নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ৯১ হাজার ২০৯ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এসব শিক্ষার্থী মোট ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩টি পত্রের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল আজ রোববার দুপুর ১২টা।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। আগামী ২৩ নভেম্বর পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
১১টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এ বোর্ডে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৯টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা হয়েছে। বিষয়ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইংরেজি ও আইসিটিতে আবেদনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
ঢাকা বোর্ডে ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে সমানসংখ্যক ৪২ হাজার ২টি করে আবেদন জমা পড়েছে। ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিষয়ে আবেদন জমা পড়েছে ৩৮ হাজার ৭৫টি।
ইংরেজি ও আইসিটিতে পাসের হার কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বোর্ড চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বলেন, দুই বছর ধরে পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ ও নির্মোহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষকসংকটও এর একটি বড় কারণ। অনেক কলেজে পর্যাপ্ত আইসিটি শিক্ষক নেই। এমনকি সরকারি কলেজেও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে আইসিটি পড়ানো হয়। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আইসিটি সহজবোধ্য হলেও মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সিলেবাস বেশ কঠিন।
ঢাকা বোর্ডে আবশ্যিক বিষয়গুলোর মধ্যে বাংলাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে সমানসংখ্যক ২৪ হাজার ৮৫৮টি করে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা হয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলোর মধ্যে রসায়নে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে। এ বিষয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে সমানসংখ্যক ১৮ হাজার ৪৮২টি করে আবেদন জমা হয়েছে। জীববিজ্ঞানের প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রেও সমানসংখ্যক ১৫ হাজার ৭৫৭টি করে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা হয়েছে।
মানবিক বিভাগের মধ্যে পৌরনীতি ও সুশাসনের প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে সমানসংখ্যক ৩ হাজার ৫৭১টি করে আবেদন জমা পড়েছে। সমাজকর্মে আবেদন করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৭টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিষয়গুলোর মধ্যে হিসাববিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে। এ বিষয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে সমানসংখ্যক ৩ হাজার ৮২৭টি করে আবেদন করা হয়েছে। ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনায় আবেদন জমা পড়েছে ২ হাজার ৩৩১টি।
গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
এর আগে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছিল। ওই পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী ফল পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। তাঁদের আবেদনে মোট পত্রের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। পুনর্নিরীক্ষণের পর সারা দেশে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পান ৩ হাজার ৭৯ জন।
বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এআর