images

শিক্ষা

১৯ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চলে কীভাবে?

সেলিম আহমেদ

৩০ আগস্ট ২০২২, ০৯:৪৬ এএম

নেই ভিসি-প্রো-ভিসি, নেই ট্রেজারারও— তারপর চলছে দেশের ১৯ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলো ফাঁকা রেখে কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। শুধু তাই নয় একাডেমিক কার্যক্রম চলমান থাকা দেশের ১০০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪১টিতে নেই ভিসি, ৭৬টিতে নেই প্রো-ভিসি। এছাড়া  ট্রেজারারবিহীন চলছে ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয়। 

এদিকে ভিসি, প্রো-ভিসি কিংবা ট্রেজারারের বাইরেও শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন পদ ফাঁকা রয়েছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন— অভিভাবকহীন এসব প্রতিষ্ঠানে যেমন একাডেমিক কার্যক্রম ভেঙে পড়ছে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার মান ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরও। খোদ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনও (ইউজিসি) বলছে, অনিয়ম করতেই ইচ্ছা করে ওইসব বিশ্ববিদ্যালয় পদগুলো শূন্য রেখেছে। 
 
ইউজিসির তথ্যমতে— দেশে বর্তমানে ১০৮টি বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুমোদন দেওয়া হলেও পাঠদান চলমান আছে ১০০টিতে। বাকি ৮টির মধ্যে ৬টি শিক্ষা কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর বাইরে ১টি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে দ্বন্ধ ও একটি অনুমোদন পেলেও পাঠদান শুরু করতে পারেনি।

অন্যদিকে ইউজিসি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্টরা এই পদে নিয়োগ না দিয়ে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) সদস্যরা নিজেদের মতো করে পরিচালনা করছেন। 
 
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী— ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার এই তিন পদে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় চ্যান্সেলর। তবে প্রাথমিক কাজটি করে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইউজিসির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব আসার (প্যানেল) পর তারাই সরকারের কাছে এসব পদে নিয়োগের জন্য প্রস্তাব পাঠায়। সেটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যায়।
 
আইন অনুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এই তিন পদে নিয়োগ দিতে একেকটি পদের বিপরীতে তিনজন অধ্যাপকের নাম প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেগুলোর ইউজিসির মাধ্যমে যাচাই করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে রাষ্ট্রপতি একজনকে নিয়োগ দেন। তবে দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম না মেনে নিজেরাই এসব পদ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বছরের পর বছর শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালায়। 

অভিযোগ রয়েছে— অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের প্যানেল সরকারের কাছে না পাঠিয়ে নিজেদের মতো করে একটি প্যানেল পাঠায়। পরে সেটি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত আসে। এরপর থমকে যায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড এবং মালিকরা তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়।
 
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব ড. ফেরদৌস জামান বলেন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ডের অনীহার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শীর্ষপদ ফাঁকা থাকছে। ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারারের নামের ক্ষেত্রে তিনটি নামের প্রস্তাব পাঠানোর কথা থাকলেও তারা তাদের নিজেদের মনঃপূত একজন ও যোগ্য নন এমন দু’জনের নাম পাঠায়, যে কারণে তাদের প্রস্তাব পাস হতে বিলম্ব হয়। এই সময়ের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বসিয়ে অনেক অনিয়মে লিপ্ত থাকে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনিয়ম ঠেকাতে সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার পাশাপাশি ইউজিসির ক্ষমতায়ন জরুরি।’
 
যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার
চলতি মাসে প্রকাশিত ইউজিসির তথ্যমতে— ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার নেই সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, দি পিপল’স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, চুয়াডাঙ্গার ফাস্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স, চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, গাজীপুরের জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, কুমিল্লার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মানিকগঞ্জের এনপিআই ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, খুলনার নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনার খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশালের ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি। 
 
যে ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই ভিসি
গণ বিশ্ববিদ্যালয়, দি পিপল’স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, সেন্ট্রাল উইমেনস ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, স্টামফোর্ট ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, চুয়াডাঙ্গার ফাস্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ফেনী ইউনিভার্সিটি, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, গাজীপুরের জার্মান ইউনিভার্সিটি, কুমিল্লার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মানিকগঞ্জের এনপিআই ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, খুলনার নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চট্টগ্রাম, বরিশালের ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ, খুলনার খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশালের টাস্ট্র ইউনিভার্সিটি।

প্রো-ভিসি নেই যে ৭৬ বিশ্ববিদ্যালয়ে
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ প্রো-ভিসি নেই এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় রয়েছে, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, নর্থ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-সৈয়দপুর, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-কাদিরাবাদ, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-কুমিল্লা, দি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স, কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়, আনোয়ার খান মর্ডান ইউনিভার্সিটি, জেড এম ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স, বান্দরবন বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি।

ট্রেজারার নেই যে ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে
ট্রেজারার পদশূন্য বাকি বিশ্ববিদ্যালয়-ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাকিফিক, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, টেস্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, পুণ্ড ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, সিলেট নর্থ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ফাস্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, টাইমস্ ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, দি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স, এনপিআই ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, খুলনার নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়, আনোয়ার খান মর্ডান ইউনিভার্সিটি, জেড এম ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স ও  ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি।

এসএএস/এইউ