বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০৬ মে ২০২৩, ০৮:৫১ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদকে সবধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
শনিবার (৬ মে) দলটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তেরও গভীর নিন্দা জানায় সংগঠনটি।
সাদা দলে দাবি, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে এনসিটিবিকে মামলা করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন স্বনামধন্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যায়তনিক স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করেছে। পাশাপাশি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে একাডেমিক ডিসকোর্স হবে, থিসিস ও পাল্টা থিসিস উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের প্রয়াস চালানো হবে এটিই প্রত্যাশিত। কিন্তু সাদা দল উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছে যে, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ডিসকোর্স, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও মুক্তবুদ্ধিচর্চার ঐতিহ্যকে নস্যাৎ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরকার তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, অধিকতর শাস্তির আওতায় আনার জন্য সরকারকে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও শাসনকে অকার্যকর করে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের অন্যায্য দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্যও স্বায়ত্তশাসন খর্ব হয় এমন সরকারি উদ্যোগ দৃঢ়তার সাথে সাথে মোকাবিলা করেছে। সরকারের আক্রোশের হাত থেকে শিক্ষকদের রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি যৌক্তিক ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসন বা শিক্ষক সমিতি সে দায়িত্বতো পালন করছেই না, বরং সরকারের কৃপা লাভের মাধ্যমে নিজেদের কায়েমি স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে অনেক ক্ষেত্রে আগ বাড়িয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে, এমনকি শিক্ষক সমাজের সাধারণ পেশাগত স্বার্থের পরিপন্থী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সাদা দল দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চায় যে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসীনদের অনুকম্পা লাভের জন্য সহকর্মীদের শাস্তি দেওয়া না, বরং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাডেমিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন ও মুক্তবুদ্ধিচর্চার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষক সমিতির দায়িত্ব। এ দায়িত্ব এড়িয়ে বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতিসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক ও মুক্তবুদ্ধিচর্চার ঐতিহ্যকে নস্যাৎ না করার জন্য সালা দল সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি জোর দাবি জানায়। এতদবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকবান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দেশের সুধী সমাজকেও সোচ্চার হওয়ার জন্য সাদা দল আহ্বান জানায়।
এর আগে ২০০৯ সালে প্রকাশিত একটি গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানো হয়েছে- এমন অভিযোগে এলপিআরে থাকা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিদানসহ ভবিষ্যতে যেকোনো একাডেমিক কাজে তার যুক্ত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করার মাধ্যমে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর আমানুল্লাহ ‘পাঠ্যপুস্তক, সরকারের শিক্ষানীতি ও ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস' চালিয়েছেন- এমন অভিযোগ এনে ভবিষ্যতে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকার ও আচরণ করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার শর্তে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
প্রতিনিধি/জেবি