বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
হেমন্তের স্নিগ্ধতা পেরিয়ে শীতের আবহ পেতে এখনো ঢের বাকি। তবে রাত নামলেই কুয়াশার সাদা চাদরে ঢেকে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সবুজ আঙিনা। মীর মুগ্ধ সরোবরের নিস্তব্ধ জলরাশি, আজিজুর রহমান হলের পুকুরের স্নিগ্ধতা, বাগান-চত্বরের সারি সারি গাছপালা আর প্রকৃতির সৌন্দর্যে ঘেরা ১৭৫ একরজুড়ে নেমে আসছে কুয়াশার আবহ। রাতের নীরবতা, হিমেল হাওয়া ও ধীরে ঘনিয়ে আসা কুয়াশা যেন আগাম বার্তা দিচ্ছে শীতের।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। শিশিরভেজা ঘাস, কুয়াশায় ঝাপসা হয়ে আসা গাছের ছায়া, হাসনাহেনার সুবাস আর ধোঁয়াশায় হারিয়ে যাওয়া পথঘাট মিলিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয়েছে শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ। ক্যাম্পাসে শীত পুরোপুরি জেঁকে না বসলেও বদলে যাওয়া প্রকৃতি যেন শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে কুয়াশার আস্তরণ। কোথাও হালকা কুয়াশা, কোথাও আবার ঘন কুয়াশায় আড়াল হয়ে যাচ্ছে গাছপালা, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার, কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠ, ক্রিকেট মাঠ, কেন্দ্রীয় মিলনায়তন, ডায়না চত্বর, ঝাল চত্বর, বটতলা এলাকা, আবাসিক হলগুলোর আশপাশসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে দেখা যায় কুয়াশার উপস্থিতি। দূর থেকে গাছের সারি ও সড়কবাতিগুলোও কুয়াশার আবরণে মিশে গেছে বলে মনে হচ্ছিল। পরিচিত পথঘাটও যেন রাতের আঁধারে ধারণ করেছে নতুন এক রূপ।
মীর মুগ্ধ সরোবরের পাড়ে নেমে এসেছে অন্য রকম নিস্তব্ধতা। স্থির জলরাশির ওপর কুয়াশার আবছা আবরণ আর চারপাশের গাছপালার ছায়া মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মুগ্ধকর দৃশ্য। দিনের কোলাহল শেষে রাতের নির্জনতায় সরোবরের সৌন্দর্য যেন আরও গভীর হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, আবাসিক হলগুলোর আশপাশের গাছপালা ও নির্জন সড়কগুলোয় কুয়াশার উপস্থিতি ক্যাম্পাসের চিরচেনা পরিবেশে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসের নীরবতাও যেন বাড়ছে। ব্যস্ত দিনের পরিচিত ক্যাম্পাস রূপ নিচ্ছে স্নিগ্ধ প্রাঙ্গণে। শিক্ষার্থীদের পদচারণা কমে আসায় কুয়াশাঘেরা সড়ক, গাছের পাতায় জমে থাকা শিশির ও ফুলের সুবাস মিলে তৈরি হয়েছে অনন্য আবহ। কৃত্রিম আলোর ঝলকানি আর কুয়াশার মিতালি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি করছে নান্দনিক দৃশ্য। শীতের পুরোপুরি আগমন না ঘটলেও তার আগমনী সুর ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ইবির ১৭৫ একরের সবুজ প্রাঙ্গণে।
কুয়াশাঘেরা রাতের এই সৌন্দর্য অনেকেই মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধারণ করছেন। ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী আদিয়াত আদিব বলেন, “শীতকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাতের দৃশ্য এমনিতেই মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। তবে শীতের মৌসুম শুরুর আগেই কুয়াশার এমন উপস্থিতি ক্যাম্পাসের প্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।”
শহীদ আনাস হলের শিক্ষার্থী সুকান্ত কুজুর বলেন, “কুয়াশার ধূসর চাদরে ঢেকে গেছে ক্যাম্পাসের পথ। শিশিরভেজা ঘাসে জমেছে নীরব সকালের মায়া। এটি দেখে বারবার মনে পড়ছে জীবনানন্দ দাশের ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর’—এই পঙ্ক্তিটি। নীরব ক্যাম্পাসটাই যেন এক টুকরো কবিতা। কুয়াশাঘেরা ইবি সেই চিরচেনা বাংলারই এক মায়াবী প্রতিচ্ছবি।”
প্রতিনিধি/এআর