নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নতুন যোগদান করা শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের আগে পাঁচ দিনের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এ কারণে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের পদায়নের তারিখও এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার বিভিন্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগে তাদের পদায়ন আদেশের তারিখ ৪ অক্টোবর নির্ধারিত ছিল। সেটি পরিবর্তন করে ১১ অক্টোবর নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের।
প্রশিক্ষণ পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নতুন শিক্ষকদের জন্য এই ওরিয়েন্টেশন একটি সেতু হিসেবে কাজ করবে। শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার আগে একজন শিক্ষকের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক দক্ষতা তৈরির পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব ও বিধিবিধান সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হবে।
পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণে নতুন শিক্ষকদের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শেখার ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য চেনানো হবে। শেখানো হবে শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, সহজভাবে ক্লাস পরিচালনার কাঠামো, পাঠ পরিকল্পনা তৈরি এবং শ্রেণিকক্ষের সাধারণ সমস্যা মোকাবিলার প্রাথমিক কৌশল। স্থানীয়ভাবে পাওয়া উপকরণ ব্যবহার করে স্বল্প খরচে শিক্ষা সহায়ক উপকরণ তৈরির বিষয়ও থাকবে প্রশিক্ষণে।
একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পর একজন শিক্ষককে যেসব নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়, সেগুলোও তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে চাকরিতে প্রবেশ ও স্থায়ীকরণের শর্ত, নৈমিত্তিক ছুটি, অসাধারণ ছুটি ও প্রসূতি ছুটির বিধান, ভাতা, আচরণবিধি, শৃঙ্খলা এবং ছুটির আবেদন প্রক্রিয়া।
প্রশিক্ষণ শেষে নতুন শিক্ষকদের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের অন্তত তিনটি প্রধান শেখার ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করার সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভূমিকা, উপস্থাপন, অনুশীলন, মূল্যায়ন ও সারসংক্ষেপ ইত্যাদি কাঠামো অনুসরণ করে ৪০ মিনিটের একটি পাঠ পরিকল্পনা তৈরি এবং অন্তত দুটি শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রয়োগ করতে পারবেন তারা।
স্থানীয় উপকরণ দিয়ে অন্তত একটি শিক্ষণ সহায়ক উপকরণ তৈরির সক্ষমতাও অর্জন করবেন নবনিযুক্ত শিক্ষকরা। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীর আচরণবিধি ও অসদাচরণের পরিণতি, বিভিন্ন ধরনের ছুটির বিধান এবং চাকরিকালীন ছুটির আবেদন প্রক্রিয়ার মৌলিক ধাপ সম্পর্কে তাদের ধারণা দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণে নতুন শিক্ষকদের প্রথম বছরের পেশাগত উন্নয়নের জন্য তিনটি অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজ নির্ধারণের বিষয়েও ধারণা দেওয়া হবে।
শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারী, দুই পরিচয়েই তাদের আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাই এ ওরিয়েন্টেশনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএইচ/এআরএম