Dhaka Mail Logo

শিক্ষা / সারাদেশ

ইবির পঞ্চম সমাবর্তন ২ ফেব্রুয়ারি, সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী ১০ হাজার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রাথমিক বিশ্লেষণে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১০ হাজারের মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে একটি মূল কমিটির অধীনে ২১টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে সমাবর্তন আয়োজনের লক্ষ্যে এসব কমিটির কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে এম মতিনুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে সমাবর্তন উপলক্ষে গঠিত বিভিন্ন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় উপাচার্য বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।

আলোচিত সভায় উপাচার্য বলেন, শীতকালীন ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সমাবর্তনের প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযোগী অবস্থায় পৌঁছানোই এখন মূল লক্ষ্য। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব গুরুত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম। রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা থাকবে। ফলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সমন্বয়হীনতার সুযোগ রাখা যাবে না।

কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, কোনো সদস্য সংশ্লিষ্ট কমিটিতে যথাযথ সময় দিতে পারবেন না বলে মনে করলে আগেই আহ্বায়ককে জানাতে হবে। প্রয়োজনে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে প্রত্যেকের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সমাবর্তনের বিভিন্ন উপ-কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আবাসন, পরিবহন ও উপহারসহ বিভিন্ন কমিটিকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্য কমিটির সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে আবাসন কমিটির সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রকৌশল অফিস, পরিবহন ও স্টেট শাখার সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

নিরাপত্তা ও অতিথি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, সমাবর্তনে অতিথি, ভিআইপি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যথাযথ অভ্যর্থনা এবং আসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আগেই প্রয়োজনীয় সমন্বয় সম্পন্ন করতে হবে। অনুষ্ঠানের দিন প্রবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পাস ও অনুমোদন যথাসময়ে নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

সভায় সমাবর্তনে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রাথমিক বিশ্লেষণে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১০ হাজারের মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে নিবন্ধন ও অভ্যর্থনা কার্যক্রমের মাধ্যমে চূড়ান্ত সংখ্যা আরও স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়। কোনো কমিটিতে অতিরিক্ত সদস্য প্রয়োজন হলে আহ্বায়কদের লিখিত সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানান উপাচার্য। উপযুক্ত ও কার্যকর ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় সমাবর্তনের বাজেট পুনর্বিন্যাস করে দ্রুত চূড়ান্ত করা এবং পূর্ববর্তী সমাবর্তনের সার্টিফিকেটের নকশা ও কাঠামোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

কমিটির দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। কাজের চাপ, বয়স ও অন্যান্য দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে বলে জানান উপাচার্য। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় কমিটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার মো. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আতিকুর রহমানসহ সমাবর্তন উপলক্ষে গঠিত বিভিন্ন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সমাবর্তনের সার্বিক প্রস্তুতি, বাজেট, অতিথি ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, আবাসন, পরিবহন, উপহার, স্পনসরশিপ এবং প্রকৌশল ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতিসহ বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিনিধি/এলএ