Dhaka Mail Logo

শিক্ষা / সারাদেশ

জাবিতে ছাত্রদল নেতা ও কর্মীর দুই দফায় মারামারি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংলগ্ন আমবাগান এলাকায় সাবলেট বাসা ভাড়া ও বিল পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে শাখা ছাত্রদলের এক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও এক কর্মীর মধ্যে দুই দফায় মারামারি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আমবাগান এলাকায় এবং পরে রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এতে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের (৪১ ব্যাচ) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী রাসেল খন্দকার এবং ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের (৪৩ ব্যাচ) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম জড়িত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমবাগান এলাকায় শফিকুল ও রাসেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে শফিকুল তার রাজনীতির অনুসারীদের (সেলিম রেজা গ্রুপ) নিয়ে ক্যাম্পাসের মুরাদ চত্বরে আসেন। সেখানে রাসেলের সঙ্গে তাদের দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমবাগানের একটি বাসায় সাবলেট ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল ও ওয়াশরুম ব্যবহারের বিষয় নিয়ে রাসেল খন্দকারের সঙ্গে এক সাবেক শিক্ষার্থীর বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই সাবেক শিক্ষার্থী শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামের বন্ধু। একপর্যায়ে আমবাগান এলাকায় রাসেল ও ওই সাবেক শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতাহাতি হয় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার জেরে পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে রাসেল খন্দকার ও শফিকুল ইসলামের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আমবাগানের ঘটনায় জড়িত হওয়ার পাশাপাশি রাসেল শফিকুলের বন্ধুর কাছে চাঁদা দাবি করেছেন। 

তবে রাসেল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বলেন, রাসেল বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রদলের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করছেন। আমবাগান এলাকায় আমার এক বন্ধুর কাছে অন্যদের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করেছেন। এ কারণে তাকে ডেকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বসম্মানে চলে যেতে বলেছি।

অন্যদিকে রাসেল খন্দকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ক্যাম্পাসের সাবেক এক শিক্ষার্থী ও তার স্ত্রী এক ছোট ভাইয়ের মামাকে গালিগালাজ করেন বাসা ও বিলসংক্রান্ত বিষয়ে। তাই ওই ছোট ভাইয়ের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসা করতে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। আমি কোনো চাঁদা দাবি করিনি, বরং শুধু সরি বলিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেই।

তিনি বলেন, পরদিন শফিকুল তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং মাথায় আঘাত করেন। পরে তাকে মুরাদ চত্বরে ডেকে নিয়ে শফিকুল, সেলিম রেজাসহ কয়েকজন মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে দাবি করেন।

এর আগে, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর সাভারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু বক্কর সিদ্দিককে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় রাসেল খন্দকার র‌্যাব-৪-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। এছাড়া গাড়ির চাকা ফাটানোসহ আশুলিয়া থানায় তার নামে একাধিক ছিনতাইয়ের অভিযোগের কথাও জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, শফিকুল ইসলাম শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজার অনুসারী। মুরাদ চত্বরে হাতাহাতির ঘটনার সময় সেলিম রেজাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সেলিম রেজা বলেন, রাসেল ছাত্রদলের কেউ নন। তার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ জানার পর বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে মুরাদ চত্বরে হাতাহাতি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি নেতাকর্মীদের নিবৃত করেন এবং রাসেলকে ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে বলেন।

সার্বিক বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বাইরের বিরোধের জের ধরে ঘটেছে। তবে এর প্রভাব ক্যাম্পাসে পড়ায় বিষয়টি কেন্দ্রীয় সংসদকে জানানো হবে। কেন্দ্রীয় সংসদের সঙ্গে আলোচনা করে ঘটনা তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এলএ