জেলা প্রতিনিধি
০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
র্যাগিং, শিক্ষার্থীকে মারধর, হয়রানি ও মাদকসেবনের অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ৩০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ১০ জনকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকিদের অর্থদণ্ড এবং অভিভাবকের মুচলেকা দেওয়ার শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন বুধবার ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে শাস্তির বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে ছয় শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি (ফউটে) ডিসিপ্লিনের মো. ফারদিন আহমেদ দিপন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ বছরের ৬ মে ফউটে ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের হাতে র্যাগিংয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. জুবায়ের হোসেনকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা করে এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মণ্ডল ও সজল পালকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
গত ১২ মে আইন ডিসিপ্লিনের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আমানউল্লাহ আমানকে ফউটে ডিসিপ্লিনের আনুমানিক ২৫ শিক্ষার্থী মিলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সুদীপ কুমার নন্দী, মাহমুদুর রহমান, হেমেন্দ্র মৃধা, আসিফ আদনান, আজিজিল ইসলাম কাফফি, শেখ তাজবীদ ইসলাম, রাকিব হোসেন ও প্রণয় কুমার ঘোষকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ১৪ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হল রোডসংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি আবাসিক বাসায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক উপস্থিত হতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা, মো. মারুফ সরোয়ারকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. মিশন রহমান ও মো. খায়রুল ইসলামকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। একই ঘটনায় সাইদিস সালেহীন স্বপ্নীল, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মন ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকদের নিয়মিত টহলের সময় ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে গাঁজাসহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা (এমসিজে) ডিসিপ্লিনের তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় এস এম তৌফিক আলমকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, মুশফিক উল ইসলামকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ১০ হাজার টাকা এবং কাজী রিয়াজুস ছলেহীনকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেই শৃঙ্খলা বোর্ড এসব শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ