নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নারী সহপাঠীদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি, সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো এবং যৌন হয়রানির অভিযোগের ২৮ দিন পার হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন তারা। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে নারী সহপাঠীদের বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছে। এআই ব্যবহার করে সহপাঠীদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর পাশাপাশি অনৈতিক প্রস্তাবও দিত সে। এসব বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিদ্যালয় ছুটির সময় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নারী সহপাঠীদের শরীর ঘেঁষে যাওয়ার চেষ্টা করত। এ ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তাদের বিব্রত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এক আন্দোলনকারী নারী শিক্ষার্থী বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময় নারী শিক্ষার্থীদের অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করত। শ্রেণিকক্ষেও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে বিব্রত করত। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
আরেক ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী বলেন, তাকে নিয়ে এআই ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি তৈরি করা হয়েছে। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই তিনি এ ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ করেও কার্যকর কোনো সমাধান পাননি।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২৭ থেকে ২৮ দিন ধরে অভিযোগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এ সময়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি লিখিত আবেদন করেও প্রতিকার মেলেনি বলে দাবি তাদের।

এদিকে অভিযোগের প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীকে আপাতত শ্রেণিকক্ষের নিয়মিত কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এতে অভিযোগের প্রতিবাদকারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ঘটনা তদন্তে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। তবে কমিটির দুজন সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক হওয়ায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবার কর্মস্থলের শিক্ষকরা তদন্ত কমিটিতে থাকায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে নতুন তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফ রহমান। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। কমিটিকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছে গিয়ে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং আন্দোলন বন্ধ করতে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
এএইচ/এআর