Dhaka Mail Logo

শিক্ষা / সারাদেশ

দোকানদারের হাতে ইবি শিক্ষার্থী মারধরের অভিযোগ, মুচলেকায় সমাধান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সিগারেটের দাম পরিশোধকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে দোকানদার মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পকেট গেটের পাশে ‘ইবি মার্ট’ দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত দোকানি ইলিয়াস হোসেন ক্যাম্পাসসংলগ্ন খান স্টোরের মালিক।

ঘটনার পর সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রক্টরিয়াল বডি বিচারের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উভয় পক্ষের প্রতিনিধি ও প্রক্টরিয়াল বডির বৈঠকে বিষয়টির সমাধান হয়।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে শেখপাড়া বাজারে যাওয়ার পথে জাহিদ ইলিয়াসের দোকান থেকে ১০ টাকার একটি সিগারেট কেনেন। নগদ টাকা না থাকায় তিনি অনলাইনে মূল্য পরিশোধের কথা জানান। তবে ইলিয়াস জানান, তার বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্ট নেই।

পরে জাহিদ পাশের ‘ইবি মার্ট’ থেকে টাকা ধার নিয়ে মূল্য পরিশোধ করতে যান। জাহিদের দাবি, দোকানদারের সম্মতি নিয়েই তিনি সেখানে যান। তবে দোকানদারের অভিযোগ, তাকে না জানিয়েই জাহিদ মূল্য পরিশোধ না করে চলে যাচ্ছিলেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জাহিদ পাশের দোকান থেকে ১০ টাকা নিয়ে ইলিয়াসকে দিতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইলিয়াস জাহিদের কলার ধরে মারধর করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

জাহিদ বলেন, ‘আমি ওই দোকান থেকে একটি ক্যামেল সিগারেট নিই। আমার কাছে নগদ টাকা ছিল না। তাই তাকে জিজ্ঞেস করি, নগদ অথবা বিকাশে মূল্য পরিশোধ করতে পারব কি না। তিনি জানান, তার বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্ট নেই। তখন আমি বলি, আমার বিকাশে টাকা আছে, আমি টাকা ক্যাশ আউট করে এনে পরিশোধ করছি। এরপর ইবি মার্টে গেলে তিনি আমার কলার ধরে মারধর করেন। মারতে মারতে আমাকে নিচে ফেলে দেন। এতে আমি আহত হই। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

ঘটনার পর বিষয়টি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জানানোর কথা উল্লেখ করে জাহিদ বলেন, ‘আশীর্বাদ ও পিয়াস ভাইকে বিষয়টি জানাই। পরে তারা সাব্বির ও ফাহিমকে সঙ্গে নিয়ে ওই দোকানির কাছে যান। তবে ক্যাম্পাসের জিয়া মোড় ও শাহ আজিজুর রহমান হলের পকেট গেটে শিক্ষার্থীরা কখন বা কার কথায় জড়ো হয়েছেন, তা আমি জানি না।’

আরও পড়ুন

উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে ৩ দিন ধরে অচল চুয়েট

অভিযুক্ত দোকানি ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘ওই ছেলেটি ১০ টাকার সিগারেট নিয়ে সেবন করার পর বলে বিকাশে টাকা দেবে। আমার বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট নেই। পরে পাশের দোকানে কর্মরত এক রংমিস্ত্রি তার বিকাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের পরামর্শ দেন। কিন্তু ছেলেটি তার নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা আছে বলে জানায়। পরে চলে যেতে দেখে তাকে দাঁড়াতে বলি, কিন্তু সে দৌড় দেয়। পরে তার পিছু নিয়ে এক দোকানে গিয়ে তাকে ধরি। আমি প্রথমে তাকে মেরেছি। তবে সেও পরে আমাকে মেরেছে।’

মুচলেকায় সমাধান

ঘটনার বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শাহ আজিজুর রহমান হলের পকেট গেটে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকানির উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে বৈঠকের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী জাহিদ, তার বিভাগের সভাপতি ও শিক্ষক, আট শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, অভিযুক্ত দোকানি, বাজার কমিটির প্রতিনিধি এবং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত দোকানিকে ভুক্তভোগীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যক্তির সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা হেনস্তা না করার বিষয়ে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বাজার কমিটির সভাপতির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, উভয় পক্ষের সর্বসম্মতিক্রমে অভিযুক্ত দোকানি নিজের দোষ স্বীকার করে ভুক্তভোগীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। বাজার কমিটির প্রতিনিধিও এ ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত দোকানি ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যক্তির সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা হেনস্তা করবেন না বলে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন। এ ঘটনায় তৃতীয় কোনো পক্ষের ইন্ধন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস