বিনোদন ডেস্ক
০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫৭ এএম
জামালপুরের এক প্রত্যন্ত অঞ্চালে তার জন্ম। শৈশোব-কৈশোর কেটেছে সেই গ্রামের মেঠো পথে। মাটির গন্ধে বেড়ে ওঠা ছেলেটি একসময় জায়গা করে নিয়েছিল সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে। অভিনয়ের মাধ্যমে হয়ে উঠেছিলেন এক মুকুটহীন সম্রাট। বলছি ‘নবাব সিরাজউদৌলা’ ছবির নবাব আনোয়ার হোসেনের কথা।
সালটা ১৯৬৭, ‘নবাব সিরাজউদৌলা’ এই একটি সিনেমা বদলে দেয় পুরো চিত্র। নবাবের রাজকীয় গাম্ভীর্য, হৃদয়ের বিদ্রোহ আর বিখ্যাত সংলাপ নজর কড়েছিলেন আনোয়ার হোসেন। ‘বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার মহান অধিপতি, তোমার শেষ উপদেশ আমি ভুলিনি জনাব…’ এই একটি বাক্যে অমর হয়ে যান তিনি।

সিনেমার প্রয়োজনে নতুন চরিত্রের জন্য নিজেকে ভেঙে-গড়েছেন আর শেষমেষ পৌঁছেছেন এমন এক জায়গায় যেখানে মানুষ শুধু একজন অভিনেতা নয় তাঁকে দেখেছেন শিল্পের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন ৫০০ এর বেশি ছবি। সে সব সিনেমার চরিত্রগুলো আজও দর্শক হৃদয়ে জীবন্ত হয়ে রয়েছে। তার মৃত্যুর পর নতুন চরিত্রের সৃষ্টি না হলেও তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। আজ কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর এ কে এম নজির হোসেন ও সাঈদা খাতুন দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নেন তিনি।
শিক্ষাজীবন থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আনোয়ার। ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের প্রথম বর্ষে থাকাকালীন আসকার ইবনে শাইখের ‘পদক্ষেপ’ নাটকে অভিনয়। এরপর ১৯৫৮ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ ছবিতে খল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক।

১৯৬২ সালে সালাহউদ্দিন পরিচালিত ‘সূর্যস্নান’ ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
বিনোদন অঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য একুশে পদক, নিগার পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা পান আনোয়ার হোসেন। দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন এবং ২০১০ সালে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।
ইএইচ/