নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে পরিচিত করতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
শিক্ষাজীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করে তাদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিজ্ঞান একাডেমিতে হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের মিড-টার্ম রিভিউ কর্মশালায় এ কথা জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সফট ও হার্ড স্কিল বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। শিক্ষাজীবন থেকেই বাস্তব কর্মপরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করার জন্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, হিট প্রকল্পের উদ্দেশ্য শুধু নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ করা নয়। দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তব, দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন আনাই এর মূল লক্ষ্য। শিক্ষার মান বাড়ানো, কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা তৈরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ, শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল রূপান্তর প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতেও হিট প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও উন্নত ডিজিটাল সংযোগ, স্মার্ট ক্লাসরুম ও স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করা। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ ও একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নেও প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নবীন ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও থাকবেন। এসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি স্থায়ী উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
গবেষণার বিষয়ে অধ্যাপক মামুন জানান, হিট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১৮০টি গবেষণা প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এসব গবেষণার ফল যেন দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান ও জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগে, সেটি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শুধু গবেষণা করলেই হবে না, গবেষণা থেকে পাওয়া জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে বলেও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।
দেশের গবেষণা কার্যক্রমের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরিতে ‘ন্যাশনাল রিসার্চ রিপোজিটরি’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান দেওয়া ও গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হিট প্রকল্পের আওতায় চলমান উপপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। কোনো প্রকল্পে ধীরগতি, অনিয়ম কিংবা গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
অধ্যাপক মামুন বলেন, পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির প্রায় দুই বছর বিভিন্ন কারণে ব্যয় হয়ে গেছে। ফলে অবশিষ্ট সময়ে কাজের গতি বাড়াতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রয়োজন হলে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতির ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের প্র্যাকটিস ম্যানেজার ড. শেরেজাদ লতিফ মোনামী বলেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হিট প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বব্যাংক আশা করে।
কর্মশালায় হিট প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, অর্জন, বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান।
এসময় বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও হিট প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার টি এম আসাদুজ্জামানসহ ইউজিসি, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল, হিট প্রকল্প ও বিশ্বব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/এএইচ