নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বন্ধে শিক্ষকদের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়াতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আঞ্চলিক শিক্ষা বোর্ড ‘ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মোহাম্মদপুর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
মোহাম্মদপুরের জামিয়া ইসলামিয়া ওয়াহিদীয়া মাদরাসাসংলগ্ন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আয়োজিত কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি থেকে বিরত থাকা, শরয়ি সীমার মধ্যে সহমর্মিতাপূর্ণ শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়া শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্ম-উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইতিবাচক আচরণ ও কার্যকর যোগাযোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
কর্মশালায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজধানীর জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার শাইখুল হাদিস মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক মাওলানা মুহাম্মাদ লুতফেরাব্বী আজহারী।
আলোচকরা বলেন, কওমি শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চরিত্র গঠন করা। এ কারণে রাগ, ক্ষোভ বা অন্য কোনো পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক কিংবা মানসিকভাবে নির্যাতন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিকাশ এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করে তাদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক শিক্ষকদের সুন্নাহভিত্তিক তরবিয়াত, কোমল আচরণ ও সহমর্মিতার মাধ্যমে শিক্ষাদানের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক শাস্তি বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। বোর্ডের ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বেফাকের তত্ত্বাবধানে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মোহাম্মদপুরের আওতাধীন বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালকরা অংশ নেন।
এম/এআর