বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪০ এএম
ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পাওয়ার পর এবার ন্যানো ফিসফিড উদ্ভাবনের জন্য পেটেন্ট অনুমোদন পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও ন্যানোপ্রযুক্তি গবেষক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান। তার উদ্ভাবিত ন্যানো ফিসফিডের পেটেন্ট গত রোববার (১ নভেম্বর) অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস।
এর আগে দীর্ঘ পাঁচ বছর দুই মাসের অপেক্ষার পর গত ২৫ অক্টোবর ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের পেটেন্ট পান যবিপ্রবির এই অধ্যাপক।
উদ্ভাবকের দাবি, ন্যানো ফিসফিড ব্যবহারের মাধ্যমে মাছের খাদ্যের অপচয় ও পানিদূষণ কমানোর পাশাপাশি পানির গুণগত মান বজায় রেখে তুলনামূলক কম খাদ্যে অধিক মাছ উৎপাদন সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রচলিত মাছের খাদ্যের একটি বড় অংশ মাছ গ্রহণ না করায় তা পুকুরের তলদেশে জমা হয়। এতে পানি ঘোলা হয়ে যায়, শ্যাওলা জন্মায় এবং বিভিন্ন দূষিত গ্যাস তৈরি হয়। ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাছ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়, এমনকি মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
অন্যদিকে, ন্যানো ফিসফিড ব্যবহারে খাদ্যের অপচয় কমবে এবং পানিতে অব্যবহৃত খাদ্য জমে দূষণ সৃষ্টির ঝুঁকি হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এ খাদ্যে ব্যবহৃত ভিটামিন ও খনিজ উপাদানগুলোকে ন্যানো আকারে রূপান্তর করা হয়েছে, যাতে অল্প পরিমাণ খাদ্যেই মাছের পুষ্টির চাহিদা পূরণে অধিক কার্যকারিতা পাওয়া যায়। গবেষকদের প্রত্যাশা, প্রযুক্তিটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জলজ বাস্তুতন্ত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্ভাবন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান বলেন, ‘বাংলাদেশে মাছ চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। মাছ চাষে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য প্রয়োগ করা হয়। এসব খাদ্যের অপচয়ের কারণে পানি দূষিত হয় এবং মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া মাছের খাদ্যের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ভারত থেকে আমদানি করতে দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে আমরা ন্যানো ফিসফিড তৈরি করি। এতে খাদ্যের অপচয় কম হয়, পানি দূষিত হয় না এবং অল্প খাদ্যে অধিক মাছ উৎপাদন করা যায়। আমি মনে করি, মাছ চাষে এ ন্যানোপ্রযুক্তি ভবিষ্যতে দেশে বিপ্লব আনতে পারে।’
প্রতিনিধি/এসএস