বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) নতুন পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে স্বার্থসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের তির ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীম রেজা ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালীর দিকে। তবে অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও পরিচালক পদে আগ্রহের কথা অস্বীকার করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুর তমালকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়োগের পর ইনস্টিটিউটের একাংশের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। তাদের শুরুতে দাবি ছিল, বাইরে থেকে কোনো শিক্ষককে নয়, বরং ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীম রেজার ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে আন্দোলনকারীরা পরে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেন। গতকাল তারা গণমাধ্যমকে জানান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালীকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেবেন। আন্দোলনকারীদের দাবির এ পরিবর্তনের পেছনেও অধ্যাপক শামীম রেজার ভূমিকা রয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থী দাবি করেন, অধ্যাপক শামীম রেজা ও অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালী বিশ্ববিদ্যালয়ের অরুণাপল্লির একই বাসায় বসবাস করেন। অনিরুদ্ধ কাহালীর ভাতিজি স্বচ্ছসলিলা কাহালী তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাকে ভবিষ্যতে ওই ইনস্টিটিউটে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলেও দাবি করেন ওই শিক্ষার্থী।
ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে পরিচালক পদে বসিয়ে স্বচ্ছসলিলা কাহালীকে ভবিষ্যতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ তৈরি করতেই অধ্যাপক শামীম রেজা ও অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালী আন্দোলনের নেপথ্যে ভূমিকা রাখছেন। এ জন্য তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে কাজে লাগাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ড. শামীম রেজার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালী বলেন, “আমি কোথাও বলিনি যে আমি পরিচালক হতে চাই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আমার কোনো কথা হয়নি। কেউ যদি আমার নাম প্রস্তাব করে থাকে, সেটার দায়িত্ব আমি নিতে পারব না। এই আন্দোলনের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। যেদিন প্রথম ঘটনা ঘটেছে, সেদিন আমি ঢাকায় ছিলাম। কোনো পদে যাওয়ার প্রতি আমার আগ্রহ বা ইচ্ছা নেই। এসব নিয়ে আমার কোনো পরিকল্পনা বা আকাঙ্ক্ষাও নেই।”
তিনি আরও বলেন, “ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গেও আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ফলে কোনো পক্ষ নিয়ে আন্দোলন করা বা কোনো ধরনের কুৎসা তৈরির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। আমার ভাতিজি ওই ইনস্টিটিউটে পড়ে, এটা কি অপরাধ? আমি চাইলে কি আমার ভাতিজিকে শিক্ষক করতে পারব? তার ফলাফল কি এমন অবস্থানে আছে যে আমি জোর করে তাকে শিক্ষক বানাতে পারব? এগুলো অপপ্রচার।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধিমালা মেনেই আমরা পরিচালক নিয়োগ দিয়েছি। কে পরিচালক হবেন, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করেছে। আমি সারাদিন খুঁজেও এখন পর্যন্ত ওই ইনস্টিটিউটের পরিচালনা পরিষদের হালনাগাদ তথ্য পাইনি। একটি ইনস্টিটিউটের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক কার্যক্রম ও কারিকুলাম পরিচালনা পরিষদ থেকে অনুমোদিত হওয়ার কথা। সেখানে পরিচালনা পরিষদ হালনাগাদ না থাকলে ইনস্টিটিউট কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেটি প্রশ্নের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালী সবার কাছে গ্রহণযোগ্য মানুষ। আমি মনে করি, অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালী বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবেন এবং তার নামে এ ধরনের অভিযোগ এলে সেটি খণ্ডন করবেন।”
প্রতিনিধি/এসএস