Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

ঢাকা কলেজে জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলায় ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকা কলেজ শাখার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোতাকিম আহমেদ ও সেক্রেটারি সাইফুন ইসলাম সানি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দীর্ঘদিনের অন্যায়, বৈষম্য ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সর্বস্তরের মানুষের সাহসী প্রতিবাদ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের দেয়ালে অঙ্কিত গ্রাফিতিগুলো নিছক দেয়ালচিত্র নয়; বরং এগুলো গণহত্যার স্মৃতি, আত্মত্যাগ, প্রতিবাদ ও ঐতিহাসিক চেতনার দৃশ্যমান স্মারক। গ্রাফিতি মুছে ফেলার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের স্মৃতিকে আড়াল করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়াল শুধু ইট-পাথরের অবকাঠামো নয়; তা শিক্ষার্থীদের চিন্তা, প্রতিবাদ, সৃজনশীলতা ও ঐতিহাসিক চেতনা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলা শিক্ষার্থীদের আবেগ-অনুভূতি ও ইতিহাসের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কোনো ঐতিহাসিক স্মারক মুছে ফেলার সংস্কৃতি কাম্য নয়। তারা এ ঘটনার যথাযথ ব্যাখ্যা দাবি করেন এবং মুছে ফেলা গ্রাফিতিগুলো পুনরায় অঙ্কন ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

তারা আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি এ দেশের ছাত্রসমাজ ও আপামর জনতার সম্মিলিত সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। দেয়াল থেকে গ্রাফিতি মুছে ফেলা গেলেও ইতিহাসের বাস্তবতা ও মানুষের স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

ঢাকা কলেজ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু ব্যাখ্যা প্রদান, দায়ীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ইতিহাসকে আড়াল নয়, বরং যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণের মধ্য দিয়েই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারে।

এম/এএইচ