বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ এএম
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনে লিফটে আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন চার শিক্ষার্থী। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ভবনটির গ্রাউন্ড ফ্লোরে লিফট ব্যবহারের সময় এই ঘটনা ঘটে।
তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই লিফট মাঝপথে আটকে যাওয়া, নির্দিষ্ট ফ্লোরে না থেমে অন্য ফ্লোরে থেমে যাওয়া, হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া ও অস্বাভাবিক শব্দসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভবনের বাম পাশের লিফটটি গ্রাউন্ড ফ্লোরে অবস্থান করছে দেখালেও দরজা খোলার পর ভেতরে কোনো কেবিন দেখা যায়নি। দরজার ওপাশে নিচে-উপরে ফাঁকা জায়গা দেখা যায়। পরবর্তীতে ওই লিফটের চতুর্থ ফ্লোরের মাঝামাঝি অবস্থানে আটকানো কেবিন থেকে চার শিক্ষার্থীকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বের করে আনা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, ভবনটিতে মোট তিনটি লিফট রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে দুটি। যার মধ্যে একটি লিফট বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে এবং ঠিকমতো কাজ করে না। অন্য লিফটেও বিভিন্ন সময়ে ত্রুটি দেখা দেয়। কখনো লিফট বন্ধ হয়ে যায়, আবার কখনো নির্দিষ্ট ফ্লোরে না থেমে অন্য ফ্লোরে থেমে যায়। মাঝেমধ্যে লিফটে অস্বাভাবিক শব্দও শোনা যায়।
এ ছাড়াও একটি লিফটের ডিসপ্লে স্ক্রিন বন্ধ থাকায় সেটির অবস্থানও সহজে বোঝা যায় না। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরে লিফট ব্যবহারে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। মাঝে মধ্যে লিফট মেরামত করা হলেও কিছুদিন পর আবার একই ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানান তারা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবির মাহমুদ বলেন, ‘গ্রাউন্ড ফ্লোরে লিফটের জন্য অপেক্ষা করার সময় বাম পাশের লিফটটি নিচতলায় দেখাচ্ছিল। পরে দরজা খুললে দেখা যায়, ভেতরে কোনো লিফট নেই, পুরো জায়গাটি ফাঁকা। পরে দেখা যায় চতুর্থ তলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী লিফটে আটকা পড়েছেন। সেখানে গিয়ে দেখি, লিফটটি ফ্লোরের মাঝামাঝি আটকে আছে। পরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তাঁদের হাত ধরে বের করে আনা হয়। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’
খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘এটি প্রথমবার নয়, এর আগেও লিফট আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। লিফটে মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়। অনেক সময় লিফট নির্দিষ্ট ফ্লোরে না থেমে গ্রাউন্ড ফ্লোরে নেমে যায়। একটা লিফটে ডিসপ্লে স্ক্রিন না থাকায় লিফটের অবস্থানও সহজে বোঝা যায় না। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফট ব্যবহারে ভয় ও অস্বস্তি কাজ করে। আমি দ্রুত লিফটগুলোর পূর্ণাঙ্গ কারিগরি পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় মেরামত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের লিফটে আটকে পড়ার ঘটনাটি বিদ্যুৎ আসা-যাওয়াজনিত সমস্যার কারণে হতে পারে বলে আমি মনে করি। এ ছাড়া লিফটে আরও কিছু কারিগরি ত্রুটি রয়েছে, যেগুলোর সংস্কার ও সমাধানের কাজ ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াধীন। আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে।’
প্রতিবেদক/এএম