Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

ভেরিফিকেশনে বাদ পড়াদের পুনর্বিবেচনা করে নিয়োগের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ এএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয় পুনর্বিবেচনা করে নিয়োগ দেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত যেসব প্রার্থীর নিয়োগপত্র আটকে আছে, তাদের দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ‘চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা বলেন, দীর্ঘ আট মাস অপেক্ষা, মানসিক চাপ ও প্রশাসনিক জটিলতার পর নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অনেক প্রার্থী বাদ পড়েছেন। তবে কী কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রায় এক হাজার ৫০০ প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। এ অবস্থায় বাদ পড়া ও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রার্থীরা বলছেন, দীর্ঘদিন নিয়োগের অপেক্ষায় থাকায় তাদের অনেকেই অন্য চাকরির সুযোগ ছেড়ে দিয়েছেন। কেউ আগের চাকরি ছেড়েছেন, আবার কেউ নতুন চাকরিতে যোগ না দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় অনেকের সরকারি চাকরিতে নতুন করে আবেদনের বয়সও শেষ হওয়ার পথে।

হঠাৎ নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনেক প্রার্থী ও তাদের পরিবার আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়। এ কারণে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর বিষয় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে কোনো অনিয়মকারী বা অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে নন বলেও স্পষ্ট করেছেন প্রার্থীরা।

পাঁচ দফা দাবির মধ্যে প্রথমেই ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। তথ্যগত ভুল বা অসংগতির কারণে কেউ বাদ পড়লে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থন এবং প্রশাসনিকভাবে আপিলের সুযোগ দেওয়ার দাবিও রয়েছে।

প্রশাসনিক ভুল, ভুল তথ্য কিংবা কোনো কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে কোনো যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধন করে তার নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও যাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তাদের বিষয়ে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং কী কারণে এতসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়েছেন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ও দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা চেয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে যোগ্য প্রার্থীদের প্রাপ্য নিয়োগপত্র দিতে হবে। একই সঙ্গে তাদের আবার রাজপথে আন্দোলনে নামার পরিস্থিতি তৈরি না করে আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এমএইচ/এএস