বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ভোররাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগতকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডব্লিউআরসি) সংলগ্ন জঙ্গল এলাকা থেকে তাদের আটক করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
আটককারী শিক্ষার্থীরা জানান, পাঁচজন গাজীপুর থেকে সিএনজিতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে সিএনজির ভাড়া না দিয়েই তারা চলে যান। রাত ৩টার দিকে তাদের ডেইরি গেট থেকে মসজিদের পাশ দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে দৌড়ে যেতে দেখেন শিক্ষার্থীরা।
এরপর ভোরে ডব্লিউআরসি সংলগ্ন জঙ্গল এলাকা থেকে পাঁচজনকে বের হতে দেখেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে থামিয়ে পরিচয় ও ক্যাম্পাসে অবস্থানের কারণ জানতে চাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে জন্মনিয়ন্ত্রক ট্যাবলেট পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা গার্মেন্টসকর্মী বলে পরিচয় দেন বলেও জানান তারা।
ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের ইসলাম বলেন, তাদের গতিবিধি দেখে মেইন গেটের গার্ডের সন্দেহ হয়। তখন আমাদের বলেন, বাইরে ঘুরলে একটু দেখতে। পরে জঙ্গলের ভেতরে গেছে নাকি এই পাঁচজন বহিরাগত আর একজন স্টুডেন্ট। তারপর ডব্লিউআরসি এর ওইখান থেকে বের হতে দেখি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আটক পাঁচজনের মধ্যে একজনের সঙ্গে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান শুভর পূর্বপরিচয় রয়েছে। ওই ব্যক্তি তার স্কুলের বন্ধু বলে জানান শুভ। তিনি বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে চাকরি করেন বলেও জানান তিনি।
শাহরিয়ার খান শুভ বলেন, ও আমাকে রাতে বলছে, ও নাকি মহাখালী ওদের একটা ট্রেনিং সেন্টার আছে, ওখান থেকে ওরা দুইজন ট্রেনিং করে রাতে আসবে। পরে ডেইরি গেটে আসার পর আমাকে ফোন দিলে গিয়ে দেখি যে ওদের সাথে মেয়ে আছে। তখন বলছি, ‘দেখ, এই জিনিস তো সম্ভব না। তুই মানে আমি এই জিনিসের দায়ভার নিতে পারবো না।’ তো পরবর্তীতে ওদের বলছি, ‘এত রাতে মেয়ে নিয়ে কি করবি? তোরা এটলিস্ট বাইরে থাকার চেয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো এক জায়গায় যেয়ে বইসা থাক।
পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা বহিরাগত হওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্য নিরাপত্তা শাখার মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম বলেন, ভোর চারটার দিকে তিনজন মেয়ে এবং দুইজন ছেলে বহিরাগত ধরা পড়ছে। তাদেরকে সিকিউরিটি কন্ট্রোল রুমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হইছে। তারা যেহেতু বহিরাগত, অধিকতর ইনভেস্টিগেশনের জন্য সিকিউরিটি অফিসের মাধ্যমে পুলিশ ডেকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। আমরা ওই পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছি। তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা থানায় এলে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/ এজে