বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকায় নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য।
মিশন আচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায়।
মিশন আচার্যের অভিযোগ, তার স্থায়ী ঠিকানায় কোনো বসতভিটা নেই। তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাবার ঠিকানা থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। এরপর থেকে তিনি মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তার দাবি, কলাবাগান এলাকাতেই তার জন্ম এবং জন্মের পর থেকে সেখানেই তিনি বসবাস করে আসছেন।
মিশন আচার্য জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আরেকজন তিনি নিজে। উপজেলা পর্যায়ে তিনি ১৭তম স্থান অধিকার করেন।
মিশন আচার্য বলেন, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমা–সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—এমন ধারণা থেকে তার খালু গ্রামের এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। পুলিশ তদন্তের সময় তিনি ওই জমির দলিলও জমা দেন। তবে সেখানে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং তিনি কখনো ওই জমিতে বসবাস করেননি।
তিনি আরও বলেন, পুলিশকে প্রথমে ভূমিহীন সনদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তখন তাকে জানানো হয়, জমির দলিল জমা দিলেও হবে। পরে তিনি সেটিই জমা দেন। কিন্তু স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকায় তাঁকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিশন আচার্য বলেন, “আমার মা বাসাবাড়িতে কাজ করে আমাকে বড় করেছেন। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমি সরকারের কাছে আমার চাকরিটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সদয় বিবেচনার অনুরোধ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার কী দোষ? ভাড়া বাসায় জন্মেছি, এটাই কি আমার দোষ? রাষ্ট্র আমার ভোট নিচ্ছে, আমাকে খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে, কিন্তু জব দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের কাছে আমার মেধা আর পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার মূল্য বেশি।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ইতোমধ্যে বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা অধিদফতরকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, একটা সমাধান হবে।”
প্রতিনিধি/এসএস