Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

৪৯তম বিসিএসে নিজ বিভাগে প্রথম হয়েও গেজেটে বাদ ঢাবির তিনজন

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় নিজ নিজ বিষয়ে মেধাতালিকায় প্রথম হয়েও চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে জায়গা পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী। তারা হলেন সমাজকল্যাণের আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলাল, ইসলামিক স্টাডিজের মো. জাহিদুল ইসলাম নাঈম এবং ইতিহাসের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানা। চূড়ান্ত ফলে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পেলেও বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত গেজেটে তাদের নাম পাওয়া যায়নি।

৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে সাময়িকভাবে ৬৬৮ জনকে মনোনীত করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তবে চূড়ান্ত গেজেটে নিয়োগ পেয়েছেন ৬১১ জন। অর্থাৎ সাময়িকভাবে মনোনীতদের মধ্যে ৫৭ জন শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পাননি।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ৫৭ জনের মধ্যে ১০ জন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেননি। দুজনকে পিএসসি বহিষ্কার করেছিল। বাকি ৪৫ জন নিয়োগযোগ্য প্রার্থী হলেও তাদের নাম গেজেটে আসেনি। তারা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে গেজেটে তাদের বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

বাদ পড়া ৪৫ জনের একটি বড় অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বলে প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন ঢাবির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া গেছে। তবে বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থীর দাবি, এই সংখ্যা ৩০-এর বেশি হতে পারে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা না পাওয়ায় এ সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণের আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলাল ৪৯তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সমাজকল্যাণ বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম হয়েছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত গেজেটে তার নাম নেই।

গেজেট প্রকাশের পর ফেসবুকে বেলাল লিখেছেন, ৪৯তম বিসিএসে সমাজকল্যাণে ১ম হয়েও আমার গেজেটে নাম এলো না। জুলাইয়ে সক্রিয় ছিলাম। আমার অপরাধ কী বুঝতে পারলাম না। এটাই কী আমার অপরাধ?

একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. জাহিদুল ইসলাম নাঈম। সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিয়োগের গেজেটে তারও নাম আসেনি। ফেসবুকে নাঈম লিখেছেন, মো. জাহিদুল ইসলাম নাঈম, গেজেট বঞ্চিত, ৪৯তম (বিশেষ) বিসিএস, সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার, ইসলামিক স্টাডিজ মেধাক্রম: ০১।

ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম হয়েও গেজেটে স্থান পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানা। নীলফামারীর সোহেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ২০২০ সালে স্নাতক এবং ২০২১ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিসিএসে অংশ নিয়ে নিজ বিষয়ে প্রথম হলেও শেষ পর্যন্ত তার নাম নিয়োগের গেজেটে আসেনি।

শুধু এই তিনজনই নন, মেধাতালিকার সামনের দিকে থেকেও ঢাবির আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন। ফিন্যান্স বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নূরনবী শেখ ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে মেধাক্রমে পঞ্চম হয়ে প্রভাষক পদে সুপারিশ পেয়েছিলেন। তার নামও গেজেটে নেই।

নূরনবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, তার কিংবা পরিবারের কারও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। এরপরও কেন তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন তিনি।

ঢাবির প্রাণিবিদ্যার নাজমুল হোসাইন প্রান্ত মেধাক্রমে ১৪তম হয়েও গেজেটে জায়গা পাননি। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রেদওয়ান আহমদ তাহমিদের নামও নেই। দীর্ঘ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষে গেজেট থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা জানিয়েছেন তারা।

প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের বিপ্লব বাড়ৈ মেধাক্রমে পঞ্চম, ইতিহাস বিভাগের শেখ আরাফাত কবির ১৫তম, দর্শন বিভাগের শফিকুল ইসলাম ২৫তম এবং অর্থনীতি বিভাগের মো. রাকিবুল ইসলাম ৩৭তম হয়েও গেজেটে জায়গা পাননি। এ ছাড়া ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে নবম মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেন, সোহাগ মন্ডল এবং পরিসংখ্যান বিভাগের একজন শিক্ষার্থীর নামও গেজেটে আসেনি বলে জানা গেছে।

বাদ পড়া প্রার্থীদের কয়েকজন তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, নিজ জেলা কিংবা অতীতের আন্দোলনে অংশগ্রহণের সঙ্গে গেজেটে নাম না আসার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে সরকারি কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। গেজেটেও ৫৭ জনকে বাদ দেওয়ার পৃথক কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

এমএইচ/এএস