নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করতে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ ও শিক্ষানবিশ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্প খাতের চাহিদা ও পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন এবং কার্যকর ক্যারিয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ইউজিসি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন: বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নীতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান শীর্ষক সেমিনারে মূল বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মামুন বলেন, শিল্প খাতের চাহিদা ও পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, পাঠ্যক্রম ও গবেষণার সমন্বয় প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ ও শিক্ষানবিশ কার্যক্রম চালু এবং শিল্পের চাহিদার ভিত্তিতে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কার্যকর ক্যারিয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, অতিথি শিক্ষক, পরামর্শক ও প্রকল্প তদারকির কাজে যুক্ত করার কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ইউজিসি সদস্য বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
অধ্যাপক মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শিল্প খাতের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নতুন প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবা উদ্ভাবনের পাশাপাশি সেগুলোর বাণিজ্যিকীকরণের সুযোগ তৈরি হবে। যৌথ গবেষণা, শিল্পের অর্থায়নে গবেষণা, যৌথ গবেষণাগার এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্ভাবনকে আরও প্রয়োগমুখী করা সম্ভব।
তিনি বলেন, গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে নমুনা পণ্য, নমুনা পণ্য থেকে বাণিজ্যিকীকরণ এবং বাণিজ্যিকীকরণ থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।
শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন অধ্যাপক মামুন। তিনি বলেন, শুধু আমি কোথায় চাকরি পাব—এই চিন্তায় সীমাবদ্ধ না থেকে আমি কোন সমস্যার সমাধান করতে পারি, কী পণ্য বা সেবা তৈরি করতে পারি এবং কীভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারি—সেই চিন্তায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে হবে।
ক্যাম্পাস থেকেই উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং সায়েন্স পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
অধ্যাপক মামুন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীল শিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংযোগ বাড়াতে হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্টার্টআপ তহবিলের জন্য ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় দেশে ও বিদেশে থাকা বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের একটি প্ল্যাটফর্মে এনে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ইউজিসি সদস্য। তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়; জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সমাজ ও অর্থনীতির বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানোও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অধ্যাপক মামুন জানান, একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা জোরদারে ইউজিসি ও সরকার যৌথ গবেষণা, গবেষণায় অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এ ধরনের সহযোগিতায় ইউজিসির অর্থায়নের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ ও সৃজনশীল শিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ সহযোগিতা জোরদারে আগামী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন ডে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।
এমএইচ/এআর