নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
ঢাকার কেরানীগঞ্জের পাঁচ গ্রামের ২০০ শিশু ৬০ দিনের বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রমে বাংলা পড়া, লেখা ও গণিত শেখার সুযোগ পেয়েছে। গল্প, ছড়া, ছবি ও খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শিখন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ‘পাঠমিতা’ নামের এ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুরা।
ইনস্টিটিউট অব ইনফর্মড ডেভেলপমেন্টের (আইআইডি) সহযোগিতায় স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এএসডিএস) কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে। ‘টিচিং অ্যাট দ্য রাইট লেভেল’ পদ্ধতির আলোকে পরিচালিত এ উদ্যোগের লক্ষ্য, বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী প্রত্যাশিত শিখনদক্ষতা অর্জন করতে না পারা শিশুদের ঘাটতি পূরণ করা।
কেরানীগঞ্জের কাঠালিয়া, আটি ভাওয়াল, বাংলানগর, চন্ডিপুর ও হিজলা গ্রামে পরিচালিত হয়েছে পাঠমিতা। এ জন্য স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষাসহায়ক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা সপ্তাহে পাঁচ দিন, প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে শিশুদের পাঠদান করেছেন।
প্রচলিত শ্রেণিভিত্তিক পাঠদানের পরিবর্তে শিশুদের প্রকৃত শিখনদক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে দলভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। গল্প, ছড়া, ছবি, শিক্ষাসহায়ক উপকরণ, দলীয় কাজ ও খেলাধুলার মাধ্যমে বাংলা পড়া, লেখা ও গণিত শেখানো হয়েছে। এতে শিশুরা নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী শেখার সুযোগ পেয়েছে। পড়াশোনাকে একঘেয়ে না করে আনন্দময় পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
শিশুদের শেখার অগ্রগতি যাচাই করতে কার্যক্রমের শুরুতে তাদের প্রাথমিক শিখনদক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। পরে নির্দিষ্ট বিরতিতে বাংলা ও গণিতে অগ্রগতি পরিমাপ করা হয়েছে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিখনস্তর নির্ধারণ করে পরবর্তী পাঠদান পরিচালিত হয়েছে। নির্ধারিত দক্ষতা অর্জনকারী শিশুরা পরবর্তী স্তরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আর যাদের আরও অনুশীলন প্রয়োজন, তাদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি ৬০ দিনের কার্যক্রমের শেষ দিনের ক্লাস পরিদর্শন করেন এএসডিএসের প্রেসিডেন্ট তরিকুল ইসলাম রাতুল। এ সময় তিনি শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কার্যক্রমে তারা কী শিখেছে, বাংলা পড়া, লেখা ও গণিতে কতটুকু দক্ষতা অর্জন করেছে, তা জানার চেষ্টা করেন। শিশুদের শেখার অভিজ্ঞতা ও নিজেদের অর্জনের কথাও শোনেন তিনি।
পরিদর্শনকালে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, শেখার আগ্রহ এবং নিজেদের অর্জন তুলে ধরার চেষ্টা উৎসাহব্যঞ্জক ছিল। এ সময় পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ধরে রাখা এবং নিয়মিত শেখার চর্চা অব্যাহত রাখতে শিশুদের উৎসাহিত করেন তরিকুল ইসলাম রাতুল।
৬০ দিনের পাঠদান শেষ হলেও শিশুদের শেখার অগ্রগতি যাচাইয়ের কাজ চলছে। বর্তমানে অংশগ্রহণকারী ২০০ শিশুর চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আগামী দুই দিনের মধ্যে এ মূল্যায়নের ফল পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে কার্যক্রমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শিশুদের বাংলা ও গণিতের দক্ষতায় কী পরিবর্তন এসেছে, তা পরিমাপ করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শিখন ঘাটতি দূর করা না গেলে পরবর্তী শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে একপর্যায়ে পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হতে পারে। এ কারণে প্রতিটি শিশুর প্রকৃত শিখনদক্ষতা চিহ্নিত করে তার উপযোগী পদ্ধতিতে পাঠদান করা জরুরি।
আনন্দময়, অংশগ্রহণমূলক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে পাঠমিতা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, কেরানীগঞ্জে এ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে উদ্যোগটি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করবে। এতে শিখন ঘাটতিতে থাকা আরও অনেক শিশুকে বাংলা পড়া, লেখা ও গণিতে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এএইচ/এআর