বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
ডিএনএ বিশ্লেষণের কাজ আরও সহজ ও দ্রুত করতে নতুন একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা। তাদের দাবি, জনপ্রিয় সফটওয়্যার ‘মেগা’র তুলনায় নতুন সফটওয়্যারটি ৫৫ থেকে ১ হাজার ৭৪৭ গুণ দ্রুত কাজ করতে পারে। পাশাপাশি প্রচলিত অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় ৩০ থেকে ৯৯ শতাংশ কম কম্পিউটার মেমোরি ব্যবহার করে। সফটওয়্যারটি কম্পিউটারের পাশাপাশি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ব্যবহার করা যাবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানান গবেষকরা।
গবেষক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিকস (সিএসএম) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন। গবেষক দলে আরও ছিলেন- স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মাইফি-উল আসাদ এবং বাকৃবির বায়োইনফরমেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক শিক্ষার্থী মুহাম্মদ ইশমামুল হক ও মো. আসিফুজ্জামান।
গবেষকরা জানান, জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক জানতে ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। তবে প্রচলিত পদ্ধতিতে বিপুল পরিমাণ ডিএনএ তথ্য বিশ্লেষণ করতে অনেক সময় লাগে। কম্পিউটারের মেমোরিও বেশি প্রয়োজন হয়। এসব সমস্যা দূর করতে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতায় নতুন সফটওয়্যারটি তৈরি করা হয়েছে।
নতুন সফটওয়্যারটির মূল কাজ হলো- দুটি বা একাধিক ডিএনএর মধ্যে কতটা মিল রয়েছে, তা দ্রুত খুঁজে বের করা। সাধারণত ডিএনএর প্রতিটি অংশ আলাদাভাবে তুলনা করতে হয়। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে ডিএনএর ছোট ছোট অংশের মিল পরীক্ষা করা হয়। একই সঙ্গে ডিএনএ সিকোয়েন্সের সরাসরি ও বিপরীত পরিপূরক বিন্যাসের মিলও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এসব মিলের ভিত্তিতে প্রতিটি ডিএনএ সিকোয়েন্সের জন্য একটি সংখ্যাগত তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর তালিকাগুলো তুলনা করে ডিএনএগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়। এই সম্পর্কের ভিত্তিতে একটি বংশবৃক্ষ তৈরি করা যায়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন জীবের মধ্যে জিনগত মিল ও পার্থক্য সহজে বোঝা সম্ভব। গবেষক দলের দাবি, পরীক্ষায় নতুন পদ্ধতিতে তৈরি ডিএনএর বংশবৃক্ষ ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত সঠিক পাওয়া গেছে।
এ গবেষণার একটি প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘মলিকিউলার জেনেটিক্স অ্যান্ড জিনোমিক্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক দলের প্রধান ড. মেছবাহ উদ্দিন বলেন, সাধারণ পদ্ধতিতে ডিএনএ বা প্রোটিনের গঠনের মিল খুঁজে বের করতে কখনো কখনো প্রায় এক মাস সময় লেগে যায়। অথচ তাদের তৈরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডেই নির্ভুল ফলাফল পাওয়া সম্ভব। সফটওয়্যারটি দ্রুত কাজ করার পাশাপাশি কম্পিউটারের মেমোরিও তুলনামূলক কম ব্যবহার করে।
তিনি আরও বলেন, সফটওয়্যারটির ডেস্কটপ ও ওয়েব সংস্করণ ইতিমধ্যে সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে গবেষক ও শিক্ষার্থীরা সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
‘গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস ভিত্তিক ডেস্কটপ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে ডিএনএ সিকোয়েন্সের সাদৃশ্য দক্ষতার সঙ্গে শনাক্তকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএসএম বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইদ ইফতেখার ইউসুফ।
এ ছাড়া অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিন অধ্যাপক ড. মজিদ বলেন, প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে গবেষণার কাজে ব্যবহারযোগ্য এমন একটি সফটওয়্যার তৈরি করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তিন মাসের গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি সফটওয়্যারটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি এর ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।
নতুন এই সফটওয়্যার ডিএনএ বিশ্লেষণের সময় ও কম্পিউটারের মেমোরির ব্যবহার কমাতে সহায়তা করবে এবং পাশাপাশি দেশের জীবপ্রযুক্তি ও বায়োইনফরমেটিক্স গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিনিধি/এলএ