Dhaka Mail Logo

শিক্ষা / সারাদেশ

জাবি রেজিস্ট্রার ভবনে তালা, ছাত্রদলের হস্তক্ষেপে মুক্ত উপাচার্য

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) পরিচালক নিয়োগ নিয়ে রেজিস্ট্রার ভবনের ফটকে তালা দিয়েছেন ইনস্টিটিউটের একদল শিক্ষার্থী। এ সময় সিন্ডিকেট সভা শেষে ভবন থেকে বের হতে গিয়ে আটকে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে সেই তালা ভেঙে দেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রদলের আহ্বায়কের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তালা ভেঙে উপাচার্যকে বের করে তার ঢাকার কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য গাড়িতে তুলে দেন।

তালা দেওয়ার বিষয়ে সিএলসি ইনস্টিটিউটের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহজালাল বলেন, আমাদের দাবি ছিল, আমাদের নিজেদের ইনস্টিটিউটের শিক্ষক আমাদের পরিচালক হবেন। এটাই স্বাভাবিক, এটাই আমাদের দাবি। এখানে আমরা কোনো প্রকার রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে আসিনি। আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি। আমাদের ইনস্টিটিউট নতুন, আমাদের সেখানে প্রোগ্রেস দরকার। সেই প্রোগ্রেসের জন্য আমাদের বিভাগের অভিজ্ঞ শিক্ষকদেরই আমরা ভালো মনে করছি। আমাদের ইনস্টিটিউটের পড়াশোনা ঠিকমতো চলার জন্য আমরা চাই, আমাদের বিভাগ থেকেই যেন অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি, গতকালকে যে সিএলসির পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেখানে আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর, যারা সরাসরি শেখ হাসিনার শাসনামল দীর্ঘায়িত করার জন্য কাজ করেছে, তাদের কিছু অনুসারী প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কথা শুনে আমলে নিয়ে তাদের বিদায় করে। কিন্তু পরবর্তীতে হামীমের লোকজন ও তার অনুসারীরা এসে সিন্ডিকেট চলার সময়ে সেখানে তালা দেয়। বিষয়টি শুনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেয় এবং তালা ভেঙে ভিসি স্যারকে তার ঢাকার কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িতে তুলে দেয়।

এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউটটির পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়।

নতুন পরিচালক নিয়োগের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে তার অবস্থান তুলে ধরেন। তার দাবি, ইনস্টিটিউটের বিষয়সংশ্লিষ্টতা ও শিক্ষকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল।

অন্যদিকে, অধ্যাপক মানছুরকে দায়িত্ব গ্রহণ না করতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অধ্যাপক হামীমের বিরুদ্ধে। অধ্যাপক মানছুর এ বিষয়ে উপাচার্যকে অবহিত করেছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। উপাচার্য অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

প্রতিনিধি/এলএ