নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ এএম
খেলাধুলা ও আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বাড়ানো এবং মৌলিক শিখনদক্ষতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য থাকা প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার মাহুৎটুলী রেনেসাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে লার্নিং টয়েস বিতরণ করেছেন ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে খেলাধুলা ও বিভিন্ন আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তরের মৌলিক শিখনদক্ষতা (এফএলএন) যাচাই করেন তিনি। এ সময় শিক্ষণীয় উপকরণ ব্যবহার করে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে বিভিন্ন জটিল বিষয় ও ধারণা সহজে বুঝতে পারছে বলে পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রথাগত পদ্ধতির পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখা ও খেলনার ব্যবহার শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, উদ্দীপনা এবং পাঠদানে অংশগ্রহণ বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি শিশু শ্রেণিকক্ষে কী শিখছে, নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারছে কি না এবং শিক্ষকরা কতটা কার্যকরভাবে পাঠদান করছেন, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয় পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখনদক্ষতার ঘাটতি চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোর বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজির মতো বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা শনাক্ত করে আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে তা দূর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুরান ঢাকার বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লার্নিং টয়েসের ব্যবহার দেশের অন্যান্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও সম্প্রসারণ করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হবে।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট নিরসনে দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগের কথা জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নেতৃত্ব আরও গতিশীল হবে।
দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান নিয়োগবিধি ও পিএসসির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ সম্পন্ন হলে পরবর্তী সময়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে।
পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এম/এফএ