বিনোদন ডেস্ক
২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২৩ এএম
পর্দায় চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতে জুড়ি মেলা ভার অভিনেত্রী তানজিন তিশার। কাজ করেছেন অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক ও ওয়েব সিনেমায়। নাম লিখিয়েছেন সিনেমায়। সিনেমাতে নাম লিখিয়ে একের পর এক অভিযোগে বিদ্ধ হচ্ছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
গতকাল সোমবার (২৪ নভেম্বর) টলিউড চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসার মরসুম’-এর প্রযোজক শরিফ খান অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে বড় অঙ্গের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন। প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে সামাজিকমাধ্যমে অফিশিয়াল বিবৃতি দিয়েছেন তিশা। ওই বিবৃতির শুরুতেই তিনি লেখেন, ‘ভালোবাসার মরশুম' সিনেমা ইস্যুতে আমার অফিসিয়াল বিবৃতি।’

এরপর তিনি লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় পরিচালক এম এন রাজের সঙ্গে আমার ‘ভালোবাসার মরশুম’ সিনেমাটি করার কথা ছিল সে বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে, যা আদতে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রটানো।’
তিনি আরও লেখেন, ‘প্রথমত, আমি যখন সিনেমাটি সাইন করি আমার আইনজীবীর মাধ্যমে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করি। সেখানে পরিস্কারভাবে উল্লেখ ছিল, ‘আমার বিদেশ ভ্রমণ সম্পর্কিত যাবতীয় দায়িত্ব ডিরেক্টর এবং প্রডিউসারের। অর্থাৎ ভিসা, ফ্লাইটের জন্য টিকিট এবং সেখানে থাকা, খাওয়ার সকল দায়িত্ব তাদের।’ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার তারা আমার ভিসা করিয়ে দিতে পারেননি। এমনকি আমি নিজেও ব্যাক্তিগত চেষ্টা করেছি কিন্তু ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হই।’

এই তারকা যোগ করেন, ‘ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা যেহেতু চুক্তিপত্র অনুযায়ী ডিরেক্টরের দায়িত্ব, তাই এই বিষয়ের জন্য আইন অনুযায়ী কোনো দায় আমার হতে পারে না। এটি ডিরেক্টরের ব্যর্থতা। ওইসময়ে ২ মাস ভিসার জন্য অপেক্ষা করেছি এবং এরমধ্যে ভিসা হয়নি। ফলে তারা অন্য একজনকে আমার সাথে চুক্তিবদ্ধ রুলের জন্য ইনক্লুড করেন এবং তাকে দিয়ে অভিনয় করায়। আমি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের একটি সিনেমাতে চুক্তিবদ্ধ হই যা বর্তমানে শুটিং চলমান।’
ভারতীয় সিনেমা থেকে সরে আসার কারণ উল্লেখ করে তিশা লিখেছেন, ‘একটি সিনেমা আমার পেশাগত সম্মানের একটি জায়গা। যা আমি কখনোই নষ্ট করতে চাইনি বা চাইব না। কিন্তু পরিচালক তার ব্যর্থতার জন্য শিডিউল অনুযায়ী কাজ শুরু করতে পারেনি এবং নতুন একজনকে সেখানে চুক্তিবদ্ধ করে নিয়েছে তাই বাধ্য হয়েই আমাকে সেখান থেকে সরে আসতে হয়েছে। কিন্তু লাইন প্রোডিউসার শরিফ খান এখন আমাকে বলছেন এক-তৃতীয়াংশ টাকা ফেরত দিতে। আমার আইনজীবীকে বলছে কিছু টাকা ফেরত দিলেই হবে, আবার সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে আমার ক্যারিয়ারের ক্ষতিগ্রস্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে, যা একটি অপচেষ্টা মাত্র।’

আদালতের নির্দেশনা পেলে প্রযোজকের টাকা অবশ্যই ফেরত দেবেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তিশার কথায়, ‘আমার সাথে যে চুক্তিপত্র হয়েছে, সেখানে ডিরেক্টর ভূলের কারণে কোনো সমস্যা হলে আমাকে টাকা ফেরত দিতে হবে এমন কোনো চুক্তি নেই। আমি সর্বদা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন মানুষ। আইন-আদালতে যদি তারা প্রমাণ করতে পারে যে আমি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য এবং আদালত এমন নির্দেশনা প্রদান করেন তাহলে আমি অবশ্যই তা মেনে নিব এবং টাকা ফেরত দিব।’
সবশেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘যেসব সাংবাদিক ভাইয়ারা না জেনে কিংবা ভুল তথ্য জেনে আমার সাথে কথা না বলেই প্রচার করছেন এবং যেসব সাংবাদিক ভাইয়ারা আমার সত্যটা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই, ‘আপনারা সবটুকু জেনে সত্যটাই প্রকাশ করবেন আমি এইটুকু আপনাদের কাছে আশা করতে পারি।’
ইএইচ/