০২ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:০৫ পিএম
গত বছরের মার্চ মাসে আমার তানপুরা সংক্রান্ত এই ঘটনা আমি আপনাদের জন্য প্রকাশ করেছিলাম। ঘটনাটি অনেকটা গল্পের মতো। কিন্তু অনেকেই পছন্দ করেছিলেন বলে আবারও স্মৃতির পাতা থেকে তুলে আনলাম। তবে ছবিটা সেই তানপুরাটা নিয়ে একদম সম্প্রতি তোলা।
১৯৮৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস। দিল্লিতে প্রচন্ড গরম। আমি থাকি কামানি অডিটরিয়ামের পাশেই শ্রীরাম ভারতীয় কলা কেন্দ্রের হোস্টেলে। সামনে আমাদের ইনস্টিটিউট বা কলাকেন্দ্র আর পেছনে একটা মাঠ এবং হোস্টেল। হোস্টেলটি দুই ভাগে বিভক্ত। এক পাশে মেয়েরা আরেক পাশে ছেলেরা থাকে। আমাদের ছেলেদের পাশের চারতলার একটা ডাবল রুমে আমি একা থাকি। রুমে উঠেছি মাত্র সপ্তাহখানেক। আমার সঙ্গে আছে একটা ম্যানুয়াল অনেক বড় তানপুরা। নাটোরের রাজবাড়ির জন্য এই তানপুরা বানানো হয়েছিল কিন্তু মূল ক্রেতা অর্ডার করার পরেও দীর্ঘদিন সেটা গ্রহণ না করায় আমি ৮৬ সালে শান্তিনিকেতনের একজন বাদ্যযন্ত্র বিক্রেতার কাছ থেকে তানপুরাটি সেই সময় ভারতীয় ৯৫০ টাকায় কিনেছিলাম। বিশাল মেল(পুরুষ) তানপুরা। অনেক কারুকাজ করা।
ভোরবেলা উঠে সেটা মিলিয়ে নিয়ে আমার রেয়াজ শুরু হতো। আমি একটানা দুই-আড়াই ঘণ্টা কণ্ঠ সাধনা করে উঠতাম। তারপর নাস্তা খেয়ে ক্লাসে চলে যেতাম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে মধ্যাহ্নভোজের পরে আমার একটু দিবানিদ্রার অভ্যাস। দিল্লিতে আমার এই সুযোগটা ছিল, কিন্তু আমার ঘুমটা কোনো সময়ই খুব স্বস্তির হচ্ছিল না। দিনের বেলায় তো নয়-ই, রাতেও প্রচন্ড গরমে ভীষণ কষ্ট হতো। ফ্যান চলত কিন্তু ফ্যানের হাওয়া যেন আরও বেশি গরম বইয়ে দিত। সাত আট দিনের মাথায় হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল। তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় আমি খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আমার তানপুরাটা বেজে উঠেছে। ঘরে তো আর কেউ নেই। ঘরে দুটো দরজা, পেছনের বারান্দার দিকে বাইরে যাওয়া যায় কিন্তু সেটা খোলা থাকলেও সে দিক দিয়ে তো কারও ঢোকার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ আমি থাকি চারতলায় আর সামনের দরজা বেশ শক্ত ছিটকিনি দিয়ে বন্ধ।
আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে বোঝার চেষ্টা করছি যে, আমি কি আসলে স্বপ্ন দেখছি। নিজ হাতে চিমটি কেটে বুঝলাম আমি পুরোপুরি জাগ্রত কিন্তু আমার আধবোজা চোখে বাইরের থেকে ঘরে ঢোকা মৃদু আলোয় আমি পুরো ঘরই দেখতে পাচ্ছি। তানপুরাটা ঘরের এক কোনায় একটা বিড়ার উপরে সেট করে দেয়ালের সঙ্গে বাঁধা এবং সেটা খানিকটা বেজে ওঠে থেমে যাচ্ছে। এটা কি আমার সোনার ভুল নাকি বাইরে থেকে আওয়াজটা আসছে। না, একটু পরেই যন্ত্রটা আবার বেজে উঠল। আমি খানিকটা কম্পিত পায়ে, দুরু দুরু বুকে উঠে লাইট জ্বালালাম। দেখলাম ঘরে কেউ নেই। ঘরটা এমন কিছু বড় নয়, ফলে সেখানে যে কেউ লুকিয়ে আছে সেটা সম্ভব নয়। তানপুরাটার কাছে গিয়ে দেখলাম সেটার তারগুলো তখনো একটু কাঁপছে এবং তার পুরো শরীরেও একটা হালকা অনুরণন আমি বুঝতে পারলাম। বাকি রাত আমি আলো জ্বালিয়ে বসে থাকলাম। এই বিষয়টা কাউকে বললে বিশ্বাস করবে কি না বুঝে পাচ্ছিলাম না। আমি খুব বিশ্বাস করার চেষ্টা করলাম যে, এটা আমার শোনার ভুল, দেখার ভুল এবং অনুভবের ভুল।
পরের দিন আমার খুব উৎকণ্ঠায় গেল এবং আমি কারও সঙ্গেই বিষয়টা আলাপ করতে পারলাম না। দিল্লিতে ওই মুহূর্তে আমার অনেক বন্ধু, বান্ধবী। কিছু বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী থাকে হোস্টেলে আর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী বন্ধুরা তো ছিলই। কিন্তু কারও সাথে এই আলাপ করা খুব যুক্তিযুক্ত মনে হলো না। আমার ক্লাস একদিন গ্যাপ দিয়ে দিয়ে হয় ফলে পরের দিন ক্লাস ছিল না। সারাদিন ভীষণ অস্বস্তিতে কাটালাম। রাতেও আমার ঘুমটা হলো জাগরণের মধ্যে। আমি খুবই ভয়ে ভয়ে অপেক্ষা করছিলাম কখন না আবার তানপুরাটা বেজে ওঠে। ভাগ্য ভালো সারারাত আর কিছুই হলো না, তাই ধরে নিলাম সেটা ছিল আমার ভ্রম এবং তারপর খানিকটা সুস্থির হয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। পরের দিন ক্লাসে গুরুজীকে কয়েকবার বিষয়টা বলার চেষ্টা করেও বলতে পারলাম না। হয়তো উনি বিশ্বাস করবেন না এবং আমি যেহেতু তখন মাত্র শান্তিনিকেতন থেকে ট্রান্সফার নিয়ে এসে দিল্লিতে ভর্তি হয়েছি শুরুতেই গুরুজীর কাছে নিজের ওজন খাটো করতেও সংকোচ বোধ করছিলাম।
পরের দিনটা আমার যথারীতি অস্বস্তিতে কাটল কিন্তু পরপর দুদিনের নির্ঘুম ক্লান্তির কারণে আমি রাতে বেশ তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গেলাম। কিন্তু আবার মাঝরাতে কিছু একটা অনুভব করে আমার ঘুম ভেঙে গেল এবং আমি আবার শুনলাম তানপুরাটা বাজছে। আমি আবার বাতি জ্বালালাম। ঘরে কেউ নেই। আজকে পেছনের দরজাটাও আমি বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এই ঘরের ইতিহাস কী? এখানে কি কোন রহস্য লুকিয়ে আছে? তখন আমি প্রচুর বই পড়তাম। নানা রকম রহস্য গল্প, ভুতুড়ে গল্প পড়ে মস্তিষ্ক নানান ধরনের অলীক চিন্তায় হয়তো ভরপুর থাকত। আমি বাতি জ্বালানোর পরে অবশ্য আর কোনো আওয়াজ হলো না। পরের দিন গুরুজীকে আমি ক্লাসে বিষয়টা লজ্জার মাথা খেয়ে বললাম। গুরুজি শুনেই বললেন, তুমি এটা শুনে ঘাবড়িও না। তানপুরা যদি খুব সুরে বাঁধা হয় এবং ওয়েদার ফ্রিকোয়েন্সির সঙ্গে যদি মিলে যায় তাহলে প্রকৃতি খুব নিস্তব্ধ থাকলে সেটা বেজে উঠতে পারে, কারণ তারের জোয়ারি এতই সুক্ষভাবে সুতোর ওপরে আটকানো থাকে যে সামান্য প্রাকৃতিক সহযোগিতা পেলেই সে কেঁপে উঠতে পারে এবং ওই সামান্যতেই তানপুরা বেজে উঠতে পারে। খুবই আশ্বস্ত বোধ করলাম তারপরেও এই অকারণ বেজে ওঠা যেহেতু আমাকে আতঙ্কিত করছিল আমি তানপুরাটা পরের দিন একটা কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলাম এবং বেশ স্বস্তিতেই ঘুমিয়ে রাত পার করলাম।
দিন চলছে এভাবে। কয়েকদিন যাবার পরে হঠাৎ একদিন ঘরের মধ্যে ঘুঙুরের আওয়াজ। আমাদের হোস্টেলে অনেক নাচের মেয়ে থাকে। নাচের ছেলেও থাকে। কেউ কি রাতে প্র্যাকটিস করছে? কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমার ঘরের মধ্যেই ঘুঙুরের আওয়াজ। আমি আবারও আধবোজা চোখে হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম ঘরের মধ্যে সত্যি কি কেউ আছে? আমি ঘরের মধ্যে দেখলাম আমার বিছানার বিপরীতে যে খালি জায়গা সেখানে একটা ছায়াছায়া অবয়ব। একদম পুরো একটা মানুষের মতোই। আমি খুব একটা সাহসী মানুষ নই, কিন্তু খুব ভীতুও নই। আমার গলা দিয়ে খুবই কম্পিত স্বরে বেরিয়ে আসলো, কে কে? অদ্ভুতভাবে ইংরেজিতে উত্তর আসলো, This was my room. I came here to learn bharatanatyam dance from a country which is far away from India. অর্থাৎ এটা আমার ঘর ছিল। আমি অনেক দূরের একটা দেশ থেকে ইন্ডিয়াতে এসেছিলাম ভরতনাট্যম নাচ শেখার জন্য।'
আমার খুব বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল যে, আমি একটা ছায়ার সঙ্গে কথা বলছি এবং আমার ঘরে আমি জেগে আছি। আমি কেমন যেন স্থবির হয়ে গেলাম। আমার যেন কিছুই করার নাই। উঠে যে আমি দৌড়ে বেরুবো সেটাও পারছি না। আমার হাত পা যেন কেউ বিছানার সাথে পেরেক দিয়ে আটকে দিয়েছে। কিন্তু যেহেতু কথা বলতে পারছি, আমি জিজ্ঞেস করলাম তুমি এখন কোথায়? তোমাকে ছায়ার মতো দেখাচ্ছে কেন? তুমি কি আমার কোনোরকম দৃষ্টিভ্রম নাকি কোনো অশরীরী আত্মা? তখন সে যা বলল তার মর্মার্থ হচ্ছে, এই দেশে এসে নাচ শিখতে শিখতে আমি একটি ভারতীয় মেয়ের প্রেমে পড়ি যে নিজেও নৃত্যশিল্পী ছিল। আমার নাচের সঙ্গে যতটা প্রেম তার থেকে সেই মেয়েটির প্রতি আমি আকৃষ্ট হয়েছিলাম আরও বেশি। সেও আমাকে কথা দিয়েছিল কিন্তু কিভাবে কিভাবে যেন সে এক সময় আমাকে ছেড়ে অন্য একটি ছেলের সঙ্গে মিশে তার প্রেমিকা হয়ে গেল। আমি অনেক সহ্য করেছি, করার চেষ্টা করেছি কিন্তু পারি নাই, এই জীবন আমার কাছে অর্থহীন হয়ে গেছে। এই ঘরেই আমি হাতের রগ কেটে তুমি যে বিছানায় শুয়ে আছ, ওই বিছানাতেই আমার জীবন শেষ করেছি। এই মেঝেতে রক্তের ধারা ছিল, তুমি তাকিয়ে দেখো এখনো সেই রক্তের ধারা। আমি কোনোক্রমে চোখ সরিয়ে দেখলাম যে লাল একটা সরু ধারা সামনের দরজার তলা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেছে। আমি কখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম জানি না। তারপর যখন জ্ঞান ফিরল ভোরের আলো ঘরে ঢুকে পড়েছে। আমি কোনোরকমে বিছানা ছেড়ে বাথরুমে ঢুকে মাথায় পানি ঢাললাম। প্রচুর পানি ঢালার পরে মনে হল যে আমি একটু স্বস্তিবোধ করছি। আমি ঘরে ফিরে এলাম। রাতে আমি পরিষ্কার দেখছিলাম রক্তের ধারা আমার বিছানা থেকে বেরিয়ে গেছে দরজার বাইরে সেখানে তাকিয়ে খুঁজবার চেষ্টা করলাম। না, কোনো রক্ত টক্ত নেই। আমি খুব তীক্ষ্ণ চোখে মেঝের একদম কাছে গিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম। কেমন যেন মনে হলো একটা কালচে দাগ চলে গেছে সরু সুতোর মতো দরজার দিকে। এটা কি আসলে সত্যিই দেখছি, না আমার মনের ভ্রম জানি না।
সকালে আমি রেয়াজে বসতে পারলাম না, ঠিকমতো নাস্তা করতে পারলাম না। কলাকেন্দ্রের ক্লাস শুরু হওয়ার পরে আমি অফিসে চলে গেলাম সোজা প্রিন্সিপালের কাছে। আমি তার কাছে গিয়ে বললাম যে, আমি যে রুমটায় আছি আমার খুব হ্যালুসিনেশন হচ্ছে। আমাকে রুমটা বদলে দেন। এই ঘরে আমার সাথে এরকম একটা ঘটনা হয়েছে আপনাকে যদি আমি বলি জানি আপনি বিশ্বাস করবেন না। আমি জানি এগুলো সব নানান ধরনের সাইফাই এবং ভুতুড়ে গল্প পড়ে আমার মাথার মধ্যে অনেক জট পাকিয়ে গেছে, হয়তো মাথা নিজে নিজেই চিন্তা করে এগুলো বানিয়েছে। কিন্তু আমার পক্ষে ওই ঘরে থাকা সম্ভব না। প্রিন্সিপাল আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকালেন। বেশ অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন তুমি ওই ঘরেই থাকো, আমি তোমাকে একজন রুমমেটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এই সমস্যা থাকবে না। এরকম আগেও হয়েছে এবং এটা সত্যি যে ওই ঘরে একটি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ছেলে থাকতো, যে নাচ শিখত এবং সে হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করেছিল। আমি নির্বাক অনেকক্ষণ প্রিন্সিপালের চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমার ঘরে একজন চাইনিজ রুমমেটকে দেয়া হলো এরপরেও বেশ কিছুদিন আমি ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি কিন্তু আর তেমন কিছু ঘটে নাই। ভেবেছিলাম তানপুরাটা আবার বাজবে, কিন্তু আমি তো নিজেই তার বাজার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি। আমি তাকে কাপড়ে ঢেকে দিয়েছি। কাপড় দিয়ে ঢেকে তার জীবন ফিরে পাওয়ার রাস্তা আমি নিজেই বন্ধ করে দিয়েছি।
সেই সময় দিল্লি থেকে কলকাতায় এবং শান্তিনিকেতনে ফোন করা ছিল বেশ ব্যয়সাধ্য, তারপরও আমি একটা কয়েন বক্সে গিয়ে আমার শান্তিনিকেতনের বন্ধু সঞ্জয়কে ফোন করলাম। সঞ্জয় আমাকে তানপুরাটা কিনতে ওই দোকানে নিয়ে গিয়েছিল। ওকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি একটু তানপুরা বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করো তো একটা ২০০০ রুপির তানপুরা সে আমাকে অর্ধেকেরও কম দামে অর্থাৎ মাত্র ৯৫০ টাকায় কেন দিয়েছে, আর এটার সঙ্গে কোনো গল্প জড়িয়ে আছে কি না? সঞ্জয় আর আমাকে কোনো ফোন করে নাই। আমার অপেক্ষার প্রহর কাটতে কাটতে এক সময় ভুলে গেলাম ব্যাপারটা। হঠাৎ একদিন দেখি একটা হলুদ খামে একটা অপরিচিত হাতে লেখা চিঠি এসে গেছে শান্তিনিকেতন থেকে। চিঠিটা সঞ্জয়েরই লেখা। সে লিখেছে, এই তানপুরাটা বিক্রি হচ্ছিল না। এটা নাটোরের রাজ পরিবারের একজন ছেলে ভীষণ সংগীতে শৌখিন, সে অর্ডার দিয়েছিল। কিন্তু ছেলেটা তানপুরাটার ডেলিভারি নেওয়ার আগেই মারা গিয়েছিল। পরে খবর নিয়ে জেনেছি যে তাকে বিষ খাইয়ে মারা হয়েছে এবং তার নববিবাহিতা স্ত্রী এই কাণ্ডটা করেছেন। তিনি এখন জেলে আছেন।
তানপুরাটা নিতে কেউ আসে নাই, এজন্যই সম্ভবত বিক্রেতা এত কম দামে তানপুরাটা তোমাকে বিক্রি করে দিয়েছে। তার সঙ্গে হয়তো তানপুরাটার কোনো অদ্ভুত আচরণ ছিল যে কারণে সে দ্রুত এটা ছেড়ে দিয়ে ঝামেলা মুক্ত হয়েছিল। আমি তানপুরাটার দিকে তাকালাম। কী রাজকীয় নির্বিরোধী চেহারা। এটা দিয়ে আমি রোজ রেয়াজ করি। এরপরে রেয়াজ করতে কেমন যেন একটু ভয় ভয় করতে লাগলো, কিন্তু কিছুদিন পরে ভয়টা কেটে গেল এবং আমি অনুভব করতে লাগলাম যে আমার সুরের মধ্যে একটা গভীরতা আসছে এবং কেউ যেন আমাকে সুরে রাখবার জন্য একটা অদ্ভুত অনুরণন আমার মধ্যে পৌঁছে দিচ্ছে। আমার কাছে এই ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা নাই। এটা হয়তো একান্তই আমার একটা কষ্ট কল্পনা। আমি ঢাকায় ফিরে বেশ ক'বছর এটা ব্যবহার করেছিলাম। এটাকে এখন তুলে রেখেছি। আমি এখন গান করি একটা ইলেকট্রনিক তানপুরা বাজিয়ে, কিন্তু ম্যানুয়াল তানপুরাটা কোনো কাপড় বা কাভার দিয়ে ঢাকা থাকুক বা না থাকুক, সে আর কখনোই নিজে নিজে বেজে ওঠেনি।
লেখক: প্রখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী এবং নজরুল গবেষক।
(লেখকের ওয়াল থেকে তার অনুমতি সাপেক্ষে নেওয়া )