নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
রাত পোহালেই শেষ হচ্ছে অপেক্ষার পালা। আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হবে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। এতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে সারা দেশের পৌনে ১৩ লাখের কাছাকাছি পরীক্ষার্থীর। ফলাফল প্রকাশের পরপরই নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীরা একযোগে ফল জানতে পারবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফল দেখা যাবে। এ ছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও ফলাফল জানা যাবে।
ফল প্রকাশের দিন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ ও উৎকণ্ঠা থাকে। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, পরীক্ষা এবং ফলের অপেক্ষা শেষে প্রত্যাশিত ফল হাতে পাওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে।
এইচএসসি ফলাফল দেখতে অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd ও https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে যেতে হবে। এতে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফলাফল দেখা যাবে।
এ ছাড়া যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে ১৬১৪০ নম্বরে নির্ধারিত নিয়মে এসএমএস পাঠিয়ে মুহূর্তেই ফল জানা যাবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পদ্ধতিতে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত দিকনির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
গত ২ জুলাই সারা দেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করে পরে তা নেওয়া হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। এবার ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।
এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন অংশ নেন।
এএম