নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
২০২০ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অবশিষ্ট চার ক্যাটাগরির ৬১০ পদের চূড়ান্ত ফল দ্রুত প্রকাশের দাবিতে বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মী ও প্রার্থীরা এসব স্মারকলিপি দেন।
রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও মাউশির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. জোবায়ের আহমেদ। পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন সংগঠনের সদস্যসচিব জাকারিয়া। চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্মারকলিপি দেন সংগঠনের মুখপাত্র লিটন কুমার বিশ্বাস ও হাজেরা খাতুন।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একই দাবিতে স্মারকলিপি দেন।
ঢাকায় ফিরোজ আল মামুন, চট্টগ্রামে রাইসুল, হাফসা, শহিদুল ও জুলফিকার, রাজশাহীতে আতিকুর রহমান সরকার, খুলনায় সাইফুল ইসলাম ও জহির আলম হাওলাদার, বরিশালে ইবনে হাসান তুষার, সিলেটে মওদুদ হাসান চৌধুরী, ময়মনসিংহে খাইরুল ও আজহারুল ইসলাম, বগুড়ায় রাসেল মিয়াসহ বিভিন্ন জেলার ফলাফল প্রত্যাশীরা এতে অংশ নেন।
স্মারকলিপিতে ২০২০ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অবশিষ্ট চার ক্যাটাগরির ৬১০ পদের চূড়ান্ত ফল দ্রুত প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। প্রার্থীদের দাবি, ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪ হাজার ৩২টি পদ ছিল। এর মধ্যে ২৪টি ক্যাটাগরির ৩ হাজার ৪২২ পদের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও চার ক্যাটাগরির ৬১০ পদের ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে ফলাফলের অপেক্ষায় থাকায় অনেক প্রার্থীর চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পার হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তারা। এতে তারা হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: নেপাল ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্কতা
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দাবিতে এর আগে ঢাকায় মাউশির প্রধান কার্যালয়ের সামনে একাধিকবার আন্দোলন, অবস্থান ও মানববন্ধন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। ২০২৫ সালের ১৭ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত তারা আমরণ অনশন কর্মসূচিও পালন করেন। আন্দোলনের সময় প্রার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। পরে ২৯ জুন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন।
প্রার্থীদের ভাষ্য, নিয়োগসংক্রান্ত কোটা জটিলতা ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর নিরসন হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর ২৩ এপ্রিল মাউশির মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে সাত দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র লিটন কুমার বিশ্বাস বলেন, চলতি বছরে শিক্ষা সচিব তাদের জানিয়েছেন, মাউশির মহাপরিচালককে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে ফলাফল প্রত্যাশীদের মধ্যে আশার সৃষ্টি হলেও এখনো ফল প্রকাশ না হওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন ও হতাশ।
এর আগে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও স্মারকলিপি দেন ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিরা। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রংপুরে মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন তারা।
ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে থাকায় প্রার্থীরা আর্থিক ও সামাজিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেকের চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমাও শেষ হয়ে গেছে। তারা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে অবশিষ্ট ৬১০ পদের চূড়ান্ত ফল দ্রুত প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন।
এম/এআরএম