রাফিউজ্জামান রাফি
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৭ পিএম
প্রচলিত আছে— দুই নৌকায় পা রাখা বিপজ্জনক। তবে সেই কাজটি সাফল্যের সঙ্গে করছেন এরফান মৃধা শিবলু। গান দিয়ে একাধিকবার নেড়েচেড়ে দিয়েছেন দেশ। ক্যামেরায় দাঁড়িয়েও মুগ্ধ করছেন দর্শককে। সম্প্রতি জনপ্রিয় এ অভিনেতা ও সংগীতশিল্পীর আলাপ জমেছিল ঢাকা মেইলের সঙ্গে।
অনেক দিন হলো নতুন গান আসছে না…
এখন শুধু গান করলেই হয় না। মিউজিক ভিডিও আবশ্যক। সেজন্য একটা প্রস্তুতির প্রয়োজন। সেটাই নিচ্ছি। দেখা যাক কী হয়। এরমধ্যে অবশ্য কবীর বকুল ভাইয়ের কথায় একটি গান করেছি। সম্ভবত অনুদানের সিনেমার। সেটা কবে আসবে জানা নেই। তবে ‘হাওয়া’ সিনেমার ‘সাদা কালা’ এবং কোক স্টুডিও বাংলার ‘কথা কইও না’— দুটি গানই আমার ক্যারিয়ারের হিট গান। ওই জায়গা থেকে এমন একটি গান আনতে চাই যেটি এই দুটিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। সে কারণেই সময় নিচ্ছি।

আপনাকে দর্শক-শ্রোতার দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে গান না কি অভিনয়ের অবদান বেশি?
আমি ক্যামেরার পেছনের লোক ছিলাম। মাঝে মাঝে সামনে কাজ করতাম। তবে নিয়মিত না। গানও নিয়মিত করা হতো না। বন্ধু-বান্ধবের আড্ডায় করতাম। মেজবাউর রহমান সুমন ভাই ‘সাদা কালা’ গানটির মাধ্যমে আমাকে গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করান। অভিনয়টা দেখতে হয়। কিন্তু গানের ব্যাপারটা একেবারে আলাদা। এটি শোনা যায়। দেখার চেয়ে শোনা সহজ। অনেকের না শুনতে চাইলেও শুনতে হয়। ফলে গান ও গানের শিল্পী সম্পর্কে আগ্রহ জন্মায়। ওই জায়গা থেকে মনে হয়েছে আমাকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে পরিচিত করে তুলতে গানের ভূমিকা শক্তিশালী। অভিনয়টাকেও ফেলে দিতে পারি না। কেননা একটি অংশ আছে আমার গানও শুনেছেন অভিনয়টাও নিয়মিত দেখছেন। ওই জায়গা থেকে অভিনয়েরও অবদান রয়েছে।
সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত কনটেন্টগুলোতে আপনার চরিত্রের পরিধি ছোট। বড় পরিসরে দেখা যাবে কি সামনে?
সম্প্রতি কাজল আরেফিন আমির ‘হাউ সুইট’ নামের একটি ওয়েব ফিল্মে কাজ করেছি। ঈদে মুক্তি পাবে। এতে আমার স্ক্রিন টাইম অনেক বেশি। মনে হয়েছে এই প্রথম আমার কোনো চরিত্রের দৈর্ঘ্য এত বেশি। এটা আমার পছন্দের চরিত্র। বাকিটা দর্শকের ওপর নির্ভর করবে।

চরিত্রের দৈর্ঘ্য ছোট হলে দর্শকের চোখে পড়াটা কি কষ্টকর?
এভাবে ভাবি না। গল্পটাকেই আসল মনে হয়। চরিত্র ছোট বড় ব্যাপার না। গল্প ভালো লাগলে আমি না করি না। চরিত্র যত ছোটই হোক কাজে লাগাতে পারলে ভালো ফিডব্যাক আসে।
নতুন কাজ সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি…
এ বছর আমার অভিনীত ‘জংলি’ সিনেমাটি আসবে। আলোক হাসানের ‘টগর’ ছবিতে কাজের কথাবার্তা হয়েছে। শিগগিরই শুটিং শুরু হবে। এর বাইরেও কাজ করছি।

কাজের সময় কোন জিনিসটা মাথায় রাখেন?
নিজের কাজটা নিজে উপভোগ করছি কি না। আমার কাছে যদি ভালো লাগে তাহলে দর্শকের কাছেও ভালো লাগবে। যখন থেকে কাজ করছি তখন থেকে এটা মাথায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করি।
গান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
অভিনয়ে আমার বেশিদিন হয়নি। বছর দুয়েক হলো নিয়মিত করার চেষ্টা করছি। তবে আমি একটা মানুষের সঙ্গেই সারাজীবন গান করতে চাই। তিনি ইমন চৌধুরী। এই মানুষটি ছাড়া অন্য কারও সাথে আমার গান করার ইচ্ছা নেই। আমাদের একটি গানের দল আছে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘বেঙ্গল সিম্ফনি’।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত চরিত্র আছে কী?
এটা প্রত্যেক অভিনয়শিল্পীর থাকে। আমারও আছে। নেতিবাচক চরিত্রগুলো ভালো লাগে। ছোটবেলা থেকেই। যখন কোনো নাটক-সিনেমা দেখতে থাকি তখনও নেতিবাচক চরিত্রগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখি।
আরআর