জেলা প্রতিনিধি
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর প্রজ্ঞাপনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পাসে প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার স্বকীয়তা, একাডেমিক পরিবেশ ও পেশাগত মানোন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট শিক্ষা উপদেষ্টার আদেশে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা ও ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারির এক সভায় কলেজটিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইটি), সাস্ট’ হিসেবে গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখনও কার্যকর পদক্ষেপ বা প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
সম্প্রতি একটি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ বা দায়িত্ব দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি নিয়েও আপত্তি জানান তারা। তাদের অভিযোগ, নির্বাচিত ব্যক্তির একাডেমিক ও গবেষণা যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এর প্রতিবাদে গত রবিবার থেকে ক্যাম্পাসে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, কলেজটিকে ভবিষ্যতে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও আপাতত ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের কার্যকর প্রজ্ঞাপন চান তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান করছেন।
অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে তালা দেওয়ায় কেউ ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারছেন না। সোমবার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে বর্তমানে তিনটি বিভাগে পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। একাডেমিক কার্যক্রম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এলএ