তাকে আবু ধাবির মসজিদে হিজাব পরিহিত বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, আবার কখনো কান চলচ্চিত্র উৎসবে শাড়ি পরে ভারতীয় ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, পোশাক ও সংস্কৃতির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।

নারী অধিকার ও জেএনইউ আন্দোলন
নারীর শরীর, পোশাক এবং জীবনধারা নিয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্তের অধিকারকে সবসময় সমর্থন করেন দীপিকা। নারীর স্বাধীনতার গুরুত্ব বোঝাতে তিনি ‘ছপক’-এর মতো সিনেমা করতে উৎসাহিত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০২০ সালে জেএনইউ-তে এনআরসি ও সিএএ-বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সরাসরি সেখানে উপস্থিত হয়ে সংহতি জানান তিনি। তাঁর এই নীরব উপস্থিতি সেই সময় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিলেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন।
এজেড